মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৬ অপরাহ্ন

তালা-কলারোয়ার সাবেক এমপির নামে চারটি হত্যাসহ দেড় ডজন মামলা

খবরের আলো :

 

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব‍্যুরো চীফ: ২০০৪ সালের ৪ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা পাঁচ রাস্তার মোড়ে তৎকালীন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলতাফ হোসেনকে বোমা মেরে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় তার সাথে মারা যান পথচারী কাঠমিস্ত্রি হাবিবুর রহমান মোড়ল। এ সংক্রান্ত দুটি মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী বিবুল ইসলাম হাবিব। ২০০৬ সালের ৯ জুলাই নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যা করা হয় জেলা মৎস্যজীবী দলের তৎকালীন সভাপতি মির্জা মাসুদ জুয়েলকে। এ হত্যাকান্ডেও তৎকালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপির কর্মী সমাবেশ চলাকালে সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে তার সমর্থকরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আমানউল্যাহ আমানকে। এভাবেই একের পর এক নিজের দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যা করে একক আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এমন তথ্য দিয়ে বলেছেন, দলীয় কোন প্রতিপক্ষকে সহ্য করতে পারেন না হাবিবুল ইসলাম হাবিব। যখনই কোন নেতা তার প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন তখনই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যে কারণে অকালে জীবন দিতে হয়েছে আলতাফ হোসেন, মির্জা মাসুদ জুয়েল ও আমান উল্যাহ আমানকে। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাবিব বাহিনী ধারলো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারতে গেলে সেই কোপ লাগে আমানের মাথায়। আমান মাটিয়ে পড়ে গেলে তাকে সাপের মত পিটিয়ে মারে হাবিবের সমর্থকরা। জেলা তথা তালা-কলারোয়াকে বিএনপির নেতৃত্ব শূন্য করে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে সাবেক ডাকসু নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বার বার রক্তাক্ত করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামল মাটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, ছাত্রাবস্থায়ও হাবিবুল ইসলাম হাবিব ছিলেন বেপরোয়া। তার হাতে ঝরেছে অনেক নেতাকর্মীর রক্ত। 
এদিকে অপর এক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা একজন মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা এসে ফিরে যাবার পথিমধ্যে কলারোয়ায় পৌছালে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে চালানো হয় হামলা। গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয় গাড়িবহরে। প্রাইভেট কারের ভিতর থেকে টেনে হিছড়ে নামিয়ে মারপিট করা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তান্ডব চালানো হয় রাস্তায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে সে সময়ের ওসি মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ মামলার প্রধান আসামী হাবিবুল ইসলাম হাবিব। 
সূত্র আরো জানায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামাত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আদালত ফাঁসির রায় দিলে ওই দিন এবং পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরাকে রক্তাক্ত করেছে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা। এসব নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব ও জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এমপি ও তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিভিন্ন সময় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য নাশকতার অভিযোগে রয়েছে আরো প্রায় অর্ধডজন মামলা। 
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে আমান হত্যার পর রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। মাঝে মধ্যে বিএনপির কর্মসূচিতে দেখা যেতো তাকে। টেলিভিশনে দেখা গেলেও তাকে আটক করা যায়নি বলে সূত্রের দাবি। 
সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে নাকি হাবিবুল ইসলাম হাবিব আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছেন। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বোমাবাজি, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নাশকতার মামলা হলেও তিনি গ্রেপ্তার হননি। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com