রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

জুয়াবিরোধী আইনে নামমাত্র সাজা, ক্যাসিনোর জুয়াড়িরা জেলে মাদক মামলায়

বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর : দেশে জুয়া নিষিদ্ধ। আইনত জুয়া খেলা অপরাধ। জুয়াবিরোধী যে আইনটি রয়েছে সেটি দেড়শ’ বছরের পুরনো। দুর্বল আইনের কারণে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার সুযোগ নেই। তাই সম্প্রতি অবৈধ ক্যাসিনোতে আটকদের বিরুদ্ধে ওই আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাদক ও মানি মানি লন্ডারিং আইনে ছয় মাস থেকে এক বছর সাজা দিয়ে আটকদের জেলে পাঠিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিন্ন আইনে মামলার মূল কারণ জুয়া খেলা বন্ধে প্রচলিত আইনটি দেড়শ বছরেরও অধিক পুরনো। ওই আইনে ‘ক্যাসিনো’ বলে কোনো শব্দই নেই। এ আইনের যে বিধিবিধান রয়েছে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা চলে না। এ কারণে আইনটির কোনো কার্যকারিতাও নেই। এ ছাড়া বাহাত্তরের সংবিধানে জুয়া নিষিদ্ধের ব্যাপারে বলা রয়েছে। কিন্তু এতদিন পার হলেও জুয়া বিষয়ে নতুন কোনো আইন হয়নি।

দেশে জুয়াবিরোধী যে আইনটি রয়েছে সেটি ১৮৬৭ সালে প্রণীত ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন। এই আইনে যেকোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহূত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এ রকম কোনো ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনিও এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এ আইনটি রাজধানীতে প্রয়োগ করার সুযোগ নেই। এ আইনে উল্লেখ আছে হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা ছাড়া সমগ্র বাংলাদেশে ইহা প্রযোজ্য হইবে।

রাজধানীতে জুয়া বিরোধী আইনের এ অকার্কারিতায় ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর ৯২ ধারায় প্রকাশ্যে জুয়া খেলার জন্য মাত্র ১০০ টাকা জরিমানা করার বিধান করা হয়।

রাজধানীর ক্লাবগুলো থেকে জুয়া এবং ক্যাসিনোর বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বলছেন, দুর্বল আইনের কারণেই আটকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা জুয়াবিরোধী আইন যুগোপযোগী করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৮৬৭ সালের বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইনে বলা হয়েছে, বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের প্রজারা যে সব এলাকায় বসবাস করে সেখানে প্রকাশ্যে জুয়ার জন্য শাস্তি প্রদানের এবং সাধারণ ক্রীড়াভবনের ব্যবস্থা করার জন্য একটি আইন। ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের শাসনাধীন এলাকায় প্রকাশ্য জুয়া খেলার অপরাধে শাস্তি এবং সাধারণ ক্রীড়াভবনের ব্যবস্থা করার জন্য আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানাতে চাই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমরা নিশ্চয়ই পুরনো আইনটি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করব। কারণ আমরা জানতামই না জুয়া এ রকম হয়। এটি মুসলিমপ্রধান দেশ। যদিও আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করি, তার পরও এ দেশের ৮৮ ভাগ মানুষ মুসলিম। মুসলমানদের ধর্মে জুয়া খেলা পাপ। তাই বাস্তবতার নিরিখে আমাদের জুয়া খেলা বন্ধ করতে হবে এবং কার্যকর আইন তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্লাব থেকে যাদের সম্প্রতি ধরা হয়েছে, তাদের শুধু জুয়ার জন্য ধরা হয়নি। তারা নানারকম অপরাধ করেছে। তারা অবৈধভাবে অর্থ, মাদক ও অস্ত্র রেখেছে। এ কারণে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

অবৈধ ক্যাসিনো উচ্ছেদের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক র‌্যাবের একজনকর্মকর্তা বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ৯২ ধারায় যে জরিমানার কথা বলা হয়েছে তা খুবই নগন্য। এই ধারায় আটকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তারা দ্রুত আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে যাবে। আইনের মধ্যে রেখেই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি চিন্তা করেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৬০টি ক্যাসিনো রয়েছে। এগুলোয় জুয়ার পাশাপাশি বসে মদের আসরও। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, নেপালেও জুয়া খেলার জায়গা হিসেবে ক্যাসিনোর জনপ্রিয়তা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্লাবে বা আড্ডায় গোপনে জুয়া খেলার আসর বসার কথা নানা সময় শোনা গেলেও একেবারে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণসজ্জিত এই ক্যাসিনোগুলোর খবর দেশের মানুষের কাছে একেবারেই নতুন। অথচ মদ বিক্রি বা পানের মতো ক্যাসিনোর অনুমোদন বা লাইসেন্স দেওয়ার কোনো সুযোগই বাংলাদেশের কোনো আইনে নেই।সূত্র :পূর্বপশ্চিমবিডি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com