মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

ডাঃ দীপু মনি শুধু চাঁদপুরের গর্ব নয়- সারা বাংলাদেশের গর্ব

খবরের আলো :

 

 

মো: জসীম উদ্দীন চৌধুরী:ডাঃ দীপু মনি ১৯৬৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬৫ খ্রীস্টাব্দে চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন।তার বাবা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের প্রথম কাউন্সিলে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এমএ ওয়াদুদের কন্যা। তার মা ছিলেন শিক্ষিকা, রত্মাগর্ভা রহিমা ওয়াদুদ। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট তৌফীক নাওয়াজ দীপু মনির স্বামী। তিনি আন্তর্জাতিক একটি ল’ফার্মের প্রধান। তিনি উপমহাদেশের দু’হাজার বছরের ঐতিহ্যমন্ডিত ধ্রæপদী সঙ্গীতের উৎস হিসেবে পরিচিত ১আলাপ’ এর একজন শিল্পী। তাঁদের রয়েছে দু সন্তান। পুত্র তওকীর রাশাদ নাওয়াজ ও কন্যা তানি দীপাভলী
ডা দীপ মনি হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি এলএলবি পড়েন। এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব পাবলিক হেল্থ থেকে এমপিএইচ ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়া তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমঝোতা ও দ্বন্দ নিরসনের ওপর একটি কোর্স সম্পন্ন করেন।বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের একজন আইনজীবীও।
ডা দীপু মনি একজন বাংলাদেশী নারী রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়লাভের পর বাংলাদেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ডাঃ দীপু মনি নিয়োগ পান। এরপর তিনি ২০১৪ সালে গঠিত দশম সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের
২০তম কাউন্সিলে তিনি পুনরায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমান একাদশ সংসদে ডাঃ দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান।

ডাঃ দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসনের পর পর তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেশী দেশসমূহের সাথে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি কমনওয়েলথ মিনিস্ট্রিয়াল অ্যাকশন গ্রæপ এর প্রথম নারী এবং দক্ষিণ এশীয় চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমুদ্র জয় করে চমক সৃষ্টি করেন। এতে করে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে প্রায় চার দশকের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চ‚ড়াান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়। মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেন ডাঃ দীপু মনি এমপি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ জন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে পূর্ণ শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ২০জন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকারের ছয়জন উপদেষ্টাও ছিলেন এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। বাকিরা প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে প্রথম নারী শিক্ষামন্ত্রী হলেন ডা দীপু মনি।
ডাঃ দীপু মনি, সাবেক সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমান চাঁদপুর ৩ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক।

