মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য মির্জা ফখরুলের উচিত সরকারকে সাধুবাদ জানানো- তথ্যমন্ত্রী

খবরের আলো :

 

 

চট্টগ্রাম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ (বাসস) : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের উচিত দেশে যেকোন অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানের জন্য সরকারকে অভিনন্দন এবং সাধুবাদ জানানো। এবং নিজেদেও অতীতের অপকর্মের জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলামের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজে অবৈধভাবে অর্জিত কালো টাকা সাদা করেছিলেন জরিমানা দিয়ে, কোকোর দূর্নীতি ধরা পড়েছে সিঙ্গাপুরে, তারেক রহমানের দূর্নীতির বিরুদ্ধে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। দূর্নীতির দায়ে তারেক রহমানের দশ বছর সাজা হয়েছে। এতিম খানার জন্য টাকা এসেছে সে টাকা এতিম খানার একাউন্টে না রেখে নিজের ব্যক্তিগত একাউন্টে নিয়ে খালেদা জিয়া নিজে দূর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আজকে জেল খানায় আছেন। যাদের নেতা-নেত্রী দেশকে দূর্নীতিতে আকুণ্ঠ নিমজ্জিত করেছিল তাদেরতো এনিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকারই নেই।
শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে দি সিনিয়র সিটিজেন্স সোসাইটি- চট্টগ্রাম আয়োজিত বয়োজ্যেষ্ট নাগরিক সম্মাননা অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে আওয়ামীলীগের দূর্নীতির কল বাতাসে উড়ছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তেব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
দি সিনিয়র সিটিজেন্স সোসাইটি-চট্টগ্রামের সভাপতি দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন দি সিনিয়র সিটিজেন্স সোসাইটির কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক আবু বকর ছিদ্দিকী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজহার মিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের সাধারন সম্পাদক লায়ন এম এ শামসুল হক।
অনুষ্টানে সংগঠনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী এ. এ. এম জিয়া হোসাইন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান শিক্ষাবিদ ড. প্রণব কুমার বড়–য়া, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, কবি ও লেখক সাংবাদিক অরুণ দাশ গুপ্ত ও উদীচী চট্টগ্রামের সভাপতি লেখক বেগম মুশতারি শফিকে খ্যাতিমান বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে দূর্নীতিকে প্রাতিষ্টানিক রূপ দেয়া হয়েছিল। হাওয়া ভবন তৈরী করে সমস্ত ব্যবসা থেকে ১০ পার্সেন্ট করে কমিশন নেওয়া এবং দেশের সমস্ত ব্যবসার সাথে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে তারেক জিয়া ও বিএনপির বড় বড় মন্ত্রীদের সংশ্লিস্টতা আমরা দেখেছি। বিএনপির অপকর্ম ও দূর্নীতির কারণেই তাদের শাসন আমলের পাঁচবছর ধরে প্রতিবছরই বাংলাদেশ লজ্জাস্করভাবে দূর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে দেশ পরিচালনা করছেন। সেকারণে দূর্নীতিদমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দূর্নীতি বা অনিয়ম যেগুলো হচ্ছে সেটির বিরুদ্ধে বর্তমানে ঢাকা শহরে অভিযান চলছে, চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে। দূনীতির বিরেুদ্ধে যে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে সেটিরই বহিঃপ্রকাশ। এজন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উচিত ছিল সরকারকে অভিনন্দন জানানো।
শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার বড়বোন বঙ্গবন্ধুৃ হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। এরপর বের হয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেছেন তিনি বসা থেকে দাঁড়াতে পারছেননা, হাতে ধরে মূখে খাবার নিতে পারছেননা এবং খালেদা জিয়ার জীবন নাশের আশংকা করছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার হাতে পায়ের ব্যথা এটি বহু পুরনো শারিরীক সমস্যা। এই শারিরীক সমস্যা নিয়েই তিনি দেশের দু’বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দু’বার বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বিএনপির মতো দলের চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সুতরাং এসমস্যাকে সময়ে সময়ে একটু বলে বিএনপির নেতারা  জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। শুক্রবার তাঁর পরিবার দেখা করে বিএনপি নেতারা যে কথাগুলো বলেন, সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি করেছেন।
সরকার খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি যাতে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সেবা পান সেব্যাপারে সরকার যত্নবান আছে। সেজন্য বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালে তাকে রাখা হয়েছে।  দেশের প্রথিতযষা চিকিৎসকরা এই হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত। তিনি যখন কারাগারে ছিলেন, তখনও সার্বক্ষণিক একজিন ফিজিওথেরাপিস্ট ও একজন চিকিৎসক নিয়োজিত ছিল। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেও তার পছন্দনীয় আয়াকে সাথে রেখেছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো ঘটেনি।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্লাবে মদ জুয়াসহ নানা অনৈতিক আসর বসে এতে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও কোন অভিযানের সুযোগ আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ঢাকায় অভিযান চলছে চট্টগ্রামেও হয়েছে। একেবারে হয়নি তা নয়। যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাবে সেখানেই এধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিনিয়র সিটিজেনদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা রাষ্ট্রকে উন্নত করার পাশাপাশি একটি সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এস্টেট ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। শুধুমাত্র বস্তুগত উন্নয়ন দিয়ে মূলত দেশ গঠন করা সম্ভব, মানবিক ও কল্যাণমূখী রাষ্ট্র গঠন করা ভিন্নকাজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন। দেশের দুঃস্থ সিনিয়র সিটিজেনদের কথা মাথায় রেখে তিনি বয়স্কভাতা চালু করেছেন। প্রতিবছর বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ও পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। ইউরোপের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এস্টেট গুলোতে সর্বক্ষেত্রে পেনশন চালু আছে। সে লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে সিনিয়র সিটিজেনরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুযোগ সুবিধা পান। সর্বক্ষেত্রে পেনশন চালু করায় হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। এবং সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে আছে।
তিনি বলেন, বিগত সংসদে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে একটি আইন পাস করেছে সরকার। কোন সন্তান যদি পিতা মাতার প্রতি কর্তব্য পালন নাকরে তাহলে পিতামাতা সেই আইনের মাধ্যমে আদালতে যেতে পারেন।  এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

 

 

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com