মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২:০৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

ডিসেম্বরে ঢাকার দুই সিটি’র নির্বাচন

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরে আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ পালনের সুবিধার্থে ইসি ডিসেম্বরে দুই সিটির নির্বাচন সম্পন্নের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ শুরু করেছে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল প্রথমবারের মতো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দুই মেয়র ওই বছর ৬ মে শপথ গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী আগামী বছরের মে মাসে মেয়াদ শেষ হবে মেয়রদের। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগে ভোট করতে হবে। সেই অনুযায়ী আগামী বছরের জানুয়ারির দিকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের সুবিধাথে ওই পরিকল্পনা আরও একমাস এগিয়ে আনতে চিন্তাভাবনা করছে ইসি।

ইসির নির্বাচন শাখা সূত্রে জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকার দুই সিটির ভোট করতে না পারলে ইসিকে সেক্ষেত্রে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি বাদ দিয়ে মার্চে যেতে হবে। কারণ, জানুয়ারির ১ তারিখে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা চূড়ান্ত হবে ৩১ জানুয়ারি। ফলে এ সময়ে ভোট করতে গেলে নতুন ভোটারদের ভোট দেয়া না দেয়ার প্রশ্নে আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে এসএসসি পরীক্ষা। ফলে ডিসেম্বরে কোনো কারণে ঢাকার দুই সিটির ভোট না হলে তা মধ্য-মার্চের (১৭ মার্চ) আগে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে ইসি।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেন, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষের দিকে সেগুলোর বিষয়ে আমরা ফিল্ডের রিপোর্ট নিচ্ছি। এগুলোর সব রিপোর্ট পেলেই কমিশন বসবে। কমিশন সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব। তবে এখনও চূড়ান্ত কোনো তারিখ নির্ধারণ হয়নি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে সিটি নির্বাচন ইভিএমে আয়োজন করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানোর বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সীমানা, ওয়ার্ড বিন্যাস ও অন্যান্য বিষয়ে কোনো জটিলতা রয়েছে কি না বা তিন সিটি (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে পত্র পাঠাতে সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ভোটগ্রহণের একটি প্রস্তাব ইসিতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে দলটির শীর্ষ কয়েক নেতা প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠ জরিপ শুরু করেছেন। দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ও জনপ্রিয়- এমন নেতা খুঁজছেন তারা। ওয়ার্ড জরিপে বর্তমান কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। সে হিসেবে আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনেক কাউন্সিলর বাদ পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মেয়র পদেও খোঁজা হচ্ছে অধিকতর যোগ্য প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও রাজধানীর নেতাকর্মীদের ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিয়েছেন । গত শনিবার (১৭ আগস্ট) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, কয়েক মাস পর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। জোর করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনে জিততে চান না। আমরা জনগণকে খুশি করে জনগণের রায় মেনে নির্বাচিত হতে চাই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা কেউ যদি ভাবেন ক্ষমতায় আছি জিতেই যাব, তাহলে ভুল করবেন। আপনাকে জনগণের মন জয় করে, জনগণের ভোটেই নির্বাচিত হতে হবে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমাদের বিজয়ী হতে হবে।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে থেকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন দলের শীর্ষনেতারা। সেই অনুযায়ী, ডেঙ্গু ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেটও বিতরণ করছেন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা।

সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা সিটি নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করছি। তবে এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনার পর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকাবাসীর সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় ৪ বছর পর দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়র আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।পরে ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক।এর ফলে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম।

পূর্বপশ্চিমবিডি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com