বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

নুরুল স্যারের বেতের বাড়ির স্মৃতিচারণ করলেন তথ্যমন্ত্রী

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে সময়। যেটি বয়ে যায়, যা কখনও ফেরত পাওয়া যায় না। আর সেই সময়ের মধ্যে মূল্যবান সময় হচ্ছে মানুষের ছাত্রজীবন।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতি ছাত্র সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্র।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুসলিম হাইস্কুলের আঙিনায় আমি অনেক বছর কাটিয়েছে। আজকে আমি যে পর্যায়ে এসেছি তা এ স্কুলের শিক্ষা না পেলে পারতাম না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমার এখনও মনে আছে, ১৯৭৩ সালে আমি যখন এই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হই। তখন ওই স্কুলের মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা হয়। সভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ছাত্রদের মধ্যে থেকে নাম চাওয়া হলো। সেখান থেকে দুটি গ্রুপ করা হলো। একটি হচ্ছে সিনিয়র গ্রুপ আরেকটি হচ্ছে জুনিয়র গ্রুপ।

নামগুলো যখন নেওয়া হচ্ছিলো তখন আমি দর্শক সারিতে বসে ছিলাম। এ সময় আমার বন্ধু অনুপম বড়ুয়া আমাকে না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। অনুপম বললো, তুই নাম দে। আমি একটু দ্বিধাগ্রস্ত হলে সে বলে, তুই এমনি ফটর ফটর করছ, এখন নাম দে। তারপর আমি নাম দিলাম।

তারপর বক্তৃতা শেষে যখন ফলাফল ঘোষণা করা হলো, তখন দেখি আমি প্রথম হয়েছি। এটা ছিলো আমার জীবনের প্রথম । আমি প্রথম হলাম এবং সেটা আমাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। আমি স্কুলের সব বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতাম, যতবার অংশগ্রহণ করেছি, দ্বিতীয় দুয়েকবার হয়েছি, কিন্তু তৃতীয় কোনোসময় হয়েছি বলে আমার মনে পড়ে না।

‘তখন জাতীয় টেলিভিশনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হতো। সেই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমি টিম লিডার হিসেবে অংশ নিতাম। যখন কলেজে ভর্তি হই তখন আমাকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সেটি করার পেছনে বড় বিবেচনা ছিল যে, আমি ভালো করে বক্তৃতা দিতে পারি। যারা করেছিল, তারা কিন্তু এখনও বেঁচে আছে। এখনও রাজনীতি করেন। অর্থাৎ এই স্কুলের শিক্ষা আমাকে আজকের জায়গায় দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে,’- যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমার মনে আছে, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমি একবার হাইবেঞ্চের ওপর বসে বক্তৃতা দিচ্ছিলাম। আমার সামনে বন্ধুরা বসা ছিল। তারা হঠাৎ আমার দিকে একটু অন্যভাবে তাকাচ্ছিল। আমি মনে করেছি, এমনিতে তাকাচ্ছে। পেছনে যে স্যার এসেছেন, তারা আমাকে বলেনি। তারা ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে গেছে। আমাকে কিছু বলতে পারছে না। হঠাৎ পেছনে বেতের বাড়ি, কিছু বুঝে উঠার আগে। নুরুল ইসলাম স্যার মেরেছিলেন, স্যার এখন বেঁচে নেই। তিনি বিজ্ঞান পড়াতেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি হাইবেঞ্চে বসিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরের কথা জীবনে আর কোনোদিন আমি হাইবেঞ্চে বসিনি।

স্কুলে পড়াকালীন বয় স্কাউটের দলনেতা, জুনিয়র রেডক্রস টিমের সদস্য ও জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল বিতর্ক দলের দলনেতা ছিলেন বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নেতৃত্ব দেয়ার এসব কাজ করতে গিয়ে পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলাম। ইসহাক স্যার (মুসলিম হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক) এখানে আছেন। তিনি একবার আমার বাবাকে গিয়ে বললেন যে, আপনার ছেলে তো এখন নেতাগিরি করা শুরু করেছে, কিছু করেন। আবার বাবা একটু মেজাজি মানুষ ছিলেন, বাবা আমাকে কষে একটা পিটানো দিয়েছিলেন। আমার এখনও মনে আছে। স্যারের সঙ্গে কয়েকদিন আগে দেখা করতে গিয়েছিলাম, সেই স্মৃতিটা স্যারকে আমি বলেছিলাম। এই স্কুলের বহু স্মৃতি।

‘আমাদের ব্যাচের ছাত্র ছিল আইয়ুব বাচ্চু। সে দেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট ছিল। স্কুলের বর্ষপূতি অনুষ্ঠানে আইয়ুব বাচ্চু এসেছিলেন। আজকে এখানে এসে মনে হচ্ছে, আবার ছেলেবেলায় ফিরে যাই। বন্ধুদের অনেকে এখানে আছে। আসলে ছোটবেলায় ফিরে যাওয়ার তো সুযোগ নেই। আর এখানে এসে আমার মনে হচ্ছে, আমার শিক্ষক-অভিভাবকরা আমাকে যেভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেগুলো যদি পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতাম, জীবন চলার পথে আরও বহুদুর এগিয়ে যেতে পারতাম। মন্ত্রী হওয়া, মন্ত্রীর আসনে বসা একমাত্র জীবন চলার পথে বহুদুর এগিয়ে যাওয়া নয়। বহুদুর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও বহু অনুসঙ্গ আছে,’- বলেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবনের সময়টি যে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবে, সে জীবনে উন্নতি লাভ করবে। জীবন চলার পথে দেখেছি, অনেক মেধাবী ছাত্র পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি এবং হারিয়ে গেছে। তাই যারা জিপিএ-৫ পেয়েছো, তাদের অনুরোধ জানাবো এই ভালো ফলাফলটা ভবিষ্যতে আরও যাতে ভালো করতে পারো, তোমাদের সেই প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আর যারা পাওনি, তাদের অনুরোধ জানাব, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ, বিল গেটস, আজকে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছেন মাইক্রোসফটের মাধ্যমে।

‘বিল গেটস কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেল করার কারণে পরপর দুবার বহিষ্কৃত হয়েছিল। যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিল গেটস বহিষ্কৃত হয়েছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিল গেটসকে নিয়ে গবেষণা হয়। তার অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রকল্প পরিচালিত হয়। সুতরাং ফলাফল খারাপ হলে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এরকম অনেক মানুষ পৃথিবীতে আছেন যারা ফলাফল ভালো করেনি, কিন্তু জীবন চলার পথে অনেককে ছাড়িয়ে গেছেন। তাই যারা সাফল্য অর্জন করোনি, তারা যারা সাফল্য অর্জন করেছে তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার সংকল্প নিয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাও।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যখন বিদেশে পড়তে যাই, আমার এক বন্ধুর সঙ্গে একটা রুম শেয়ার করতাম। প্রায় সময় তাকে শুধু পড়াশোনা করতে দেখতাম, তার নাম ছিল সঞ্জয় লাহিরি। আমি তাকে বলতাম, সঞ্জয় বাবু আপনি তো সময়কে ওষুধের মতো ব্যবহার করছেন। তখন সে বললো যে, জীবনে বহু সময় পার করে এসেছি, এখন সময়কে ওষুধের মতো ব্যবহার করা ছাড়া উপায় নেই। আমি তোমাদের বলব, সময়ের সৎ ব্যবহার করার জন্য।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com