বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

যমুনার ভাঙনে সব হারিয়ে এক মাস ধরে কবরস্থানে বসবাস

শনিবার, ৩১ অগাস্ট : যমুনা নদীর ভাঙনে সব হারিয়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী গ্রামের তিনটি পরিবারের ১৫ জন সদস্য গত এক মাস ধরে কবরস্থানে বসবাস করছে। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। কবরস্থানে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এ পর্যন্ত কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। নদীভাঙনে শিকার মানুষগুলো  শত বছরের পুরনো মিটুয়ানী কবরস্থানে টিনের ঝুপরিঘর তুলে ছোট ছোট শিশুসন্তান নিয়ে অতি কষ্টে দিন পার করছে। শুধু তাই নয়, যমুনাগর্ভে সড়ক বিলীন হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বাধ্য হয়ে ওই কবরস্থানের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করছে। এতে হরহামেশা কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, শুধু তিনটি পরিবারই নয়, গত পাঁচ বছরে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে চৌহালী উপজেলার খাসপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়নেরর ভূতেরমোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকার সাড়ে চার হাজার ঘরবাড়ি, ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাকা সড়ক, তিনটি মসজিদ, দুই হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যমুনার ভাঙ্গনে মিটুয়ানী ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের দুই শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কবরস্থানে আশ্রয় নেওয়া আতর আলী (৭৫) বলেন, ‘প্রয়োজনে মানুষ কি না করতে পারে। জানি  কবরস্থানে বসবাস ধর্মীয় বিধান বহির্ভূত, কিন্তু কোনো পথ না পেয়ে আমরা এখানে বসবাস করছি।’

এ ব্যাপারে খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, ভিটামাটি হারানো এ পরিবারগুলোকে মানবিক কারণেই কবরস্থান থেকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত তাদের পুনর্বাসন প্রয়োজন। চৌহালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার বলেন, ‘এই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মাঠ, পরিত্যক্ত জায়গা ও কবরস্থানে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি।’

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘এবার যমুনার ভাঙনে আড়াই হাজার পরিবার ভিটামাটি হারিয়েছে। মিটুয়ানী কবরস্থানের ভেতরে যে কয়টি পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছে, শুনেছি তারা একেবারেই অসহায়। বসতভিটা যমুনায় বিলীন হওয়ায় তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। মানবিক কারণে তাদের সেখানে থাকতে দেওয়া হয়েছে। খাস জায়গা পেলেই তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনর্বাসন করা হবে।’কালের কণ্ঠ অনলাইন

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com