মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন

যৌনদাসী থেকে নোবেল জয়ী

যুদ্ধে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠন নাদিয়াস ইনিশিয়েটিভের প্রধান নাদিয়া মুরাদ

খবরের আলো ডেস্ক :
নাদিয়া মুরাদ তখন ২১ বছরের তরুণী। সালটা ২০১৪। ইরাকের পাহাড়ি অঞ্চল সিনজারে নাদিয়াদের ইয়াজিদি গ্রামে আকস্মিক হামলা চালায় আইএস জঙ্গিরা। চলে নির্বিচার গণহত্যা। গ্রামের প্রায় সব পুরুষ ও বয়স্ক নারীদের হত্যা করা হয়। যাদের মধ্যে নাদিয়ার ছয় ভাই এবং তার মাও ছিলেন।
জঙ্গিরা গ্রামের অন্য ইয়াজিদি নারীদের সঙ্গে নাদিয়াকেও ধরে নিয়ে যায় এবং যৌনদাসী হিসেবে বন্টন করে দেয়।নানা হাত ঘুরে একসময় মসুল পৌঁছে যান নাদিয়া। এই সময়ে তাকে আইএস জঙ্গিরা অসংখ্যবার ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করে।
এক পর্যায়ে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন নাদিয়া, ফল ধরা পড়া। বাড়ে নির্যাতনের মাত্রা।
কিছুদিন পর তাকে তাকে আবারও বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল। একদিন সুযোগ বুঝে আইএস বন্দিদশা থেকে পালিয়ে এক সুন্নি মুসলিম পরিবারে আশ্রয় নেন নাদিয়া। ওই পরিবার তাকে মসুল থেকে পালিয়ে আসতে সব রকম সহায়তা করে।নাসির নামে এক সুন্নি মুসলমান নাদিয়াকে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আইএসের কড়া নিয়ন্ত্রণে থাকা মসুল সীমান্ত পার করে দেন।
জীবনের এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীকে জানাতে ‘দ্য লাস্ট গার্ল’ নামে একটি বই লেখেন নাদিয়া, যা ২০১৭ সালে প্রকাশ পায়।
ওই বইতে তিনি লেখেন, “কখনও কখনও ধর্ষিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই সেখানে ঘটত না। একসময় এটা প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে যায়।”
২০১৫ সালে শরণার্থী প্রকল্পের আওতায় জার্মানি পাড়ি জমান নাদিয়া। বর্তমানে সেখানেই তিনি বসবাস করছেন তিনি।একই বছর ডিসেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আইএসের হাতে নিপীড়নের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন নাদিয়া।
সেখান থেকে শুরু হয় নতুন জীবন। ইয়াজিদি জনগোষ্ঠীর অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ শুরু করেন নাদিয়া। তিনি মানবাধিকার এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ধর্ষণের ব্যবহারের বিরুদ্ধেও কাজ শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি ‘নাদিয়াস ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
কথিত ‘আইএস খেলাফত’ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ইয়াজিদিকে হত্যা করে। ধরে নিয়ে যায় আরও অন্তত তিন হাজার ইয়াজিদি নারীকে, যাদের মধ্যে আট বছরের শিশুও ছিল।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com