শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু নিপাহ ভাইরাসে

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনের মুত্যু হয়েছে নিপাহ ভাইরাসে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার দুপুরে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিত পাঠ করে শোনান ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল কবির। এ সময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট এন্ড ইলেকট্রনিকে প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইইডিসিআর, আইসিডিডিআর,বি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত ডিজিজ সার্ভেল্যান্সে ২৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

রোগের কারণ অনুসন্ধানে আইইডিসিআর ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে পাঁচ সদস্যের একটি টিম পাঠান। পরবর্তীতে আরো চার সদস্যের আরেকটি টিম তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তদন্তের কাজ করেন টিম দুটি।

হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও মৃত ব্যক্তিদের পরিবার, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীদের কাছ থেকে তথ্য উপাত্ত ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ করেন টিমের সদস্যরা।

রোগের কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, মৃত ব্যক্তিদের সবার জ্বর, মাথা ব্যথা, বমি ও মস্তিষ্কে ইনফেকশনের (এনসেফালাইটিস) উপসর্গ ছিল। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় এবং ওই নমুনায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

বিভিন্ন সময়ে মৃত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি এবং তাদের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা আইইডিসিআর পর্যবেক্ষণে রেখেছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাদুড়ের খাওয়া খেজুরের রসের মাধ্যমে ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস ছড়াতে পারে। আইইডিসিআরের তদন্ত দল প্রথম মৃত ব্যক্তির খেজুরের কাঁচারস পানের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পেলেও পরে আরো যে চারজন মারা যান তারা প্রথম মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছে।

সেজন্য আইইডিসিআর সবাইকে খেজুরের কাঁচারস পানে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের নিপাহ সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা (মাস্ক ও গ্লাভস) নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবাদানের পরামর্শ দিয়েছে। তাদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর হাত সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এ রকম রোগের ক্ষেত্রে রোগীদের সম্পূর্ণ আলাদা স্থানে রেখে সেবা দিতে হবে।

রোগীর মৃত্যু হলে তার দাফন-কাফন নির্দেশিত নিয়ম মেনে করতে হবে। যাতে মৃত রোগীর লালা/রক্ত/মলমূত্রের সরাসরি সংস্পর্শে অন্য কেউ না আসে। মাস্ক ও গ্লাভস পরে নির্দেশিত ব্যবস্থা নিয়ে মরদেহ গোসল করাতে হবে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় নয়াবাড়ী মরিচপাড়া গ্রামে ৯ ফেব্রুয়ারি তাহের আলী মারা যান। এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি তাহের আলীর মেয়ের জামাই হাবিবুর রহমান, ২১ ফেব্রুয়ারি তাহেরের স্ত্রী হোসনে আরা, ২৪ ফেব্রুয়ারি তার বড় ছেলে ইউসুফ আলী মারা যান। পরে ছোট ছেলে মেহেদী মারা যান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com