বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের আতঙ্কের এক নাম অধ্যাপক সাঈদুর রহমান

খবরের আলো :

 

 

মো: আমিন হোসাইন : টার্গেট তার সুন্দরী নারী। যদি হয় তার স্বামী প্রবাসী তাহলে তো কথাই নাই। ছাত্রীদের প্রতি তার নজর আলাদা। তাও বাবার নজর! ছাত্রীদেরকে মা ডেকেই নিজেকে বাবার আসনে বসান তিনি। এরপরই সেই ছাত্রীর সাথে জোড়পূর্বক শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হন। কাউকে কলেজে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে ম্যানেজ করে আবার কাউকে মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে শারিরীক সম্পর্ক করতেন তিনি। তার যৌন লালসা থেকে বাদ পড়েনি নিজ স্ত্রীর বড় ভাইয়ের মেয়েও। নাম তার সাইদুর রহমান ওরফে লম্পট সাইদুর। তিনি মিরপুর কমার্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান। অত্র কলেজ এলাকার অনেকেই তাকে লম্পট ও আরেক পরিমল হিসেবে নাম দিয়েছে। কলেজ পাড়ায় তার নাম শুনলেই ছি ছি করে থুথু পেলেন সাধারণ দোকানদাররা। রাজধানীর মিরপুরের কমার্স কলেজের প্রতিদিনের ঘটনা এটি। ছাত্রী হোস্টেলে সর্বশেষ উপরের তলায় করেছেন তার রোমাঞ্চ করার রুম। একাধিক শিক্ষিকা ও ছাত্রীর সাথে শারিরীক সম্পর্ক করেছেন এই রুমে।

সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী দুই নারী শিক্ষিকা কলেজের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি ও মহিলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে এ অভিযোগ তদন্ত না করে গভর্নিং বডি উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উত্থাপন করে আসল ঘটনার তদন্ত আড়ালে রেখে দামাচাপা দিতে চেষ্টা করে আসছে। অনুসন্ধানে আরো জানাযায় ভুক্তভোগী বাংলা বিভাগের প্রভাষক জানায় আমাকে এখন বিভিন্ন ভাবে সাঈদুর রহমান হুমকি দিচ্ছে। এই ব্যপারে আমি থানায় একটি মৌখিক অভিযোগও করেছি।

কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এর সত্যতা জানা যাবে।আর সাইদুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উল্টো অভিযোগ করেন, দুই নারীই তার কাছ থেকে সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। একজনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।অন্যজন তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতেন। এ অবস্থায় ভুক্তভোগী দুই নারী ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, গত জুনে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রথম এক নারী শিক্ষক অভিযোগ করেন। এরপর জুলাইয়ে অভিযোগ করেন দ্বিতীয়জন।তবে কোনও প্রতিকার না পেয়ে দুজনই গত ২২ আগস্ট মহিলা পরিষদে অভিযোগ (নং ৯২২৯/১৯) করেন।মহিলা পরিষদ এটি আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

যৌন হয়রারির শিকার এক নারী প্রভাষক বলেন, ‘বাংলা বিভাগের প্রধান সাইদুর রহমান আমাকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করেছে।২০১৬ সালের মাঝামাঝি আমাকে ফোন দিয়ে মিরপুর যেতে বলেন।তিনি বিভাগের প্রধান হওয়ায় যেতে বাধ্য হই।তিনি আমাকে হাঁটার জন্য কেডস কিনে দেওয়ার কথা বলেন।আমি নিতে না চাইলেও তিনি জোর করে কিনে দেন।এরপর তার সঙ্গে গাড়িতে উঠলে তিনি জোর করে গায়ে হাত দেন।এছাড়া ২০১৬ সালের শেষ দিকে তিনি আমাকে ওষুধ কেনার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসে অশ্লীল আচরণ করেন।এছাড়াও বিভিন্ন সময় তিনি তার কথাবার্তার মাধ্যমেও হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ এই প্রভাষকের।

