মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

কিছু এনজিও রোহিঙ্গারা যাতে ফেরত না যান সেজন্য উস্কানি দিচ্ছেন- তথ্যমন্ত্রী

dav

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশি-বিদেশী কিছু এনজিও এবং তাদের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে ফেরত না যান সেজন্য উস্কানি দিচ্ছেন এবং প্ররোচিত করছেন। কারণ রোহিঙ্গারা এখানে থাকলে তাদের ফান্ড আসে। সেই ফান্ড পেয়ে এনজিও গুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়। তবে একান্ডে সব এনজিও জড়িত নয় কতিপয় কিছু এনজিও জড়িত তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত ঘোষণার কিছু আগে এনজিওদের একটি অ্যালায়েন্স বিবৃতি দিয়েছেন মিয়ানমারে নাকি সেই পরিবেশ নাই। তারা এক্ষেত্রে আগেও রোহিঙ্গাদের প্ররোচনা দিয়েছেন এখনও দিচ্ছেন। রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সংকট আছে এটা সঠিক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি রোহিঙ্গাদের অনেকে উস্কানি দিচ্ছেন যাতে তারা ফেরত না যান।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাত আটটায় চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্ম মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।
জাতীয় জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদেও সহসভাপতি বাবুন ঘোষ বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে বক্তব্য রাখেন রাউজান পৌরসভার মেয়র শ্রী দেবাশীষ পালিত, জন্মাষ্টমী পরিষদের সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট চন্দন তালুকদার।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। ১১ লাখ রোহিঙ্গা তখন বাংলাদেশে আসলেও এখন তা বেড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সেখানকার পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। উখিয়া টেকনাফের স্থানীয় জনগণ এখন সংখ্যালঘু। এবং তারা প্রথমে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে নানাভাবে সহায়তা করেছিল। কিন্তু এখন রোহিঙ্গারা নানা অপরাধের সাথে যুক্ত হয়েছে। ইয়াবাসহ নানা ধরণের পাচারের সাথে যুক্ত হয়েছে তারা। সেখানকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এজন্য ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও নানাভাবে বিরক্ত।
চীন ও ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। তাদের সহায়তা ও উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টার কারণেই কিন্তু রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছিল। কিছু এনজিও তাদের উস্কানি দিচ্ছে যাতে তারা ফিরে না যায়।
সহসাই আবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্সন শুরু হবে জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে ফিরে যান সরকারের পক্ষ থেকে কুটনৈতিক তৎপরতা সহ নানা উদ্যোগ চলমান আছে। মায়ানমারকেই মূলত বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গাদের মাঝে যে আস্থার সংকট আছে সেটি দুর করার জন্য মায়ানমারকেও এবিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সাথে যারা উস্কানি দিচ্ছেন তাদের চিহ্নিত করতে সরকার কাজ করছে।
ড. হাছান মাহমুদ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত ধর্ম মহাসভায় আগতদের উদ্দেশ্যে বলেন, সকল ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা। বাংলাদেশ রচিত হয়েছিল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান সবার রক্তের স্রােতের বিনিময়ে। সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভারত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছিল সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়কে মূখ্য করা হয়েছিল, আমাদেও জাতীগত পরিচয় গৌণ হয়ে যাচ্ছে, আমার ভাষার পরিবর্তন করার চেষ্টা হয়েছে, সেটা বাঙ্গালিরা মেনে নিতে পারেনি। সেজন্য বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্টার জন্য সকল ধর্মের মানুষের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যারা মুক্তিযদ্ধেও স্বপক্ষের রাজনীতি করি আমাদের প্রথম পরিচয় হলো বাঙালি। এরপর কে কোন ধর্মের সেটা দ্বিতীয় পরিচয়। সেটা আমরা ধারণ করি বিধায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। কিন্তু দেশে একটি গোষ্টি আছে কিছু রাজনৈতিক দল আছে তারা ধর্মীয় পরিচয়কে মূখ্য পরিচয় হিসেবে তুলে ধরতে চান। সেখানেই হচ্ছে আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য।
ধর্ম মহাসম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জন্মাষ্টমী পরিষদ জাতীয় পরিষদের সভাপতি শ্রী গৌরাঙ্গ দে, সাধারন সম্পাদক বিমল দে, হিন্দু কল্যান ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাখাল দাশ গুপ্ত, জন্মাষ্টমী পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব রত্নাংকর দাশ টুনু, কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ অশোক কুমার চট্টোপাধ্যয়,এডভোকেট তপন কান্তি দাশ প্রমূখ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com