শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে অবৈধ ৩টি ইটভাটায়  ভ্রাম্যমান আদালতে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন ১৪ জানুয়ারি বেলকুচিতে আলোচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আটক স্পেনে তীব্র তুষারপাতে জনজীবন অচল: যান চলাচল বন্ধ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলী মল্লিকা গ্রেফতার দোহারে অবৈধ ড্রেজার পাইপ ভেঙ্গে দিল প্রশাসন  সালমান এফ রহমানের দোহার – নবাবগঞ্জে উন্মুক্ত হলো ওয়াজ মাহফিল বদলগাছীর কোলা ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন চেয়ারম্যান স্বপন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন রাজধানীর মিরপুরে নতুন বছর উদযাপনের বিশেষ আয়োজন

বাংলাদেশ ক্রিকেট কোচিংয়ের অগ্রদূত, আলতাফ হোসেন আর নেই

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

সাবেক ক্রিকেটার, জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আলতাফ হোসেন আর নেই।

মঙ্গলবার রাতে শরীর খারাপ হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

বুধবার বাদ যোহর মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা হবে নাজিম উদ্দিন রোডের হোসনি দালান মসজিদে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা বিকেল সাড়ে তিনটায়।

যাদের হাত ধরে গড়ে উঠেছে স্বাধীন বাংলাদেশের মাঠের ক্রিকেট, তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ভারতের পাতিয়ালায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস থেকে কোচিং কোর্স করে আসা বাংলাদেশের প্রথম কোচ তিনি। পরে কোচিং কোর্স করে এসেছেন ইংল্যান্ড থেকেও।

১৯৩৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে তার জন্ম। দেশভাগের পর পুরো পরিবার চলে আসে এই বাংলায়।

১৯৫৪ সালে কায়েদে আজম ক্লাবের হয়ে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। এরপর খেলেছেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স, পিডব্লিউডি, ইস্ট পাকিস্তান জিমখানা ও শান্তিনগর ক্লাবে।

খেলোয়াড়ি জীবনে আলতাফ হোসেন ছিলেন পেসার, তবে ব্যাটিংয়ের হাতও মন্দ ছিল না।

ক্রিকেটের পাশাপাশি একসময় ফুটবল খেলেছেন ঢাকার তৃতীয় বিভাগে, দাপটের সাথে খেলেছেন বাস্কেটবলও। তবে শেষ পর্যন্ত থিতু হন ক্রিকেটেই।

১৯৬৫ সালের মার্চে আসে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মাহেন্দ্রক্ষণ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ডাক পান পাকিস্তান টেস্ট দলে। জায়গা পান নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। যদিও খেলার সুযোগ পাননি, বাইরেই বসিয়ে রাখা হয়েছিল।

১৯৬১ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন তিনি। টুকটাক ক্রিকেট খেলে গেছেন ১৯৮২ সাল পর্যন্ত। খেলেয়াড়ি জীবনেই ১৯৭০ সালে শুরু করেন আম্পায়ারিং। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার হয়ে পরিচালনা করেছেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিযুক্ত হন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ। পরে কোচ হিসেবে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, তার খেলোয়াড়ী জীবনও অনেকটা আড়াল হয়ে গেছে কোচ হিসেবে সাফল্যে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৭৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। আশির দশকে অনেকবারই বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯০ এশিয়া কাপেও ছিলেন বাংলাদেশ দলের ডেপুটি ম্যানেজার কাম কোচ। ‘এ’ দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলির দায়িত্বে ছিলেন অনেকবার।

বাংলাদেশে মহিলা ক্রিকেট চালুর অন্যতম অগ্রদূতও আলতাফ হোসেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা আবাহনী দল নিয়ে গেছেন কলকাতায়। ১৯৯৭ সালে তাকেই মহিলা দল গড়ে তোলার দায়িত্ব দেয় বিসিবি। ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে থেকে চেষ্টা করেছেন মহিলা ক্রিকেটের ভিত শক্ত করার।

১৯৯৯ সালে পেয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। দেশের ক্রীড়ার সর্বোচ্চ এই স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম ক্রিকেট কোচ ছিলেন তিনিই।

তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com