শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০১:৫১ অপরাহ্ন

ছোট্ট সাব্বিরকে বাঁচাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান

খবরের আলো :
শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের নলকুড়া গ্রামের ৩ বছর বয়সী সাব্বির হোসেন। শিশুটির পিতা হতদরিদ্র আলমগীর হোসেন ও মাতা রহিমা খাতুন। তিন বছর বয়সী সাব্বির হোসেন মাস ছয়েক আগে একদিন শোয়ার খাটের উপর থেকে পড়ে গিয়ে হঠাৎই চঞ্চলের মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। সাব্বিরের পিতা-মাতা উপান্তর না দেখে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত বন্ধ হয়ে গেলেও ছোট্ট শিশু সাব্বির হারিয়ে ফেলে তার কথা বলার শক্তি। একই সাথে ধরা পড়ে সে আর কিছু খেতেও পারছে না। তার জিহ্বায় একটা সমস্যা থাকার কারণে কোন কিছু খেতে পারছে না সে। কিন্তু কি এমন রোগ সেটা? এটাই এখনো অজানা। কারণ তাদের যে উন্নত চিকিৎসার সামর্থ্য নেই। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে গিয়েও ফিরে এসেছেন সাব্বিরের পিতা-মাতা। সেখানে বহির্বিভাগে চিকিৎসা করিয়েছেন শিশু সাব্বিরের। কিন্তু চিকিৎসকরা সব্বিরের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েও কোন রোগ ধরতে না পেরে কোন ধরণের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ছেড়ে দিয়েছেন। পরামর্শ দিয়েছেন আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে শিশু সাব্বির দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ঠিক এমনই সময় নলকুড়া এলাকার গ্রাম্য ডাক্তার লাভলু (গ্রামে সবাই তাকে চেনে লাবু ডাক্তার নামে) তাকে নলের মাধ্যমে তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার জন্যে নাকের মধ্যে পাইপের ব্যবস্থা করে দেয়। আর প্রতিদিন ওই লাভলু ডাক্তার নিজে গিয়ে শিশু সাব্বিরকে পাইপের মাধ্যমে খাইয়ে দিয়ে আসছে। তিনবেলা শিশুটি লাভলু ডাক্তার ছাড়া আর কারও কাছে কিছু খেতেও চায় না। বর্তমানে সে এভাবেই কষ্টে দিনাতিপাত করছে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার ভালো চিকিৎসা না করানো গেলে আর হয়তো বাঁচানো সম্ভব হবে না সাব্বিরকে।
কিন্তু দরিদ্র সাব্বিরের বাবা-মার তো ঘরে নিত্যদিনের চালের জোগাড়ই নেই। প্রতিবেশীরা যার যা আছে উজার করে দিচ্ছেন। লাভলু ডাক্তার বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা এনে দিচ্ছেন সাব্বিরের জন্যে। সব মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকার মতো জোগাড় করেছেন তিনি। কিন্তু দেশের বাইরে তাকে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন।
সাব্বিরের মায়ের আর্তনাদ- কথা বলতে পারবে তো আমার সাব্বির? আবারও খেতে পারবে তো সাব্বির? তার চোখ ছলছল করা দৃষ্টি যেন বলছে- এই পৃথিবীতে না খেতে পেয়ে আমার শিশুটি মারা যাবে এটা কখনোই যেন মেনে নেওয়ার নয়।
ভালোবাসার এই পৃথিবীতে ভালোবাসার মানুষের জন্যে আমরা কত কিছুই না করতে পারি। নাকের মধ্যে দিয়ে খাবার খেতে পারা শিশু সাব্বির যেন বারবার বলতে চাইছে আমাকে একটু সহযোগিতা করুন। সকলের একটু সহযোগিতা পেলে আবারও আমি কথা বলতে পারবো, মায়ের হাতের খাবার খেতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল ও জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান সহ সমাজের বিত্তবানদের নিকট ছেলের জন্য সাহায্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। যাতে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সন্তান সাব্বিরকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। যে কোনো তথ্য ও সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: লাভলু ডাক্তার, মোবাইল: ০১৭১৪ ৯০৩৬৫২।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com