চাঁদপুরের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সংগঠন এবং আপামর জনগনের কাছে তিনি দীপু আপা নামেই পরিচিত। দীপু আপার সান্নিধ্য যারা পেয়েছে সত্যিই তারা অনেক সৌভাগ্যবান। আমিও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি, এমন একজন মমতাময়ী, আদর্শবান, সৎ, নিরহংকারী মায়ের মতো অভিভাবক পেয়ে।
আপার দেশের বিভিন্ন জরুরী কাজে প্রায়ই দেশের বাহিরে যেতে হয়। আবার সরকারী কর্মসূচী, দলীয় বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, বিভিন্ন অঞ্চলের সম্মেলন ইত্যাদি কাজে আপা অনেকটা সময়ই ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু এতো ব্যস্ততার মাঝেও চাঁদপুরে জনগণের টানে, চাঁদপুরের মানুষের ভালোবাসায় ওনার চাঁদপুরে আসা চাই। চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সেবামূলক সংগঠন,স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা কারো দাওয়াতই তিনি উপেক্ষা করতে পারেন না। মা যেমন পরিবারের সকল সন্তানকে হাসিখুশি রাখতে চান, তেমনি চাঁদপুরের কাউকেই তিনি নিরাশ করতে চান না। একটা সুস্থ মানুষের নুন্যতম ছয় ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু এই মানুষটা, সারাদিন সরকারি কাজ, দলীয়কাজ শেষ করে রাতে যখন বাসায় যায় একটু বিশ্রামের জন্য, পরিবারকে একটু খানি সময় দেওয়ার জন্য ঠিক তখনি তাকে ভাবতে হয় চাঁদপুরের জনগণকে নিয়ে।
ফজর নামাজ আদায় করে ভোর পাঁচটায় রওয়ানা হন চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে, বেশীরভাগ চলাফেরা করেন লঞ্চে, সাধারণ মানুষের সুখ দুঃখের কথা শুনতে শুনতে চলে আসেন চাঁদপুরে। সারাদিন চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুড়ে বেড়ান, মানুষের সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায় সেটা নিয়ে, বিভিন্ন সংগঠন, স্কুল, কলেজের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন, রাতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। এভাবেই চলে দীপু আপার সময়গুলো।
যদিও আমি আপার সকল কিছু এখানে তুলে ধরতে পারবো না কিন্তু আরো কিছু তথ্য জানলে সত্যিই অবাক হবেন, যিনি সরকারের এতো গুরু দায়িত্ব ও দলের দায়িত্ব প্রাপ্ত একজন নেতা হয়ে, পরিবার, তার নির্বাচনী এলাকায় জনগণ এতো কিছুতে সময় দিয়ে আবার লেখালেখিতেও সময় ব্যয় করেন, তিনি না লিখলে আমরা হয়তো বা জানতামই না দীপু আপার গর্বিত পিতা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এম ওয়াদুদ সাহেবের মত একজন বীর সেনানীর কথা। আসলে বঙ্গবন্ধু ওনাদের মতো কিছু সৎ, সাহসী, বিশ্বস্ত লোকদের পেয়েছেন বলেই সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন।
আর আমরা পেয়েছি ডাঃ দীপু মনি আপা ও ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু ভাইয়ের মতো যোগ্য উত্তরসƒরী।
দীপু আপা শুধুমাত্র লেখালেখির মধ্যেই না উনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। তিনি তার ছাত্রলীগের ভাইদের সাফল্যে খুশি হোন, সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের তুলে ধরেন, যাতে অন্যরা অনুপ্রাণিত হয়, আবার মোটর বাইকে তিনজন উঠলে, হেলমেট না থাকলে তাদের সতর্ক করে কমেন্ট করেন, তিনি আদর করেন আবার শাসন করেন। তিনি দেশের বাহিরে গেলেও, নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন সকল বিষয়ে, দেশে আসার সময় নেতা কর্মীদের জন্য নিয়ে আসেন বিভিন্ন রকমের চকলেট।
নেতা কর্মীদের মৃত্যুর কথা শুনলে ছুটে আসেন তাদের পরিবারের কাছে, শান্তনা ছাড়া আর কিইবা দেওয়ার থাকে তখন, পিতা হারা সন্তান, স্বামী হারা স্ত্রীদের বুকে জড়িয়ে নেন, সেই সময় আপার অশ্রæশিক্ত নয়ন অনেকবার দেখেছি।

আমার জানা নেই কোন সংসদ সদস্যের বাসায়, তার কোন নেতা কর্মীর নামে সাধারণ কোন লোক অভিযোগ নিয়ে আসতে পারে কিনা, হোক সেটা সত্য বা মিথ্যা। কিন্তু আপার কাছে অনেকেই চলে আসতে পারে, আর আপাও সেটা মনযোগ দিয়ে শোনেন, তারপর দোষ গুন বিচার করেন। নিজের দলের নেতা বলে কখনই অন্যায়কে সমর্থন করেন না আপা।

দীপু আপাকে দেখেছি, অসুস্থ রোগীকে দেখতে সরকারি হাসপাতালে ছুটে যেতে, হাসপাতালের পরিবেশ ও মান নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে। দেখেছি দীপু আপার প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা স্বরূপ চাঁদপুর বাসীকে মেডিকেল কলেজ উপহার দিতে।
আপাকে নিয়ে বললে এমন অনেক গুনের কথা বলা যায়, যা বলে শেষ করা যাবে না।

সত্যিই আমরা আপাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আমরা একজন দীপু মনি পেয়েছি।তাইতো বলা যায়, ডাঃ দীপু মনি শুধু চাঁদপুরের গর্ব নয়- সারা বাংলাদেশের গর্ব।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com