বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বিচার বিভাগে করোনা শনাক্ত ৯৬৫ জনের, চিকিৎসাধীন ৫৯ বিচারক অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দিচ্ছে মুনিয়া আত্মহত্যা মামলায় বসুন্ধরার এমডিকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদনের শুনানি আজ হয়নি বাড়ছে ডেঙ্গু: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৭ নির্দেশনা নিজের আইসিইউ সিট ছেলেকে দিলেন মা, অবশেষে বাঁচলেন না কেউই সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে বৌভাত অনুষ্ঠান করায় ১০,০০০ টাকা জরিমানা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বসতবাড়ির রাস্তা বন্ধ করায় ৪টি পরিবার অবরুদ্ধ মানিকগঞ্জে লকডাউনে কঠোর অবস্থানে গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ মাধবপুরে কাশিমনগর বাজারে  অগ্নিকান্ডে ১০ দোকান পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি শফিকুল ইসলামের বদলী, নতুন ওসি মোজাফ্ফর হোসেনের যোগদান বড়াইগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বৃদ্ধাকে মারধর, বাড়িঘর ভাঙ্গচুর

বাংলাদেশে সচ্ছল পরিবারেও পুষ্টিহীনতা বড় সমস্যা-বিশ্বব্যাংক

খবরের আলো  ডেস্ক :
আয় দারিদ্রের হার কমে আসলেও পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশে এখনও বড় সমস্যা। অনেক সচ্ছল পরিবারেও অপুষ্ট শিশু বেড়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুষ্টিসমৃদ্ধ বা খাদ্য নিরাপত্তা রয়েছে এমন পরিবারগুলোতে ৫৫ ভাগ ছেলে এবং ৪৭ ভাগ মেয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে। ‘পভার্টি এন্ড শেয়ার্ড প্রসপারিটি ২০১৮: পাইসিং টুগেদার দ্য পভার্টি পাজল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ১৫ দশমিক ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে ২ কোটি ৪৪ লাখ মানুষ এখন দারিদ্র্য সীমার নিচে রয়েছে। বাংলাদেশের মতো উচ্চ দারিদ্র্য হারের অনেক দেশ নিজেদের অর্থনীতির আকার বাড়িয়ে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশের ঘরে নেমে আসে। চলতি বছরের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা দেয়া হয়েছিল সংস্থাটির পক্ষ থেকে। তবে এ লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। কারণ বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য হ্রাসের গতি কমে এসেছে। এজন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে আফ্রিকায় সাহারা অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক ক্যারোলিনা সানচেজ-প্যারামো উল্লেখ করেন আফ্রিকার দারিদ্র্য হ্রাস করতে আমাদের আরো দৃষ্টি দিতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে যাতে করে উন্নয়ন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয় এবং দরিদ্র মানুষের উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মূলত দৈনিক ১ দশমিক ৯০ ডলার আয়ের নিচে রয়েছে এমন মানুষদের দরিদ্র হিসেবে গণ্য করে বিশ্বব্যাংক। সে হিসাবে ২০১৩ সাল থেকে পরবর্তী দুই বছরে বিশ্বে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে ৬ কোটি ৮৩ লাখ। এ সময়ে বিশ্বে ৮০ কোটি ৪২ লাখ থেকে কমে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ কোটি ৫৯ লাখে। দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ২৭ কোটি ৪৫ লাখ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৬৪ লাখে। দুই বছরে দারিদ্র্য জয় করা মানুষের ৮৫ শতাংশের বেশি দক্ষিণ এশিয়ায়।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দরিদ্র মানুষের বসবাস আফ্রিকার সাহার অঞ্চলে। অঞ্চলটির ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ এখনও দরিদ্র। সংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ ৪১ কোটি ৩৩ লাখ। ২০৩০ সালে বিশ্বের প্রতি ১০ জন অতিদরিদ্র মানুষের ৯ জনেরই আবাসস্থল হবে এ অঞ্চলে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে দারিদ্র্যের হার অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, গত ২৫ বছরে শতকোটির বেশি মানুষ অতি দারিদ্র্যের বাধা অতিক্রম করেছে। বিশ্বে এখন চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে কম। বর্তমান প্রজন্মের জন্য এটা অনেক বড় অর্জন। তবে  ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য দূর করতে হলে আমাদের আরো অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্বব্যাংক নতুন হিসাব করে দেখিয়েছে যে, বিশ্বে বর্তমানে অর্ধেকের বেশি মানুষ দৈনিক সাড়ে ৫ ডলারের নিচে আয় করছে। ২০১৫ সালের হিসাবে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মানুষ দৈনিক গড়ে ৩ দশমিক ২০ ডলারের নিচে আয় করতো। যে কোনো দেশের অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে তাদের চাহিদারও পরিবর্তন ঘটে। উহাদরণ হিসেবে বলা হয়েছে, দরিদ্র দেশে একটি মানুষ চাকরি নেবার জন্য তার পোশাক এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা চায়। কিন্তু ধনী দেশের এই চাহিদা আরেটু বেড়ে ইন্টারনেট সুবিধা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং মোবাইল ব্যবহারের সুবিধা দাবি করে। সেজন্য দরিদ্র হিসাবে যদি আয়ের স্তর উপরে উঠানো হয়, সেক্ষেত্রে বিশ্বে দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com