শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

কাবিন থেকে ‘কুমারী’ শব্দ উঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

খবরের আলো রিপোটঃ

 

 

মুসলিমদের বিয়ের কাবিননামা ফরমের ৫ নম্বর কলাম থেকে কনের বেলায় ‘কুমারী’ শব্দটি বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কুমারী শব্দের স্থলে ‘অবিবাহিতা’ লিখতে বলেছেন আদালত। একইসাথে কাবিননামার ফরমের ৪ এর ক উপধারা সংযোজন করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বিবাহিত, অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত কিনা তা লিপিবদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। খবর ইউএনবির

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন জেড আই খান পান্না ও আইনুন্নাহার সিদ্দিকা। সম্পূরক আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

জেড আইন খান পান্না বলেন, আদালত বলেছেন ‘কুমারী’ শব্দটা থাকা ঠিক না। সেটা বাদ দেওয়া এবং কাবিননামার ৪ নম্বর কলামে বরের ক্ষেত্রে সে বিবাহিত কিনা তালাকপ্রাপ্ত কিনা এবং বিপত্নীক কিনা সেটা লিখতে হবে।

আইনুন্নাহার সিদ্দিকা বলেন, ৫ নম্বর কলামের ‘কুমারী’ শব্দে আমাদের আপত্তি ছিলো। কুমারী বিষয়টা পুরোপুরি গোপনীয়তার ব্যাপার। রাইট টু প্রাইভেসি অনুযায়ী এ রিট করেছি।

তিনি আরও বলেন, কাবিননামার ফরমের (বাংলাদেশ ফরম নম্বর-১৬০০ ও ১৬০১) পাঁচ নম্বর কলাম কেন বৈষম্যমূলক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন ‘কুমারী’ শব্দটি বিলোপ করে কাবিননামা সংশোধন করা এবং বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো ক্রমিক কাবিননামায় উল্লেখ করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছিলো।

এই রুলের শুনানিতে ধর্মীয় মতামত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন।

১৬ জুলাই এ বিষয়ে ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসেন বলেন, ৫ নম্বর কলামে এটা থাকা উচিত না। কারণ এটি ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তাকে ক্ষু্ণ্ণ করে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এগুলো থাকা বাধ্যতামূলক নয়। মুসলিম শরীয়তে এ ধরনের শর্ত নেই।

ওই অনুচ্ছেদটি বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি করে।

রিটের বিবাদীরা হচ্ছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রিন্টিং এবং প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচাকলসহ সংশ্লিষ্টরা।

আবেদনকারীদের দাবি, কাবিননামায় শুধু কনের বৈবাহিক অবস্থা ও তথ্য সন্নিবেশিত করার জন্য অনুচ্ছেদ রয়েছে। তবে বরের বৈবাহিক অবস্থা-সম্পর্কিত কোনো অনুচ্ছেদ নেই। এটা নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক। সংবিধান অনুসারে কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। ওই অনুচ্ছেদটি সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com