তিনি বলেন, ‘আমি ছাড়া আরও কয়েকজন নারী শিক্ষক তার বিরুদ্ধে এমন যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন।তখন কোনও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি কলেজে ছিল না, তাই আমরা অভিযোগ দিতে পারিনি। মৌখিকভাবে জানালেও কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।এই নারী প্রভাষক আরও বলেন, ‘আমি ছাড়া আরও এক নারী শিক্ষক এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ করেছেন।আমাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্ত না করে কলেজ কর্তৃপক্ষ উল্টো আমাদের সঙ্গে অন্য দুজন পুরুষ সহকর্মীর নাম জড়িয়ে কুৎসা রটিয়েছে।আমাদের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জার এডিট করে পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন কথোপকথন ফেসবুকে ভাইরাল করেছে।

ভুক্তভোগী এই প্রভাষক বলেন, ‘আমরা উপায় না পেয়ে মহিলা পরিষদে অভিযোগ দিয়েছি।কিন্তু যৌন হয়রানির বিচার পাবো কিনা, তা নিয়ে শঙ্কিত।কারণ, কলেজে দুটি গ্রুপ।তারা খুব শক্তিশালী।তারা আমাদের অভিযোগের তদন্ত এখনও শুরু করেনি।

ভুক্তভোগী অপর শিক্ষিকা বলেন, ‘আমি গত জুনে অভিযোগ করেছি।কিন্তু এখনও কোনও তদন্ত হয়নি। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের তদন্ত করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরো জানাযায় সাঈদুর রহমান ওরফে অনেকে বলে পরিমল ডনা নামে এক মেয়ে নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায় বলে অনুন্ধানে বেরিয়ে আসে। সে এই পর্যন্ত ডনাকে নিয়ে নেপাল একবার কোলকাতা ৩ বার সিলেটে অগনিতবার ঘুরতে গিয়েছিল এবং তার ম্যানেজমেন্ট ডিপাটমেন্ট এর সহকারী অধ্যাপকের শ^শুরবাড়ী ও তার ননদের বাড়ীতে ডনাকে ছোট বৌ বলে পরিচয় দিয়ে একাধিকবার রাত্রি যাপন করেছেন। আর তার এই সফরে সফর সঙ্গী হিসাবে যেতেন তারই ম্যানেজমেন্ট ডিপাটমেন্ট এর একজন শিক্ষিকা ও তার স্বামী । অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে সাঈদুর রহমান একটি পর্যায় ডনাকে অন্তসত্বা করে ফেলে। মানসম্মান এর ভয়ে ডনা তখন মুখ খোলে নাই সাঈদুর হমান টাকার মাধ্যমে তাকে চুপ করিয়ে দেয়। সাঈদুর রহমানের হাতে বাংলা বিভাগের একাধিক শিক্ষিকা জিম্মি রয়েছেন বলে জানান। শিক্ষিকারা তার কথা মত না চলে চাকুরী চলে যাবে বলে হুমকি দিয়ে আসছেন অধ্যাপক সাঈদুর রহমান মিয়া। তার বাংলা বিভাগের এক প্রাভাষককে ফোন দিয়ে বিভিন্ন সময় কুরুচিপূর্ণ কথা বার্তা বলতেন । বিভিন্ন সময় সাঈদুর রহমান রাজনৈতিক প্রভাব ও আমার হাত অনেক উপর পর্যন্ত বলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকাদের হুমকি দিয়ে আসতেছেন। অত্র প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শিক্ষার্থীরা তাদের ফেইজবুক কমন্টেস এ লেখেন
অযসবফ উরহধ : লেখেন: উনি সবাইকে ছেলের বৌ বানায়।
গড়ষু তধসধহ: লেখেন: বন্ধুবিকে ডিটেনশন এই নিয়ে ঠিক এমন কিছুই করছিল। হোস্টেলে থাকতো তাই ভয়ে কাউকে বলারও সাহস পায় নায় । মেয়েটার কান্না জাস্ট চুপ করে দেখছি। সেই দিন থেকে উনাকে টিচার ভাবার রেসপ্যাক্ট করার কোন ইচ্ছা হয় না।
অনরফঁৎ জধযসধহ: লেখেন: স্যার কলেজে থাকাকালীন ক্লাসে ছাত্রীদের সাথে অসংগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর অনেক ঠাট্টা করতেন। স্যার অনেক আগে থেকেই বিতর্কিত। এটা নতুন কিছু নয়, প্রকাশ মাত্র।

