রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজগঞ্জে অবৈধ ৩টি ইটভাটায়  ভ্রাম্যমান আদালতে ১১ লক্ষ টাকা জরিমানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পরিষদের নির্বাচন ১৪ জানুয়ারি বেলকুচিতে আলোচিত পিতা-পুত্র হত্যা মামলার অন্যতম আসামী আটক স্পেনে তীব্র তুষারপাতে জনজীবন অচল: যান চলাচল বন্ধ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষিকা শিউলী মল্লিকা গ্রেফতার দোহারে অবৈধ ড্রেজার পাইপ ভেঙ্গে দিল প্রশাসন  সালমান এফ রহমানের দোহার – নবাবগঞ্জে উন্মুক্ত হলো ওয়াজ মাহফিল বদলগাছীর কোলা ইউনিয়ন কে মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন চেয়ারম্যান স্বপন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন রাজধানীর মিরপুরে নতুন বছর উদযাপনের বিশেষ আয়োজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের হাতে লাঞ্ছিত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী

খবরের আলো :

 

 

মোঃ আমিন হোসাইন : সাবেক গৃহসংস্থান অধিদপ্তর বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রামস্থ হালিশহর হাউজিং এস্টেট জনসাধারণ ও যানবাহনের চলাচলের সুবিধার্থে বিগত ৩০-০৭-২০০৮ খ্রি. তারিখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বরাবর হস্তান্তর করা। তৎপ্রেক্ষিতে পোর্ট কানেকটিং রোড ১২০ ফুট হিসেবে তৈরি আছে। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক হালিশহর হাউজিং এস্টেটের অধিগ্রহণকৃত এইচ ব্লক হতে জি ব্লকে বড়পোল পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজের ধারাবাহিকতায় এইচ, কে এবং এল ব্লককে ১২০ ফুট হিসেবে ড্রেন নির্মাণ কাজ করলেও জি ব্লকে শেষ মাথায় বড় পোল সংলগ্ন জায়গায় হস্তান্তরকৃত ১২০ ফুট প্রশস্থ জায়গায় পরিমাণ অতিক্রম করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মাষ্টার প্ল্যানে চিহ্নিত গ্রীন স্পেসের জায়গায় জনাব তৈয়ব (নির্বাহী প্রকৌশলী) সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অনুমোদনবিহীন নির্মাণ কাজ শুরু করলে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী জনাব আশ্রাফুজ্জামান (পলাশ) এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীগণ সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে যৌথ সার্ভের মাধ্যমে জায়গার সীমানা চিহ্নিত করে ড্রেন নির্মাণের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। তৎ-প্রেক্ষিতে জনাব তৈয়ব (নির্বাহী প্রকৌশলী) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বলেন যে, আমাদেরকে আপনাদের পরিমাপ অনুযায়ী জায়গা দিলে আমরা ড্রেনের কাজ সম্পূর্ণ করবো। আপাতত রাস্তার কাজ চালু থাকুক। পরক্ষণে জনাব তৈয়ব (নির্বাহী প্রকৌশলী) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বলেন মাননীয় মেয়র এই বিষয়ে সন্ধ্যা ৬.০০ ঘটিকায় আপনাদের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান দিবেন মর্মে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সিটি কর্পোরেশন আমন্ত্রণ জানান। সে প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ (অলিউল ইসলাম), উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ (ছোটন চৌধুরী), সহকারী প্রকৌশলী (আশ্রাফুজ্জামান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস্টেট (মোঃ নাসিরউদ্দিন), নকশাকারক (অশোক কর্মকার) ও জনাব মোঃ শামসুল আলম, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী সিটি কর্পোরেশন ভবনে উপস্থিত হন। জনাব তৈয়ব (নির্বাহী প্রকৌশলী) সিটি কর্পোরেশন ভবনের তৃতীয় তলায় হল রুমে অত্র কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের নিয়ে যান এবং সেখানে মাষ্টার প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে গিয়ে মেয়র মহোদয়কে বলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ থেকে তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী সহ অফিসাররা এসেছে, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মেয়র মহোদয়কে সালাম দিয়ে আমার পরিচয় দেয়। মেয়র মহোদয় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে কথা না বলে জনাব তৈয়ব (নির্বাহী প্রকৌশলী) কে বলেন রাস্তা সোজা হবে এবং ১৭০ ফুট করবেন, যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে আমাকে বলবেন। এই শহরে আমার কাজে কে বাধা দিবে তা আমি দেখবো। তখন জনাব মোঃ শামসুল আলম, তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মেয়র মহোদয়কে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার জন্য উক্ত কাজের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান কে নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য যে, উক্ত হল রুমে অন্য একটি প্রোগ্রাম থাকায় অনেক লোক মেয়র মহোদয়ের চেয়ারের চতুর্পাশে দাড়িয়ে ছিল। আশ্রাফুজ্জামান এগিয়ে গিয়ে মেয়র মহোদয়কে সালাম প্রদান করে বলেন, স্যার বেয়াদবি না নিলে আমি বিষয়টি একটু বিস্তারিত বলতাম। মেয়র মহোদয় সম্মতি দিলে তখন আশ্রাফুজ্জামান নকশায় রাস্তার লে-আউট দেখিয়ে বলে, স্যার রাস্তাটি ১২০ ফুট রয়েছে এবং সিটি কর্পোরেশনকে ১২০ ফুট হস্তান্তর করা হয়েছে। তখন মেয়র মহোদয় বলেন, আমি বলেছি রাস্তা সোজা যাবে তাতে যতো বড় হয় হবে। তখন আশ্রাফুজ্জামান বলেন স্যার আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করতেন তাহলে আমাদের জন্য ভাল হতো কারণ আমরা ফিল্ড পর্যায়ে প্রচন্ড চাপে থাকি। তিনি বলেন আমি নগরের মালিক আমার প্রয়োজনে যা দরকার আমি তাই করবো কিসের আবার অনুমোদন। আমি আবার কার কাথে কথা বলবো? আমি যা বলেছি সেভাবে কাজ হবে, কিসের আবার হাউজিং? হাউজিং এর সব জায়গাতে অবৈধ দখলে।

