শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেও বহাল যুবলীগ নেতা

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সদস্য। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাজহারুল ইসলাম মামুন শরীফপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে অনৈতিক প্রস্তাব ও দুটি মোবাইল নম্বরসহ একটি চিরকুট দেন মামুন। ছাত্রীর মা মামুনকে তাঁদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করে বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানান। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে টিজ করতে থাকেন মামুন। গত ১০ ও ১১ জুলাই ছাত্রীর পথরোধ করে মামুন বলেন, ‘তুই স্কুলে আমার নামে যে অভিযোগ দিয়েছিলি তা তুই তুলে নে। আমি তোকে আমার খরচে ম্যাট্রিক পাস করাব। তোর যা কিছু প্রয়োজন সব কিছু আমি তোকে দেব।’ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে শিক্ষকদের সামনে তার নামে অপবাদ দিয়ে অপমান করেন। এ ছাড়া মেয়েটিকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেবেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করিয়ে রাখবেন, উপবৃত্তির নাম কেটে  দেবেন—এ রকম নানা ভয়ভীতি দেখান। এরপর নিরাপত্তার অভাবে ছাত্রীর মা গত ১৬ জুলাই বিকেলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ করেন। ইউএনও তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এদিকে মামুনের ভয়ে ১৪ দিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মেয়েটি।

অভিযুক্ত মাজহারুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘ঘটনার পরদিন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে আমি আমার অপরাধের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছি।’

মেয়ের মা বলেন, ‘প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে আর মুচলেকা দিয়েছে। সেখানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন। এখনো আমরা শঙ্কায় রয়েছি। মামুন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভবিষ্যতে আমার মেয়ের ক্ষতি করতে পারে।’

কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজল উদ্দিন আপস-মীমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার স্কুলে ফিরেছে ছাত্রীটি।’

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে এ রকম ঘটনায় মামুনের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার জানান, তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। সমঝোতার বিষয়টি এড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সমঝোতা করিনি। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ছাত্রীর পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।’

কুলাউড়ার ইউএনও মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাইনি। সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া অভিযোগটি থানায় পাঠিয়েছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com