মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে অবৈধ ৩টি ইটভাটায়  ভ্রাম্যমান আদালতে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন ১৪ জানুয়ারি বেলকুচিতে আলোচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আটক স্পেনে তীব্র তুষারপাতে জনজীবন অচল: যান চলাচল বন্ধ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলী মল্লিকা গ্রেফতার দোহারে অবৈধ ড্রেজার পাইপ ভেঙ্গে দিল প্রশাসন  সালমান এফ রহমানের দোহার – নবাবগঞ্জে উন্মুক্ত হলো ওয়াজ মাহফিল বদলগাছীর কোলা ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন চেয়ারম্যান স্বপন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন রাজধানীর মিরপুরে নতুন বছর উদযাপনের বিশেষ আয়োজন

শিশুর আঙ্গুল কেটে দিয়ে বর্বরোচিত ঘটনা, যুবলীগ নেতা অদুদ আটক

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

সাত বছর বয়সী শিশুকে কাস্তে (ধান কাটার কাচি) দিয়ে আঙ্গুল কেঁটে দেয়ায় বর্বোরিচিত ঘটনায় সারাদেশে আলোচিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সেই যুবলীগ নেতা আবদুল অদুদকে অবশেষে আটক করেছে পুলিশ।

অদুদ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোলেমানপুর গ্রামের জমির আলীর ছেলে ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক আহবায়ক। বুধবার রাতে উপজেলার সুলেমানপুর বাজার থেকেই থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের মহালিয়া হাওরের ময়নাখালী বেড়িবাঁধে সুলেমানপুর গ্রামের হতদরিদ্র শাহানুর মিয়ার সাত বছরের শিশু পুত্র ইয়ামিনকে মাটিতে আছড়ে ফেলে কাস্তে (ধান কাটার কাঁচি) দিয়ে ডান হাতের তিনটি আঙুল কেঁটে দিয়েছিলে আবদুল অদুদ নামে ওই যুবলীগ নেতা।

নির্মাণাধীন হাওর রক্ষা বাঁধে গড়াগড়ি দেয়ায় তাকে ওই শিশুটিকে শাস্তি দেন তিনি। হাওর রক্ষা বাঁধে অদুদ তৎকালীন সময়ে তাহিরপুরের ২৮ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি ছিলেন ।

মামলার সুত্রে জানা যায়, বর্বোরিচিত ঘটনার দিন বিকালে সহপাঠীদের নিয়ে বাঁধের ওপর খেলছিল সুলেমানপুর গ্রামের শাহনুর মিয়ার ছেলে স্থানীয় মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র ইয়াহিন। বাঁধে গড়াগড়ি খেলে তা দেখে ফেলেন আবদুল অদুদ।

এরপর তাকে ধাওয়া করে ধরে মাটিতে কয়েকবার আছাড় মারেন। ইয়াহিন তার পা ধরে ক্ষমা চাইলেও মন গলেনি। এরপর কাঁচি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের তিনটি আঙল কেটে ফেলে দেন। স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।

কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও অবস্থার অবনতি ও আঙ্গুলে পচন ধরায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সর্বশেষ তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার দু’দিন ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ শিশু ইয়ামিনের পিতা শাহানুর মিয়া বাদী হয়ে ঘটনার মুল হোতা অদুদ মিয়া ও তার সহোদর আলম মিয়াকে আসামী করে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওই সময় ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত ঘটনাটি ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রাতেই দেশের বিভিন্ধসঢ়; জাতীয় দৈনিকের অনলাইন ভার্সন ও পরদিন প্রিন্টিং ভার্সন সহ একাধিক জাতীয়, স্থানীয়, আঞ্চলিক পত্রিকা এমনকি বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হলে সারাদেশে সমালোচনার পাশাপাশী অদুদের বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা নিতে উপজেলা, জেলা সদর সহ নানা জায়গায় মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করেন সংক্ষুদ্ধ নাগরিক সমাজের লোকজন।

শিশুর হাতের আঙ্গুল কেটে সারাদেশে পরিচিতি পাওয়া যুবলীগ নেতা গত প্রায় এক বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। তিনি উচ্চ আদালত থেকে একাধিকবার জামিন নিতে গিয়েও ব্যর্থ হন।

বৃহস্পতিবার তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর বলেন, মামলা দায়েরের পর অদুদের ছোট ভাই আলম মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এরপর গত প্রায় এক বছর পলাতক থাকার পর বাড়ি ফিরে আসায় বুধবার রাতে সোলেমানপুর বাজার থেকে অদুদকে থানা পুলিশ আটক করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com