মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০২:২৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

কলাপাড়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক সঙ্কট প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাহত

????????????????????????

খবরের আলো :

 

 

হাবিবুর রহমান মাসুদ,পটুয়াখালী প্রতিনিধি :পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মকর্তা , সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকের পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শুণ্য রয়েছে। ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি না থাকায় সরকারের অগ্রাধিকার ভিক্তিক প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানাগেছে, উপজেলায় দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৭৩টি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫টি। বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২২হাজার। এই বিদ্যালয়গুলো তদারকির জন্য একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও পাঁচজন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা পদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে তিন জন সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা। তার মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি দুইজন ৮৮টি বিদ্যালয় পরিদর্শনের কাজ করছেন। দুইজন সহকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ তদারকি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয় আবার ৮৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৭টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ১২২টি সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে।
আর এ সুযোগে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকÑশিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানে হাজির হচ্ছেনা। আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষক Ñশিক্ষিকা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কাজে সময় পার করছেন। প্রতিদিনই কিছু শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে আনাগোনা ব্যস্ত থাকেন। আবার কেউ কেউ জমির দালালি.সার্ভেয়ারি নিয়ে ব্যস্ত। এরই বাস্তব উদাহরন- উপজেলা ধুলাসার ইউনিয়নে নয়াকাটা গ্রামের বেীলতলী সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন গাজী ভুমিদস্যু প্রায় দিনই স্কুলে অনুপস্থিত থেকে জমির দালালি সহ শালিস বানিজ্যে ব্যস্ত থাকে। ওই শিক্ষকের কাছে যে কোনো ভুমি অফিসের কর্মকর্তার সিল,স্বাক্ষর, সইমোহর, পর্চা পাওয়া যায়। এমন কি পাকিস্তানি আমলের দলিলসহ যেকোনো সালের জাল দলিল তৈরি করে দিতে পারেন তিনি। জাল দলিল তৈরি করে, যাদের জমি নেই তাদেরকে লোনের ব্যবস্থা করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে, এজন্য তার বিরুদ্ধে মহিপুর কৃষি ব্যাংক বাদী হয়ে ২১.১২.২০১০ইং সালে মামলা করেন ও তার বিরুদ্ধে ৬.৩.২০১৫ সালে দুদকে মামলা হয়েছে এবং মো.আজাদ হোসেনের জমি জরিপের মাধ্যমে নিজের নামে রেকর্ড করে নেয় হারুন গাজী। এ জন্য আজাদ হোসেন ২৫.১২.২০১৯ সালে মামলা করেন। ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নে পেয়ারপুর গ্রামে তোহা মিয়ার জমিতে সাইন বোর্ড টানিয়ে দেয় ভুমি দস্যু হারুন গাজী। দোহার আরো ৪০ বছর পুর্বে এ জমি কেনা। দোহা তার বিরুদ্ধে ২৮.৭.২০১৯ মামলা করেন। তিনি বেশির ভাগ সময় কলাপাড়াÑমহিপুর ভুমি অফিসে কাটান। শুক্র ও শনিবার ব্যতিত কলাপাড়ায় দুপুর ১ থেকে ১.৩০মিঃ এর মধ্যে তার দালালি কাজের জন্য চলে আসেন। তিনি নি¤œ পরিবারের লোক হয়ে এখন সে কোটি কোটি টাকা ও জমির মালিক। ধুলাসার ইউনিয়নে যেখানে জমি নিয়ে সমস্যা সেখানেই শালিস বানিজ্যের জন্য উপস্থিত থাকেন। তার রয়েছে নিজস্ব গাড়ী ও একান্ত ব্যক্তিগত সহকারি। তার বিরুদ্ধে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা বারবার লিখিত অভিযোগ দিলেও আজো পর্যন্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। তার এ অপকর্ম ও দূর্নীতি একাধিকবার স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে , উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তার এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুত্রে জানায়, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বিদ্যালয় গুলোর তদারকির অভাবে তৈরি হচ্ছে নানা অনিয়ম। এখনই তদারকি না বাড়লে সরকারের অতি গুরুত্বপুর্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এছাড়াও ১০টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো খুবই জরাজীর্ণ। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ,সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা ,প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকসহ মোট ১৫২টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শুন্য রয়েছে অনেক দিন যাবৎ। ফলে কোনো মতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পটুয়াখালীর অতি গুরুত্বপুর্ন এলাকা কলাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ,সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাটানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিগগির শুন্য পদে শিক্ষক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়ে মামলা চলমান। তারা সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক দাবী করছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com