বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
দাউদকান্দি সেতুর টোলে সাংবাদিকের গাড়ি ডাকাতি কোভিড মোকাবিলায় বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত অনন্য : ডব্লিউএইচও আইজিপির সাথে বিএনপির প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত বদলগাছীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কৃষি জমিতে চলছে পুকুর খনন জান্নাত একাডেমী হাই স্কুলে শহীদ দিবস উদযাপন দোহারে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত চাষের নতুন পদ্ধতি যন্ত্রের ব্যবহার বাড়বে কমবে সময়,শ্রম, ও খরচ – কৃষিমন্ত্রী  করনা মোকাবেলায় স্বর্ণপদক পেলেন ইউপি চেয়ারম্যান  আমিনুর রহমান আজ সৈয়দ মুহাম্মদ আহমদ উল্লাহ’র প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী সাভারে ঝুলন্ত অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বার মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুরের অলিতে-গলিতে মিলছে ইলিশ

খবরের আলো  :

 

মো: জসীম উদ্দীন চৌধুরী: মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ২২ দিন ইলিশসহ সব মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। চাঁদপুর প্রশাসনও প্রতিদিন নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের জেল-জরিমানা করছে। ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ২৬টি অভিযান ও ৩৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ১১টি মামলায় এক জেলেকে এক বছরের কারাদÐ দিয়ে জেলেও পাঠানো হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল।

এতো কিছুর পরও প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাতে ও ভোরে শত শত জেলে ইলিশ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশই নৌকাপ্রতি ১-২ হাজার টাকা নিচ্ছে। যে জন্য পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। তবে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সুপার এ তথ্য অস্বীকার করেন।
এদিকে মৎস্য কর্মকর্তারা দৈনিক খবরের আলোকে বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ২শ নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে নামছে। সেখানে চারজন পুলিশ নিয়ে আমরা মাত্র ১০ জন একটি নৌকায় অভিযান চালাতে পারি। হরিণা এলাকার অলিতে-গলিতে এখন শুধুই মা-ইলিশ। জেলেরা মা-ইলিশ ধরে নিজের পেটে নিজেই লাথি মারছে। একমাত্র সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া মা-ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও জানান মৎস্য কর্মকর্তারা।

সরকার প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ রক্ষায় ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের পদ্মা-মেঘনার ৬টি অভযাশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞাকে সফল করতে জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চালও বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, চাল নিয়ে জেলেরা আবার ইলিশ ধরতে নদীতে নামছে।
চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ¥ীপুরের রামগতিরহাট পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রমের আওতাভুক্ত। অথচ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে রাত ৮টা থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত জেলে নদীতে মা-ইলিশ ধরছে।
বিশেষ করে চাঁদপুর সদরের পুরানবাজার, ১০নং লক্ষ¥ীপুর মডেল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের রামদাসদী খাল, দোকানঘর গুচ্ছগ্রাম, মাদরাসা টাওয়ার, রণাগোয়াল, বহরিয়া, হরিণা, নন্দস খার খাল, গোবন্দিয়া রাঢ়ী বাড়ি এলাকা উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকার অলি-গলিতেও বসছে ইলিশের হাট।
এছাড়া মতলব উত্তরের ষাটনল, এখলাশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ও নদীর ওপারে নিধন করা হচ্ছে মা-ইলিশ। একই অবস্থা হাইমচরেও। যদিও প্রশাসন মা-ইলিশ রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির নেতা আব্দুল মালেক দেওয়ান বলেন, ‘এসব অভিযান দিয়া লাভ হইব না। আগে পুলিশকে ঠিক করেন। তারা যেভাবে টাকা নিয়া মাছ ধরতে সহযোগিতা করে, এতে নদীতে আর ইলিশই থাকব না।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি এ কথা মিটিংয়ে উঠিয়েছিলাম। সবাই আমারে না করছে। কিন্তু দেখেন এখন তাই হইতাছে।’
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন জেলেরা মা-ইলিশ না ধরে। এজন্য যা যা করণীয় তাই করা হচ্ছে।
কিন্তু তারপরও মা-ইলিশ নিধনের দৃশ্য দেখলে চোখে পানি চলে আসবে। এটাই-বাস্তবতা। মা-ইলিশ রক্ষা করতে হলে পুরো এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। তাহলেই মা-ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।
তবে চাঁদপুর নৌ-পুলিশ সুপার জামশের আলী জানান, মা-ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ডের যৌথ সমন্বয়ে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নদীতে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট চলছে। জেলে আটক করে জরিমানা ও কারাদÐ দেয়া হচ্ছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন বিশাল এ নদী এলাকার সব জায়গায় প্রোটেক্ট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com