রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০, ০৭:২০ অপরাহ্ন

ভূমিকম্পে ঢাকার ৬০ শতাংশ স্থাপনা ধসে পড়তে পারে

 

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

ঢাকার ৬০ শতাংশ ভূমির গঠন প্রকৃতি এমন যে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল— সব কিছু ধসে যেতে পারে। এমনটিই শঙ্কা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. আফতাব আলম খান।

তিনি বলেন, ঢাকার বেশির ভাগ অংশ গড়ে উঠেছে এমন জমিতে, যেখানে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি অনেক বেশি। লিকুইফেকশন হচ্ছে— এমন একটি বিষয়, যখন মাটি তরল পদার্থের মতো আচরণ শুরু করে; আর তখন মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলে সেটিতে ঢেউ খেলতে শুরু করবে।

অধ্যাপক বলেন, ভূমিকম্পের পর লিকুইফেকশন বা মাটির তরলীকরণে ধ্বংস ক্ষমতা সবচেয়ে ব্যাপক। বাংলাদেশের যে ভূ-কাঠামো, তাতে এ রকম ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অনেক। তবে ভূমিকম্প হলেই যে লিকুইফেকশন হবে, ব্যাপারটি তা নয়। কয়েকটি ব্যাপার একসঙ্গে ঘটতে হবে। এটি নির্ভর করবে ভূমিকম্পটি কতটা শক্তিশালী, মাটির কতটা গভীরে এটি ঘটছে এবং সেখানে যে পানির স্তর আছে, সেটিতে কতটা পানি আছে।

অধ্যাপকের মতে, যদি ভূমিকম্প ছয় মাত্রার কাছাকাছি বা তার চেয়ে শক্তিশালী হয় এবং এর উৎপত্তিস্থল যদি ১০-১৫ কিলোমিটার গভীরতার মধ্যে হয়, তাহলে লিকুইফেকশনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ঢাকা শহরের অন্তত ৬০ ভাগ এলাকা এ রকম লিকুইফেকশন অঞ্চলে পড়েছে, যেখানে এ রকম বিপদ ঘটার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি এ ঝুঁকির ভিত্তিতে ঢাকাকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হচ্ছে- নারায়ণগঞ্জ, ডেমরা, পুরান ঢাকা-মতিঝিল থেকে শ্যামলী পর্যন্ত এলাকা।

আফতাব আলম খানের মতে, পুরো বাংলাদেশের বেশির ভাগটাই যেহেতু গড়ে উঠেছে নদীবিধৌত পলিমাটিতে, তাই এ রকম লিকুইফেকশনের ঝুঁকি কমবেশি অনেক জায়গাতেই আছে। কেবল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া রাজশাহীর মতো কয়েকটি জেলায় অগভীর মাটিতে শক্ত শিলা বা ‘সলিড ক্রাস্ট’ আছে। যেখানে এর ঝুঁকি নেই।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com