সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বীণাপানি বিদ্যাপীঠ

খবরের আলো :

 

 

কৃষ্ণ কুমার শুভ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা জেলা সদরের বাংলা বাজার সংলগ্ন অবস্থিত দরিদ্র মেধাবী, কোমলমতি শিশুদের মাঝে অবৈতনিকভাবে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে বীণা পানি বিদ্যাপীঠ। শিক্ষকদের বেতন, শিক্ষার্থীদের বই, খাতা, কলম, পোষাক বিনামূল্যে প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহ করে আসছে।

এলাকার অবসরপ্রাপ্ত রাজস্ব কর্মকর্তা এবং এনজিও উপদেষ্ঠা অসীম কুমার রায় ২০১১ সালে বীণাপানি বিদ্যাপীঠ স্ব-উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিদ্যাপীঠে নার্সারী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ ৮জন সহকারী শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান করে আসছেন। প্রতি শ্রেণিতে ২০ জন করে মোট ১৪০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। আধাপাকা দুইটি ভবনে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়সহ মোট ৬টি কক্ষ রয়েছে। মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এ বিদ্যাপীঠে মন্দির ও নিয়মিত খেলা-ধুরার জন্য খেলার মাঠ রয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই বছরের শুরুতে ড্রেস, জুতা, খাতা, কলম, শীতের কম্বল, ছাতা প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলে সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে। পরীক্ষার ফিস প্রতিষ্ঠান থেকেই দেওয়া হয়। প্রতি বছর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাসে দুটি পাক্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নার্সারী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১ম, ২য় স্থান অধিকারীদের মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান করা হয়। এ বিদ্যাপীঠটি ৭ সদস্য বিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানে পিএসসি পরীক্ষার ফলাফল বরাবরই ভাল। পিএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যাপীঠ থেকে ২০১৩ সালে ১জন, ২০১৪ সারে ৪ জন, ২০১৫ সালে ৪ জন এবং ২০১৬ সালে ৩ জন, ২০১৭ সালে ৫ জন, ২০১৮ সালে ১১ জন বৃত্তি পেয়েছে।

বীণাপানি বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষিকা হাফছা আক্তার মনি জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে চলে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুরূপ পরিবেশে আরেকটি প্রতিষ্ঠান এলাকায় নেই। যা থেকে ওই শিক্ষার্থী তার পরবর্তী জীবনে উন্নত পরিবেশে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক আরও নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। পাঠদান, খাতা দেখা, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। উদীয়মান শিক্ষার্থীদের মেধা ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে আরও শ্রেণি বাড়ানো একান্ত আবশ্যক বলে মনে করি।

বীণাপানি বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীর অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, বীণাপানি বিদ্যাপীঠে আরও শ্রেণি বাড়ানো প্রয়োজন। যাতে এখান থেকে পিএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অনুকূল ও আদর্শ পরিবেশে অর্জন করতে পারে।

বীণাপানি বিদ্যাপীঠের প্রধানশিক্ষক অজিত সিংহ জানান, শিক্ষক যদি নিবেদিত হয়, আত্মপ্রত্যয়ী হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা যেমন আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠে। অপরদিকে বিদ্যালয়ের সুনাম যশ বৃদ্ধি পায়। প্রধানশিক্ষকের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে মূখ্য। এভাবেই সম্ভব একটি আদর্শ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি ভাবে প্রত্যেকটি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিমূলক মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করি।

বীণা পানি বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অসীম কুমার রায় জানান, শিশু শিক্ষার্থীর ইধংরপ যেন ঝঃৎড়হম হয়। তাহলেই সে ভবিষ্যতে অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। এলাকা থেকে দরিদ্র শিশুদের মেধাবী হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। যাদের অভিভাবকরা মেধা থাকার পরও অর্থ ও উন্নত পরিবেশের অভাবে শিক্ষার্থীদের আদর্শ অর্জন করাতে ব্যর্থ হন সে সব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা অর্জনের জন্যই আমার এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার একমাত্র উদ্দেশ্য।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com