শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১২:১৯ অপরাহ্ন

ডেঙ্গু শনাক্তে দীর্ঘলাইন হাসপাতালে

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু জ্বর। এ অবস্থায় দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রাজধানীর হাসপাতালগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে শুধুমাত্র শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মানুষ আসছেন।

সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, ডেঙ্গু শনাক্তের টেস্ট কিংবা রিপোর্ট তুলতে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা লাইনে অপেক্ষায় থাকতে হয়। তারপরও সময় মতো মিলছে না রিপোর্ট। এ বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক জানান, লোকবল সংকট এবং মেশিনের সীমাবদ্ধতায় পরিস্থিতি এমন জটিল আকার ধারণ করছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আমাদের যে জনবল আছে তাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা ২৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু, আগের তুলনায় প্রায় ৫ থেকে ৭ গুণ বেশি রোগী আসায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

চলছে মেশিন, চলছে পরীক্ষা। তবে চাপ সামলাতে এলোমেলো সব কিছু। সামান্য জ্বরেই সবাই ছুটছেন হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন নির্দেশনার পর সেখানে পরীক্ষার জন্য রোগী বেড়েছে পাঁচ থেকে সাতগুণ। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্যাথলোজি বিভাগের সবাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। দেশের এই সঙ্কটাবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথার প্রমাণ মেলে প্যাথলোজি বিভাগের বাইরের দীর্ঘ লাইন দেখে। ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত পরীক্ষা ও রিপোর্ট তোলার জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও সেই লাইন হাসপাতালের বারান্দা ছাড়িয়ে গেছে ভবনের বাইরে। একদিনে রিপোর্ট দেয়ায় কথা থাকলেও অনেক সময় মিলছে না দুই তিনদিনেও।

ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে আসা রোগীরা জানান, ৩ থেকে ৪ ঘন্টা অপেক্ষা করার পরও পরীক্ষার রিপোর্ট মিলছে না। রোগীরা আরও জানান, টিকিট কাটা, ডাক্তার দেখানো এবং ব্লাড দিতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় লাগছে। কিন্তু এরপরও কেউ ডেঙ্গুর রিপোর্ট পাচ্ছে তো সিবিসি রিপোর্ট পাচ্ছে না। একটা মিললে আরেকটা মিলছে না।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, ডেঙ্গুর পরীক্ষা বিনামূল্যে করায় অন্য হাসপাতাল থেকেও রোগী আসছে। ফলে, শুধু জনবল না আমাদের মেশিনের যে ধারণক্ষমতা তার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় মেশিনগুলো মাঝে মাঝে কাজ করছে না। যার কারণে সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য এ চাপ সামাল দেয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে।

অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ারা যাতে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত না হয় সেজন্য এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন দু’টি ওয়ার্ড খোলার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমরা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আলাদা অবস্থানে না নেব ততদিন পর্যন্ত অন্যান্য রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে চিকিৎসা নেবেন।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com