ঝঁষঃধহধ জরপযব: স্টুপিটের বাচ্চা আমার লাইফটা হেইল করেছে। বাবু বাবু আর কয়দিন শালা নাস্তিক।
গবযৎরহ অহধহ ঘরফযর: আমি অনেক আগেই শুনেছি অনার কিছু প্রবেলেম আছে। বাট এখান বিলিভি করতে পারি নাই যে ওনার মত লোক এই রকম হতে পারে না মে বি। বাট যা রটে তা কিছু টা হলেও ঘটে। এটা আগের ঘটনাগুলোর জন্য হউক কিংবা এখনকার ঘটনার জন্য হউক।

সাঈদুর রহমান মিয়া ছাত্রী হোস্টেলের নিছে একটি বাসরঘরের মত অফিস তৈরী করে রেখেছেন বলে যানা যায়। সেখানে বিভিন্ন সময় ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের নিয়ে ড্রিং ও ধুমপানে মগ্ন থাকতেন এবং গোলাপ ফুল দিয়ে বলত “তোমার জন্যই এই ফুলটি গাছে ফুটে ছিল”

সাঈদুর রহমান মিয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষিকাদের বিভিন্ন উপলক্ষ্যে ত্রি-পিচ, শাড়ী, পার্স ইত্যাদি উপহার দেওয়া প্রফেসর মো: সাঈদুর রহমান মিয়ার একটি কুটকৌশলমাত্র। ২০১৮ সালে কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা উপলক্ষে তিনি এক প্রভাষককে ও উক্ত বাংলা বিভাগের আরও ৪ জন শিক্ষিকাকে শাড়ী উপহার দনে। তার দেওয়া উপহারকে কেউ না করে পারে না। তাই সবাই এইসব উপহার প্রায় অনিচ্ছাসত্বেও গ্রহন করতে বাধ্য হয়। তার কথামত না চললে বিভিন্ন অযুহাতে তিনি টিউটরিয়াল ক্লাস থেকে বাধ দেওয়া শো-কোস প্রদান ও চাকুরী স্থায়ী না করার হুমকি প্রদান করেন। উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি সু-কৌশলে উপহার নিতেও বেশ স্বাচ্ছন্দবোধ করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গভর্নিং বডির প্রভাবশালী সদস্য মিয়া লুৎফর রহমান গভর্নিং বডিতে দুই নারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক তদন্তের এজেন্ডা উত্থাপন করেন।তদন্তে গঠন করা হয় ৩ সদস্যের কমিটি।এর প্রধান হলেন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক ও টিচার রিপ্রেজেন্টেটিভ (টিআর) মাওসুফা ফেরদৌসী, শামশাদ শাহজাহান এবং অভিভাবক প্রতিনিধি শামীমা সুলতানা।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে হাইকোর্ট দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়।কিন্তু কমার্স কলেজে এই কমিটি ছিল না।দুই নারী শিক্ষিকা অভিযোগ দেওয়ার পর যৌন হয়রানির প্রতিরোধ কমিটি করা হয়।এই কমিটি ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয় প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কলেজের কমিটি কোনও তদন্তই করেনি বলে দুই নারী শিক্ষিকা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে সাইদুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি উক্ত বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে । তাই আমি এই বিষয় কোন কথা বলতে রাজি নয়। এরকম শিক্ষকদের নিকট কি ভাবে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকারা নিরাপদ?

মো: সাঈদুর রহমান মিয়ার ব্যপারে ব্যাপক অনুন্ধান চলছে। বিস্তারিত আরও আসছে পরবর্তী প্রতিবেদনে-

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com