মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
এক দিনের জন্য ব্যাংক লেনদেনের সময় বাড়ল রোজায় করোনা সংক্রমণ বাড়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের দুর্ভোগ আরও কিছুদিন বাড়বে: রেলমন্ত্রী সর্বাত্মক লকডাউনের আগে যেভাবে ঢাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ আ.লীগ নেতার বাড়িতে ব্যবসায়ীর লাশ, এসপি অফিস ঘেরাও রাজৈরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ দৌলতপুরে লকডাউন কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন জাতীয় গনমাধ্যম সপ্তাহকে রাষ্ট্রীয় স্মীকৃতির দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে শ্রীপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইউপি সদস্য কর্তৃক সাংবাদিকের উপর হামলা বাবরকে দেখে শিখুক কোহলি!

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবমানবিক হত্যাকান্ড : বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী

খবরের আলো :
স্টাফ রিপোর্টারঃ সাহাদাৎ হোসেন শাহীন : নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেছেন, ৭১রে হানাদার বাহিনী গর্ভবতী মহিলাদের কেও ধর্ষণ হত্যা করেছে নাবালক শিশুদের ও পশুদের নেয় নির্যাতিত করেছে , বিশ্বে বহু রাজনৈতিক হত্যাকান্ড হয়েছে। কোন হত্যাকান্ডে অবুঝ শিশু এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ছিলো না। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবমানবিক হত্যাকান্ড। খুনিরা সেদিন শিশু রাসেলকে পর্যন্ত রক্ষা করে নি। রক্ষা করে নি যুব লীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির  অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে। ঘাতকরা বুঝতে পেরেছিলো জাতির পিতার পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্য বাঙালিদের অতি আপনজন ছিলেন । বাংলাদেশকে মিনিপাকিস্থান বানানোর জন্য তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)‘র উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বের শোষিত মানুষের মুক্তির কন্ঠস্বর । ‘আমরা যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি সেই পাকিস্তানিদের হাতে বঙ্গবন্ধু মারা যাননি, তিনি মারা গেলেন আমাদের বাঙালিদের হাতে। কত বড় অকৃতজ্ঞ আমরা! আমরা জাতির পিতাকে নিজেরা হত্যা করেছি। এটা একটা করুণ ইতিহাস।’

তিনি বলেন, খুনি মোশতাক জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছে। মন্ত্রী সরকারের কাছে খন্দকার মোশতাক এবং জিয়াউর রহমানের বিচার দাবি করেছেন।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর ২১টি বছর অনেকে বঙ্গবন্ধুর নামই নেয়নি। অনেকে আবার ভয়েও নাম বলেনি। এমনও হয়েছে চাকরিতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট শো করেননি। এই ছিল অবস্থা। এখন আবার বিরোধীশক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। সবই এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে হয়ে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চোখে দেখা ১৯৭৫ সালের পর ২১ বছর আমাদের লোক খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা যারা তৃণমূলে ছিলাম। তারা আন্দোলন করে, আবার বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনলাম। আমাদের যেমন অনেক করুণ ইতিহাস আছে, তেমনি আবার গৌরবেরও ইতিহাস রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, “বঙ্গুবন্ধুর ছয় দফার মধ্যে আমাদের পাটের কথা রয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের পাটের টাকা দিয়ে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইসলামবাদ পর্যন্ত হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। আর পূর্ববাংলা অবহেলিত। আমরা না খেয়ে মরছি।’ বঙ্গবন্ধু পল্টন ময়দানে বারবার কথাগুলো বলতেন। আমরা শুনতাম। আগরতলা মামলায় উনি জেলে গেলেন, আবার ফেরত আসলেন। ৭০ সালের নির্বাচন তিনি স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৭১ সালেল ৭ মার্চের ভাষণে আমরা বুঝলাম তিনি এবার স্বায়ত্তশাসন না, এক দফা স্বাধীনতা চেয়েছিলেন।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, ‘এদেশের প্রায় সব মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন। আর এই কারণেই আমরা নয় মাসে স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছি। কিন্তু স্বাধীনতার পরেও পাকিস্তানি চক্র বসে ছিল না। যারা সেই সময়ে আমাদের সমর্থন করেননি। সেই দেশি চক্র এবং বিদেশি চক্রান্ত করে জাতির পিতাকে হত্যা করেছে। কিন্তু সেই সময়ে যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল তারা সবাই ঢাকা থাকত। আমরা সবাই তাদের চিনি। কিন্তু আমরা তা টেরও পায়নি। এই ধরনের ঘটনা ঘটবে আমরা বুঝতেও পারিনি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মত লোককে হত্যা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিজেএমসিকে জাতীয়করণ করেছিলেন। তখন বিজেএমসির এককভাবে মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ঘাতকরা পাটশিল্পকে ধ্বংস করেছে।  বিজেএমসি দিনদিন লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। গত ১০ বছরে বিজেএমসিকে সরকার ৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। এই লোকসানের জন্য শ্রমিক নয় ম্যানেজমেন্ট দায়ী। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক বান্ধব, তাই শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে এই খাতে তিনি ৮ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন। জনগণের টাকা আর কত ভর্তুকি দেওয়া হবে। বিজিএমসিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। যদি তা না পারে তাহলে ভবিষ্যতে লোকসানী মিলগুলো পিপিপি‘র মাধ্যমে দিয়ে দেওয়া হবে।’

বিজেএমসির চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাছিমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব রীনা পারভীন। বক্তব্য রাখেন বিজেএমসির মহাপরিচালক শামসুল আলম। স্মরণসভায় বিজেএমসি ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com