বুধবার, ০৬ জুলাই ২০২২, ১০:০৬ অপরাহ্ন

দূর্যোগ প্রস্তুতির সুফল পাচ্ছেনা উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ

খবরের আলো :

 

 

মস্তফা কবির, আমতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি : জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে সুফল পাচ্ছেনা আমতলী তালতলীসহ উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ।

দুর্যোগের প্রস্তুতির কৌশলসমূহ জানেনা উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ। ফলে দূর্যোগ রক্ষার সুফল পাচ্ছে না উপকূলবাসী। উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ সমুদ্র ও সমুদ্র নিকটকর্তী স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। এ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী জানেনা দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস, সুনামী, ভূমিকম্প, বজ্রপাত, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ¡াস কি? প্রতিবছর সরকার দূর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করে তোলে। কিন্তু যাদের সচেতন করা প্রয়োজন তাদের কাছে পৌঁছেনি সচেতনতার সতর্কবাণী।

উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় অনাদিকাল সাইক্লোন, ঝড়, জলোচ্ছ¡াস, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে আমতলী ও তালতলীতে। এতে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর আমতলী ও তালতলীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ¡াস ছিল প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড়। এ জলোচ্ছ¡াসে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্করি ঘূর্ণিঝড় সিডরে আমতলী ও তালতলীর ২৯৭ জন মানুষ প্রাণ হারায়। নিখোঁজ রয়েছে ৪৯ জন এবং আহত হয় ২৫০০ জন। ঐ সময় সবচেয়ে প্রাণহানি ঘটে তালতলীর বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী নিদ্রাসখিনা, আশারচর, জয়ালভাঙা ও ফকির হাট এলাকায়। এর একমাত্র কারণ অসচেতনতা। যারা সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের প্রাণহানি ঘটেনি। বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সাগরে অবস্থানরত জেলেদের । জেলেদের অসচেতনতার জন্য এত প্রাণহানি।

আমতলী ও তালতলী উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। উপকূলের মানুষরা সচেতনতার দিক দিয়ে নিম্নমানের। এদের মধ্যে রয়েছে বেশির ভাগ প্রান্তিক জেলে।

আমতলীতে নিবন্ধিত জেলে ৮ হাজার ২শ ১০ ও তালতলীতে ১০ হাজার ৩শ ২১ জন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নিবন্ধনের বাইরে জেলে রয়েছে অর্ধলক্ষ। নিবন্ধনের বাইরে অধিকাংশ জেলে সাগর ও সাগর মোহনায় মাছ ধরে। এদের মধ্যে অনেকেই এখনো জানে না ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্প, বজ্রপাত, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ¡াস কি? সরকারের পক্ষ থেকে দূর্যোগ প্রস্তুতি সচেতনতা তৈরিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। যাদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তারা প্রশিক্ষণ পায় না এমনই অভিযোগ উপকূলবাসীর।

উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উঁচুকরণ, আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, দূর্যোগকালে সমুদ্রে জেলেদের সাথে যোগাযোগের উন্নত মাধ্যম ব্যবহার, কমিউনিটি রেডিও চালুকরণ, সচেতনতা অনুষ্ঠান জোরদারকরণ, আশ্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো, বন্যাপ্রবণ এলাকায় কিল্লা নির্মাণ, বন্যা প্রতিরোধে সবার করণীয় নির্ধারণ করে গাইডলাইন নির্মাণের ওপর গুরুত্বরোপের দাবি জানান সচেতন নাগরিক সমাজ।
ফকিরহাট গ্রামের জেলে জসিম ফরাজী বলেন, সাগর সংলগ্ন আশারচরে মৌসুম ভেদে জাল ফেলি। এ জীবনে বহুবার বন্যার কবলে পরেছি কিন্তু সুনামি কি তা জানি না। তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন কেউ কোনো দিন জেলেদের ঝড়, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ¡াস সম্পর্কে সচেতন করতে আসেনি। আশারচরের জেলে বাক্কু মিয়া বলেন, গত ১৫ বছর ধরে সাগরে হাজার হাজার জেলে বন্যার কবলে পরতে দেখেছি। অনেক জেলেকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করেছি। নিজে বন্যার কবলে পরেছি কিন্তু কেউ কোনো দিন সাইক্লোন, জলোচ্ছ¡াস, সুনামি, বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে সচেতন করতে আসেনি। তিনি আরো বলেন, আশারচরে প্রায় ৩০/৩৫ হাজার জেলে রয়েছে। এ সকল জেলেদের কেউ খোঁজখবর নেয়নি, সচেতন করাতো দূরের কথা। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান আশার চরের জেলেদের বন্যা, সুনামি, বজ্রপাত, সাইক্লোন, জলোচ্ছ¡াস ও ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিয়ে সচেতন করে তোলার।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপায়ন দাস শুভ বলেন, উপকূলের জনগোষ্ঠীকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু নজর কামনা করছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com