শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর মিনা

খবরের আলো  ডেস্ক :

 

 

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম ফরজ ইবাদত হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। লাখ লাখ হাজির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত তাঁবুর শহরখ্যাত মিনা।

মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আজ শুক্রবার সারাদিন-রাত মিনায় অবস্থানের পর কাল শনিবার ভোরে আরাফাত ময়দানে হাজির হবেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসলমানরা।

এর আগে সারা পৃথিবীর ২০ লাখের বেশি মুসলমান গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজ নিজ আবাস এবং মসজিদুল হারাম থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর মাধ্যমে সূচনা হয় মুসলমানদের অন্যতম ফরজ ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়; যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর মেরে।

হজ পালনকারীদের জন্য মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। দীর্ঘ যানজট এড়াতে অনেকে মিনায় যাবেন হেঁটে। অন্যান্য দেশের হাজিদের মতো বাংলাদেশের ১ লাখ ২৬ হাজার হাজিও রওনা হন মিনার পথে। আজ ৯ আগস্ট (শুক্রবার) সারাদিন ও রাতে হাজিরা মিনায় অবস্থান করবেন। ফজরের নামাজ পড়ে প্রত্যুষে আরাফাতের ময়দানের দিকে যাত্রা করবেন তারা।

কাল শনিবার আরাফাতের ময়দানের মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা দেওয়া হবে। হজের খুতবা শেষে জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন হাজিরা। সেদিন সূর্যাস্তের পর আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে গিয়ে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন।

শনিবার রাতে হাজিরা মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে সারা রাত অবস্থানের পর শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নেবেন হাজিরা। ওইদিন ফজরের নামাজ শেষে বড় জামারায় (প্রতীকী বড় শয়তান) পাথর নিক্ষেপ করতে মিনায় যাবেন তারা। পাথর নিক্ষেপ শেষে পশু কোরবানি দেবেন তারা। মূলত ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। এদিনের নাম ইয়াওমুল আরাফা।

ইসলামের বিধান মোতাবেক ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি (অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন), মাথা ন্যাড়া করা এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ অবস্থান করে প্রতিদিন ৩টি শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে বাংলাদেশি হাজিদের নির্বিঘ্নে হজ পালন নিশ্চিতে মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় সব প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজ অফিস। এসব স্থান পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ হজ মিশনের কর্মকর্তারা।

মক্কায় অবস্থানরত বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান বলেন, মিনা ও আরাফাতের ময়দানের সমস্ত প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশের সকল হাজিগণের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাবুতে থাকার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান।

অন্যদিকে হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চেতে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র বাসাম আতিয়া গণমাধ্যমকে জানান, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘রাষ্ট্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা ‘মহান আল্লাহ’র অতিথিদের’ সেবা করতে পেরে গর্বিত। এ বছর মোট প্রায় ২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করছে। এসব হজযাত্রীর অধিকাংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com