সোমবার, ১০ মে ২০২১, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

পিআিইবি মহাপরিচালক শাহ আলমগীর আর নেই, সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক

খবরের আলো :

 

 

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ : বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক মো: শাহ আলমগীর  বৃহস্পতিবার সকাল ১০:০০ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল  (সিএমএইচে) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রাজিউন..)। মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী, পুত্র, কন্যা সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে তাঁর মৃত্যুতে সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরাম (রেজিঃ নং ৫৮৩/০৪) এর নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম (দৈনিক প্রবাহ), সাধারন সম্পাদক শেখ আমিনুর হোসেন (দৈনিক তৃতীয় মাত্রা ও দৈনিক পত্রদূত), সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন আব্বাস (সাপ্তাহিক দখিনার দূত), সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্বা কাজী নাছির উদ্দীন (দৈনিক আমার সংবাদ), যুগ্ন-সম্পাদক শেখ বেলাল হোসেন (দৈনিক গণজাগরণ ও দৈনিক পত্রদূত), সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া (দৈনিক বঙ্গজননী), অর্থ সম্পাদক মোতাহার নেওয়াজ মিনাল (দৈনিক কাফেলা), ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম আক্কাজ (দৈনিক আজকের সাতক্ষীরা), কার্য্য নির্বাহী সদস্য মোঃ আবুল কালাম (সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন), আনিছুর রহমান তাজু (দৈনিক যুগের বার্তা), আরীফ মাহমুদ (দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক পত্রদূত), মোঃ আব্দুল মতিন (দৈনিক যায়যায়দিন, দৈনিক দেশ সংযোগ) মোঃ হেলাল উদ্দীন (ক্রাইম প্রতিদিন, সিপি টি ভি), কাজী ফখরুল ইসলাম রিপন (দৈনিক সোনালীবার্তা) ও এ এইচ এম তুমু (দৈনিক তৃতীয় মাত্রা) প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, তাঁকে গত ২১ ফেরুয়ারি রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
শাহ আলমগীরের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া, ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা ভুগছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
শাহ আলমগীর ২০১৩ সালের ৭ জুলাই পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সরকার ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তাঁর চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ায়।
উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর পত্রিকা সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। এখানে তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদ-এ। প্রথম আলো প্রকাশের সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাস থেকে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত যুগ্ম বার্তা-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনে হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শাহ আলমগীর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, ‘চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক ২০০৫’ ‘রোটারি ঢাকা সাউথ ভকেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০০৪’ এবং ‘কুমিল্লা যুব সমিতি অ্যাওয়ার্ড ২০০৪’ পেয়েছেন।
শাহ আলমগীরের পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হলেও বাবার চাকরি সূত্রে বৃহত্তরে ময়মনসিংহে জীবনের বড় একটি সময় কাটে তাঁর। ময়মনসিংহের গৌরীপুর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন।
পারিবারিক জীবনে শাহ আলমগীর এক পুত্র ও কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী ফৌজিয়া বেগম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। ছেলে আশিকুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ পাস করে কাজ করছেন এইচএসবিসি ব্যাংকে। মেয়ে অর্চি অনন্যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিতে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com