বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হবে শুক্রবার

খবরের আলো  ডেস্ক :

 

রুপালি গিটার বাদক আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জাতীয় শহীদ মিনারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে তার কফিন। দুপুরের আগ পর্যন্ত সেখানে মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে, এমনটাই জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ।

তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর অগণিত ভক্ত শ্রোতা আছেন। ব্যাপক এই জনপ্রিয় মানুষটিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করতে তার কফিনটি সকালে জাতীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।’
সেখান থেকে জুমার নামাজের সময় নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। বাদজুমা প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ রাখা হবে স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে।
এদিকে, পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তার শেষ ঠিকানা হচ্ছে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার পারিবারিক কবরস্থানে, মায়ের কবরে। এ বুঝি সুরের জাদুকরের শৈশবে ফেরা। কারণ, এই এনায়েত বাজারেই তার জন্ম আর বেড়ে ওঠা।
১৮ অক্টোবর দুপুরে এই সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরাসহ বামবা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জানাজা ও শহীদ মিনারে নেওয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকবার সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে নানা কারণে। তবে সর্বসম্মতিক্রমে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হলো, কাল ১৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে।
একই দিন রাতে অস্ট্রেলিয়া থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে রাজকন্যা ঢাকায় পৌঁছালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে চট্টগ্রামের এনায়েত বাজারে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০ অক্টোবর সকাল নাগাদ আরেকবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরেই সমাহিত করা হবে আইয়ুব বাচ্চুকে।
আজ (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন স্কয়ার হাসপাতালে প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় আইয়ুব বাচ্চু বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ড্রাইভার আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তারপরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। পরে ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে আমরা মৃত ঘোষণা করি।’
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৬ অক্টোবর রাতে রংপুরে একটি কনসার্ট শেষ করে ১৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় ফিরেছেন আইয়ুব বাচ্চু। আজ (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় হার্ট অ্যাটাক করেন তিনি। তড়িঘড়ি তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর ফুসফুসে পানি জমার কারণে স্কয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। বেশ কিছু দিন চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে আবারও গানে ফেরেন। কিন্তু এবার হুট করেই নিভে গেলো তার জীবন প্রদীপ।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যান্ড এলআরবির দলনেতা আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক। গিটারের জাদুকর হিসেবে আলাদা সুনাম ছিল তার। ভক্তদের কাছে তিনি ‘এবি’ নামেও পরিচিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন।
১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৮ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের মাধ্যমে সঙ্গীত জগতে তার পথচলা শুরু হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সোলস ব্যান্ডে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালে এলআরবি ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। এর প্রথম অ্যালবাম ‘এলআরবি’ বাজারে আসে ১৯৯২ সালে। এটাই দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম। এলআরবির অন্য অ্যালবামগুলো হলো ‘সুখ’ (১৯৯৩), ‘তবুও’ (১৯৯৪), ‘ঘুমন্ত শহরে’ (১৯৯৫), ‘ফেরারি মন’ ও ‘স্বপ্ন’ (১৯৯৬), ‘আমাদের’ (১৯৯৮), ‘বিস্ময়’ (১৯৯৮), ‘মন চাইলে মন পাবে’ (২০০১), ‘অচেনা জীবন’ (২০০৩), ‘মনে আছে নাকি নাই’ (২০০৫), ‘স্পর্শ’ (২০০৮), ‘যুদ্ধ’ (২০১২) এবং সর্বশেষ ‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ (২০১৬)।
১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ‘রক্তগোলাপ’ হলো তার প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। তার সাফল্যের শুরুটা হয় দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে। ১৯৯৫ সালে বাজারে আসে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম ‘কষ্ট’। এর প্রায় সব গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হৃদয়’, ‘আমিও মানুষ’ গানগুলো। তার অন্য একক অ্যালবামগুলো হলো ‘সময়’ (১৯৯৮), ‘একা’ (১৯৯৯), ‘প্রেম তুমি কি’ (২০০২), ‘দুটি মন’ (২০০২), ‘কাফেলা’ (২০০২), ‘রিমঝিম বৃষ্টি’ (২০০৮), ‘বলিনি কখনো’ (২০০৯), ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫)।
আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘চলো বদলে যাই’। এর কথা ও সুর তারই। শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় আরও রয়েছে ‘শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’, ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রুপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’, ‘তারা ভরা রাতে’, ‘এখন অনেক রাত’ ইত্যাদি।
রক ঘরানার গানের এই শিল্পী আধুনিক আর লোকগীতিতেও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। বেশ কিছু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। চলচ্চিত্রে তার গাওয়া প্রথম গান ‘লুটতরাজ’ ছবির ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। এছাড়া ‘আম্মাজান’ ছবির শিরোনাম গানটিও পেয়েছে আকাশছুঁই জনপ্রিয়তা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com