বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

জবাবদিহিবিহীন সরকার থাকার কারণেই মৃত্যুর মিছিল থামছে না: রিজভী

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

জবাবদিহীবিহীন সরকার থাকার কারনেই মৃত্যুর মিছিল থামছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রায় ৫০ জনের মতো মানুষের তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে নানা দুর্ঘটনায়। আগুনের কাছে, বেপরোয়া গতিতে চলা যানবাহনের কাছে, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও বাসের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। একটা জবাবদিহিবিহীন সরকার থাকার কারণেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এরা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক সংখ্যাটিও প্রকাশ করে না। এরা ক্ষমতার মোহে এতটাই পাগল যে, মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়। সুশাসন থাকলে এই অব্যবস্থাপনা চলতো না।

তিনি বলেন, বনানীর এফ আর টাওয়ার নির্মাণের সময় বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি। উঁচু তলার ভবনগুলোর কোন নির্গমণ পথ নেই, ভবনগুলোতে অগ্নিপ্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই-সেটা তদারকির দায়িত্ব সরকারের। শুধু লোভ ও লাভের জন্যই বেআইনীভাবে এই ভবনগুলি নির্মাণ করা হয়েছে। আর এই কারনেই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বিশ্বে বসবাসের অযোগ্যের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের মুখে উন্নয়নের মহাসড়কের বুলি শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।

রিজভী বলেন, ২২ তলা ভবনে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম নেই অথচ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে বলে চাপাবাজি চলছে সপ্তকন্ঠে তারস্বরে। আসলে দুর্নীতির মহাসড়কেই এই সরকার হাঁটছে বলেই সাধারণ মানুষের এতো লাশের স্তুপ।
এফআর টাওয়ারে অগ্নিনির্বাপণ ও হতাহতদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ উদ্ধারকর্মীরা প্রানান্তকর চেষ্টা চালিয়েছেন, তাদেরকে আমরা আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে সরকার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার কোন লেটেস্ট ডিভাইস নেই। দুর্ঘটনা স্থলে উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত পৌঁছানোর জন্য কোন উন্নতমানের বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আগুন নেভাতে উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় মই পর্যন্ত নেই। সবই সেকেলে ও মান্ধাতার আমলের।  হেলিকপ্টারের সাথে ঝোলানো বালতিতে হাতিরঝিল থেকে পানি নিয়ে বিল্ডিংয়ে আগুন নেভাতে গিয়ে সেই বালতির সমস্ত পানি ফুটো তলানী দিয়ে ঝরে গেছে। অথচ উন্নত দেশে আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে কত আধুনিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা দেখতে পাওয়া যায়। এর আগে আগুনে অসংখ্য মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর পরেও বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ফায়ার সার্ভিসকে আধুুনিক যন্ত্রপাতিতে উন্নত করেনি। যদি করতো তাহলে এতো মানুষের আগুনে পুড়ে প্রাণ যেতো না।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে দমন করার জন্য কত যে আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নিয়ে আসা হয়েছে সর্বাধুনিক বিপজ্জনক টিয়ারশেল, স্মোক গ্রেনেড, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, গোলমরিচ-স্প্রেসহ নানা ধরণের আধুনিক অস্ত্র। বিএনপিসহ বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, মানুষ হত্যার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ৩০ হাজার আধুনিক মরণঘাতি ১২ বোর শর্টগান। শর্টগানের জন্য ৩০ লাখ কার্তুজ আমদানি করা হয় হাজার কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করে। স্বীকারোক্তি আদায় বা নির্যাতনের জন্য আনা হয়েছে ইলেকট্রিক চেয়ার ও ইলেকট্রিক শক দেয়ার অত্যাধুনিক ডিভাইস। বিরোধী দলের ফোনে আড়িপাতার জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হয়েছে। গোপনে অডিও-ভিডিও করার উন্নতমানের ডিভাইস নিয়ে আসা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলার বিভিন্ন বাহিনীকে হেলিকপ্টার দেয়া হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। অর্থাৎ মানুষ হত্যার জন্য ব্যয়বহুল আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে কিন্তু মানুষ বাঁচানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে গণতন্ত্রকে মুছে দিয়ে বাকশালকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বাকশাল হচ্ছে জনগণকে খোয়াড়ে বন্দি করার ব্যবস্থা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন চেতনা সন্ত্রাসের দ্বারা গণতন্ত্রকে দুরমুস করা এবং গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন ও চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আজ বন্দিশালায় বন্দি করে রেখেছেন। তাঁর ওপর চালানো হচ্ছে পরিকল্পিত নিষ্ঠুর নির্যাতন-যাতে তিনি বিনা চিকিৎসায় সেখান থেকেই দুনিয়া থেকে চলে যান। বিএসএমএমইউ এর প্রো-ভিসি, বিএমএ এর মহাসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং আরও একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একদিন আগে গণমাধ্যমকে বলেছেন, খালেদা জিয়ার যে শারীরিক অবস্থা তাতে যেকোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁর স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ এবং খুবই উদ্বেগজনক। তাঁরা সকলেই খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার সুপারিশ করেছেন। সরকার দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন। স্বৈরতন্ত্রের বন্দিশালা থেকে যিনি বারবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আপোষহীন সংগ্রাম করেছেন তাঁকে সুকৌশলে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র বিনাশী ভয়ঙ্কর একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা।

আমরা আবারও দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-এই মূহুর্তে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে রাজপথ শুন্য ও আওয়াজহীন থাকবে না। অধিকার বঞ্চিত মানুষ প্রতিরোধ-প্রতিশোধের জন্য এখন ফুঁসছে। যেকোন মূহুর্তে বাঁধ ভেঙ্গে যাবে এবং জনতার ঢল ধেয়ে গিয়ে উল্টে দিবে ক্ষমতাসীনদের সিংহাসন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন – বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদ রফিক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com