তখন আশ্রাফুজ্জামানা বলেন স্যার কিছু জায়গা অবৈধ দখলে রয়েছে এটা সত্য কিন্তু আমরা তো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে যাচ্ছি। আসলে স্যার সকল সরকারি ডিপার্টমেন্টের অনেক জায়গাই অবৈধ দখলে রয়েছে, আমরা তো চেষ্টা করছি দখল মুক্ত করতে। তখন মেয়র মহোদয় উচ্চস্বরে বলেন সিটি কর্পোরেশনের কোন কিছু অবৈধ দখলে নেই পারলে একটা অবৈধ দেখান? তখন আশ্রাফুজ্জামান চুপ হয়ে দাড়িয়ে থাকে। মেয়র মহোদয় তাকে প্রচন্ড উত্তেজিত স্বরে বলেন আপনাকে বলতেই হবে সিটি কর্পোরেশনের কোথায় অবৈধ দখলদার আছে। তখন আশ্রাফুজ্জামান আস্তে করে বলে, স্যার যদি বেয়াদবি না নিতেন তাহলে বলি, ফুটপাতেতো স্যার অনেক অবৈধ দখলদার দোকান করে। সাথে সাথে মেয়র মহোদয় উত্তেজিত হয়ে বি বললি, বলে গালি দিয়ে চেয়ার থেকে উঠে আশ্রাফুজ্জামানকে প্রচন্ড জোড়ে চড় দেয় এবং গেঞ্জির কলার ধরে ধাক্কাতে ধাক্কাতে হল রুম থেকে করিডোরে নিয়ে যায় এবং বাবা মা তুলে গালি দিয়ে জিজ্ঞাস করে, এই তোর নাম কি? তোর বাড়ি কোথায়? জবাবে আশ্রাফুজ্জামান তার বাড়ি গোপালগঞ্জে বলায় মেয়র মহোদয় আরো চড়াও হয়ে গোপালগঞ্জ তুলে গালি দিতে দিতে বার বার শারিরীক আঘাত করেন।

তাছাড়াও মোঃ জোবায়ের কাউন্সিলর, ২৯নং ওয়ার্ড মেয়রের সাথে একত্রে কর্মকর্তা জনাব আশ্রাফুজ্জামানকে মারধর করেন। তখন আমি মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করি স্যার আমার অফিসারের কি দোষ দয়া করে আমাকে বলেন। তখন তিনি আমার কথায় কর্নোপাত না করে বরং গালি দিয়ে তার কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই গোপালীর বাচ্চাকে বেধে রাখ বলে তিনি হল রুমে ঢুকে যান। তাই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তার জোর দাবি একজন মেয়র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আসিন হয়ে কিভাবে সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলেন? তাহলে আমরা কিভাবে সরকারের প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করবো। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দের এবং দোষীদের খুব দ্রæত আইনের আওতায় এনে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি প্রদানের দাবি করেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com