মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

শ্রীপুরে কুরবানীর পশু দাম ক্রেতাদের নাগালে থাকায় স্বস্তি ,বিক্রেতাদের হতাশা

খবরের আলো :

 

 

মহিউদ্দিন আহমেদ.শ্রীপুর (গাজীপুর )প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এবারের ঈদুল আজহায় সরকারি তালিকা মোতাবেক কোরবানির জন্য প্রায় ১২ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম পশু প্রস্তুত করায় বাহির থেকে বেপারীরা পশু আমদানি করেছেন। এতে দাম কিছুটা হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও বিক্রেতারা হতাশায় ভুগছেন।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। ছোট-বড় ১২০টি গরু মোটাতাজাকরণের খামার ও ৪ হাজার ২৩৭ জন কৃষক গরু মোটাতাজাকরণ করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ষাঁড় ৩ হাজার ৪০টি, বলদ ৩৮০টি, গাভী ৩৪৮, মহিষ ৬৫টি, ছাগল ৪৫৭, ভেড়া ৩৭টি।খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পশু লালন পালনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় বহিরাগত পশুর কারণে প্রকৃত বাজার দর না পাওয়ায় অনেক কৃষক ও খামারি পশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় পশু পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।উপজেলার বদনী ভাঙ্গা গ্রামের খামারি সাইফুল ইসলাম জানান, মোটাতাজাকরণের জন্য কোরবানির পশুকে খাবার হিসেবে সবুজ ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল ও খুদ খাওয়ানো হয়। বর্তমানে বাজারে এ ধরণের খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পশু পালনে বেগ পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে বিক্রির সময় আশানুরুপ দাম না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পশু পালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষক ও খামারিরা।টাঙ্গাইল থেকে উপজেলার লোহাই হাটে গরু নিয়ে এসেছেন মোসলেম উদ্দিন নামের এক গরু ব্যবসায়ী। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন খামার থেকে বিদেশি জাতের ফিজিয়ান, শাহিওয়াল, জার্সি ও সিন্ধি গরু কিনে ওই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। দেশি গরুর চাইতে দামে কিছুটা কম হওয়ায় গরুগুলো বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তবে লাভের পরিমাণ খুবই কম।অপর ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, বিভিন্ন হাট ঘুরে আজ দুটি গরু বিক্রি করেছি। ঈদ খুব কাছে চলে আসায় বেশি লাভের আশা না করে সামান্য লাভেই গরু ছেড়ে দিচ্ছি।এমসি বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী লতিফ হোসেন জানান, কোরবানির জন্য এবার তিনি লাখ টাকায় যে পশু কিনেছেন গতবারের চাইতে তা অনেক কম।শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, এক মাঠ জরিপে জানা গেছে উপজেলায় এ বছর প্রায় ১১ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। তবে এ অঞ্চলে চাহিদার অর্ধেকের কম পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। শিল্প অঞ্চল হওয়ায় মানুষ পশু পালনে আগ্রহী কম। উপজেলার খামারি ও কৃষকরা প্রায় পাঁচ হাজার পশু মোটাতাজাকরণ করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি হাটে আমাদের টিম কাজ করছে। পশুর দাম ভালো পাওয়ায় উপজেলায় খামারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com