সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বড়াইগ্রামে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত উদাসীনতায় হিলিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ মাধবপুরে পানি চলাচলের নালার মুখে ইউপি সদস্যের বাঁধ নির্মাণ শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ মহামারী করোনা ও লকডাউনে মোটরসাইকেল ব্যবসা পরিস্থিতি দীর্ঘ ১২ বছর পর ইসরায়েলে নেতানিয়াহু যুগের অবসান, ক্ষমতায় নাফতালি বেনেট ঋণের অপব্যবহার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোরতা এবার হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছে ৬০ হাজার সৌদি নাগরিক এবার বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক রুহিয়ায় কৃষকের কার্ড দিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের ব‍্যবসা জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে তিনটি আসনের প্রার্থী নাম ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ 

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পেতে মাত্রাতিরিক্ত অর্থ গুণছে গ্রাহকরা

খবরের আলো  :

 
মো: জসীম উদ্দীন চৌধুরী: সরকারিভাবে পল্লী বিদ্যুতের মিটার সংযোগ ফি ন্যূনতম হলেও সে নিন্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি চক্র মাত্রাতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বিদ্যুতের সংযোগ পেতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ গুণেও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকদেরকে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেয়া বাবদ ১৫/২০ হাজার টাকা দালালদের দিতে হয়। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে ঐ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় না। এ রকম অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন।দালাল চক্র বিনিময়ে তারা মিটার প্রতি কমিশন হিসেবে পেয়ে থাকে ৫ হতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। যার ফলে ওই দালাল চক্রের বিদ্যুৎ সংযোগে অবৈধ কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে। সকল সমস্যা তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয় বলে জানা যায়। আর এ সুযোগে দালাল চক্র গ্রাহকের নিকট থেকে তার দাবিকৃত অর্থ হাতিয়ে সুবিধা ভোগ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছে। অথচ সরকারিভাবে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ ফি মিটার প্রতি আবাসিক ৪৫০ টাকা এবং এবং বাণিজ্যিক ৮৫০ টাকা নির্ধারিত।
বিরামপুর বাজারের দক্ষিণ দিকে চাঁন গাজী বাড়িসহ মালেগো মৌজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের নিকট হতে জনৈক মাওঃ মোশাররফ প্রতি মিটার বাবদ ১৫ হাজার হতে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। হাঁসা এলাকায় মোঃ অহিদ প্রতি গ্রাহকের নিকট হতে মিটার প্রতি ১৫ হাজার হতে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। এছাড়াও ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের নতুন সংযোগ পেতে ১৫/২০ হাজার টাকা করে দিয়ে মিটার নিতে হচ্ছে। আর যাদের বাড়িতে বিদ্যুতের নতুন পিলার ছাড়া মিটার সংযোগ দেয়া সম্ভব না অথবা পিলার হতে সংযোগস্থল একটু দূরে তাদের বেলায় ৫০ হাজার হতে শুরু করে ৭০ হাজার টাকাও গুণতে হচ্ছে। না হলে ওই বাড়িতে মিটার দেয়া হয় না। এমনিভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ তাদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। উপায়ন্তর না পেয়ে বাধ্য হয়েই গ্রাহকরা অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে মিটার নিচ্ছে। এক কথায় বলা চলে ফরিদগঞ্জে এখন চলছে মিটার বাণিজ্য। এসব বিষয় অনেকে জানলেও রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দালালচক্রের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলে কথা বলতে সাহস পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাঁসা ও লড়াইরচর গ্রামের কজন গ্রাহক জানান, মোঃ অহিদ ও মাওলানা মোশারফ মিটার প্রতি ১৫/২০ হাজার টাকা করে গ্রাহকের নিকট থেকে হাতিয়ে নেয়। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে মিটার দিবে না বলে জানায়।
এ ব্যাপারে মাওলানা মোশারফের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মিটার দেওয়া বাবদ ১৪/১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছি। এখন সেখানে আবু তাহের নামের একজন টাকা উত্তোলন করছে। হাঁসা এলাকার মোঃ অহিদ জানান, আমি এতো টাকা করে নেইনি। এটা মিথ্যা কথা।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোখলেছুর রহমান দৈনিক খবরের আলোকে বলেন, অভিযুক্তরা আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেউ না। এ রকম অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ করলে বিষয়টি দেখবো এবং দালাল থেকে বিরত থাকার জন্যে মাইকিং ও পোস্টারিং করেছি। মানুষদেরকে সচেতন করার জন্যে বিভিন্ন মসজিদে সচেতনতামূলক বক্তব্য দিয়েছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com