বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২০, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ধামরাইয়ে সুয়াপুর ইউনিয়নে ব্রীজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে বিশাল জনসভা নাটোরে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৪০ জন আটক মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা

বাকেরগঞ্জে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, অবাধে চলছে ইলিশ নিধন

খবরের আলো :
মুশফিকুর রহমান শাওন বরিশাল জেলা  প্রতিনিধি: বাকেরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের করা নজরদারির মধ্যেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অপেক্ষা করে বাকেরগঞ্জে অবাধে চলছে মা ইলিশ নিধন। জেলেদেরকে জরিমানা করে, জাল পুড়িয়ে এবং নৌকা বিনষ্ট করেও থামানো যাচ্ছে না ইলিশ ধরা। প্রশাসন যেন জেলেদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির মৌসুমী জেলেরা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নির্বিচারে ধরছে শত শত মন ডিমওয়ালা মা ইলিশ। কেউ মাছ ধরছে, কেউ জেলেদের জালে ধরা মাছ ছিনিয়ে নিয়ে ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছে। পুলিশের ভয়ে অনেকে মাছ ধরে নৌকাতে না রেখে নদীর পারে স্বজনদের বাড়িতে লুকিয়ে রাখছে। কেউ কেউ মাছ ক্রয় করে মওজুত করছে এবং ঢাকাতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে পাঠাচ্ছে। জেলেরা যেমন মা ইলিশ ধরার প্রতিযোগীতায় নেমেছে। তেমনি নদীর পার এলাকায় দিন-রাত ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয় চলছে। বিশেষ করে ভোর বেলা এবং বিকাল থেকে রাত ভর চলে মাছ ক্রয়-বিক্রয়। ইলিশ মাছের দাম অনেক কম হওয়াতে ক্রেতার চাহিদাও বেড়েছে। জানা গেছে, উপজেলার দুর্গাপাশা, শর্শি, সাদিস, নলুয়া, নারঙ্গল, নিয়ামতি পাশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। সারাদেশে ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ হলেও বারেগঞ্জে মাছ ধরা থেমে নেই। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নির্বিচারে চলছে মা ইলিশ নিধন। নদীতে জাল ফেললেই ধরা পড়ছে চকচকে রূপালী ইলিশ। যা আর কিছু দিন গেলেই নদীতে ডিম ছাড়বে। নির্দিষ্ট কিছু অসাধু জেলেদের মোবাইল ফোনে ফোন দিলেই মিলে ছোট-বড় মাঝারিসহ সব ধরণের ইলিশ মাছ। সন্ধ্যা হলেই নদীর পার এলাকায় ইলিশ মাছ ক্রয়-বিক্রয়ের ধুম পড়ে যায়। অনেকে গোপনে ব্যাগে করে বাসায় বা বাড়িতে পৌঁছে দেয়। অভিযোগ রয়েছে এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়ে মা ইলিশ মাছ শিকার করাচ্ছে। বিনিময়ে জেলেদের নিকট থেকে তারা মোটা অংকের টাকা কামাচ্ছেন এবং বিনা পয়সায় মাছ নিয়ে ফ্রিজ ভরছেন। নদীতে প্রচুর মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা মা ইলিশ শিকারে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। রাতের অন্ধকারে জেলেরা ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ মাছ ধরে মাটির নীচে, ঝোপের ধারে বাড়ির বিভিন্ন গোপন স্থানে মওজুদ করছে। যখন কোনো ক্রেতা ফোন দেয় তখন ব্যাগে করে মাছ তার নিকট পৌছে দেয়া হয়। দিনের বেলায় প্রশাসন তৎপর থাকায় জেলেদের বেশ বেগ পেতে হয়। কিন্ত রাতের বেলায় প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকায় জেলেরা নির্ভয়ে মাছ ধরছে। আর ফোনে ফোনে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এ মাছ। মাছের পাইকাররা ফোনের মাধ্যমে মাছ ক্রয় করে ভোর হবার আগেই পিক-আপ ভ্যান ও সিএনজিতে করে নিয়ে যাচ্ছে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, বর্তমানে পেশাদার জেলেদের চেয়ে সৌখিন ও অপেশাদার জেলেরাই বেশী মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। বিশেষ করে চর এলাকার লোকজন মাছ ধরছে এবং বিক্রি করছে। এদিকে মাছের দাম কম হওয়াতে ক্রেতার সংখ্যাও বেড়েছে। অনেকে ঢাকা থেকে আসছে মাছ ক্রয় করতে। আগে এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হতো ১০/১২শ টাকা আর এখন সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২/৩শ টাকায়। ছোট সাইজের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি করছে ১/১শ৫০ টাকা দরে। যা সকল শ্রেণির মানুষ ক্রয় করতে পারছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে নদীর পার এলাকায় এক শ্রেণির দালালের সমাগম দেখা যাচ্ছে। এ দালালরা জেলে এবং প্রশাসনের সাথে মধ্যস্ততা করে থাকে। শুধু তাই নয়, এরা নিজেরা ট্রলার এবং ডিঙ্গি নৌকা যোগে জেলেদের নিকট থেকে মাছ ক্রয় করে এনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের লোকবল কম তারপরও প্রতিদিন অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১ বার মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ১৩০০০ মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ১ টি মামলা হয়েছে এবং ১ জন জেলেকে জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। ৪০/৪৫ মেট্রিকটন মাছ জব্দ করে উপজেলার বিভিন্ন এতিম খানায় দেয়া হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com