সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০১:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে অবৈধ ৩টি ইটভাটায়  ভ্রাম্যমান আদালতে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন ১৪ জানুয়ারি বেলকুচিতে আলোচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আটক স্পেনে তীব্র তুষারপাতে জনজীবন অচল: যান চলাচল বন্ধ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলী মল্লিকা গ্রেফতার দোহারে অবৈধ ড্রেজার পাইপ ভেঙ্গে দিল প্রশাসন  সালমান এফ রহমানের দোহার – নবাবগঞ্জে উন্মুক্ত হলো ওয়াজ মাহফিল বদলগাছীর কোলা ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন চেয়ারম্যান স্বপন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন রাজধানীর মিরপুরে নতুন বছর উদযাপনের বিশেষ আয়োজন

আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, বেরোবিতে আবারো শিক্ষক নিয়োগ!

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে নিয়োগ বঞ্চিত মাহামুদুল হককে হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে গত বছর ১২ এপ্রিল নির্দেশ দেয় অ্যাপিলেট ডিভিশন। সেই নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একের পর এক নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে ওই বিভাগে।

কিন্তু ৭ বছর আগে অপেক্ষামাণ তালিকায় ১ম স্থান (পরে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় যেহেতু প্রথমজন যোগদান করেননি) অধিকারী মাহামুদুলকে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না।

সিনিয়র একজন শিক্ষক জানান, বাছাই বোর্ডের সুপারিশপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে বাঁচাতে গিয়ে বারবার আদালত অমান্য করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। যদিও কোর্টের কাগজপত্রে দেখা যায় মাহামুদুল হক তার রিট পিটিশনে কারো নিয়োগ অবৈধ ঘোষাণা চাননি শুধু তার নিয়োগ চেয়েছেন।

জানা যায়, ওই জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় তৎকালীন উপাচার্য আব্দুল জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা চলছে।

বাছাই বোর্ড এবং ২১তম ও ২২ তম সিন্ডিকেট- এর কাগজপত্র থেকে জানা যায়, মাহামুদুল হককে ছাড়া মেধা তালিকা ও অপেক্ষামান তালিকার সকলকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সাংবাদিকতা বিভাগে।

বাছাই বোর্ডের সুপারিশ এবং ২১তম ও ২২তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ না পেয়ে মাহামুদুল হাইকোর্টে রিট করেন ২০১৩ সালে। মাহামুদুলকে নিয়োগ না দিয়ে ওই বিভাগে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে গেলে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ওই নিয়োগ পরীক্ষার ওপর স্থাগিতাদেশ দেয় এবং মাহামুদুলের জন্য একটি স্থায়ী পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়। এরপর আবারও ২০১৭ সালে ওই বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। হাইকোর্ট আবারও তা বন্ধ করে দেয়। গত ১২ এপ্রিল ২০১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীর উপস্থিতিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের করা লিভ-টু-আপিলও (আপিলের অনুমতি- নং ৭৫/২০১৮) খারিজ করে দেয় অ্যাপিলেট ডিভিশন ।

হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ১৫ দিনের মধ্যে তাকে নিয়োগ দিতে বলেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে অ্যাপিলেট ডিভিশন। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রায়ে মাহামুদুলকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়।

ওই সময়ের মধ্যে তাকে নিয়োগ না দিলে আদালত অবমাননার রুল জারি হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। কেন আদালত অবমাননা হবে না; এ মর্মে তাদেরকে জবাব দিতে বলা হয় তিন মাসের মধ্যে। এরপর একমাস ও এক সপ্তাহ করে সময় দেয় আদালত জবাব দেয়ার জন্য কিন্তু এখনো আদালতকে তোয়াক্কা করেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রার।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই পদে নিয়োগ না দিয়ে বারবার নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে যা স্পষ্টত আদালত অবমামনা বলে জানান সংশ্লিষ্ট মহল। আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে ইতোমধ্যেই দুই ধাপে তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে ওই বিভাগে। গত মাসের ১৯ তারিখ পুনরায় ওই বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে মাহমুদুল হকের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রায় জানা সত্ত্বেও মাহমুদুল হককে নিয়োগ না দিয়ে বারবার আদালত অমান্য করে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে কিন্তু মাহামুদুলকে নিয়োগ দিচ্ছে না। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, রংপুর ২০০৯ এর উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আইনই ভঙ্গ করেছে বাছাই বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে ওইসব পদে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।’

যোগাযোগ করা হলে মাহামুদুল হক বলেন, ‌‘রায়ের কপি বর্তমান উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পাঠিয়েছি। ২০১২ সালে জালিয়াতি করে আমাকে নিয়োগ দেয়নি তৎকালীন উপাচার্য। সেই অপকর্ম অবশ্যই বর্তমান উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার নিজের কাঁধে নিবেন না বলে আমি আশা করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অথরিটি তাবিউর রহমান বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবেন।’

জানতে চাইলে তাবিউর রহমান বলেন, ‘আদালত যখন নির্দেশ দিয়েছে তখন তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে মানতেই হবে। কিন্তু চাইলেই তো আর তাৎক্ষনিকভাবে রায় কার্যকর করা যায় না। যথাযথ প্রক্রিয়া মেইনটেইন করে আদালতের রায় বাস্তবায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com