মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বেনাপোল দিয়ে ভারতের রফতানি বন্ধ অধিনায়কত্ব ছাড়লেও বিরাটই আমাদের নেতা বললেন বুমরা মুখ‍্যমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে জড়িত জমি কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে শিলচর কংগ্রেসের প্রতিবাদ ও স্মারকলিপি প্রদান বৃদ্ধাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে মাথা ফাটানোর ঘটনায় মামলা, মা-মেয়ে গ্রেফতার দামুড়হুদায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হুদাপাড়ার লালুকে আটক নালিতাবাড়ীতে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ ভারত থেকে আমদানি-রপ্তানি চালুর লক্ষ্যে কাস্টম্স, সিলেট চেম্বার ও সুনামগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধিদলের জাদুকাটা নদী পরিদর্শন  নকলায় বোরো ধান রোপণের ধুম আদমদীঘিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদমদীঘিতে র‌্যাবের অভিযানে ১৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ একজন গ্রেফতার

যদি সেটি উচ্চারণ করে, তাহলে তার রাগ থেমে যাবে

খবরের আলো  ডেস্ক :

 

(শয়তান বলেছিল) তবে তাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত বান্দারা নয় (তাদের বিভ্রান্ত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়)। [সুরা : হিজর, আয়াত : ৪০,

তাফসির : আলোচ্য আয়াত আগের আয়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সেখানে বলা হয়েছিল, শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করার প্রতিজ্ঞা করেছে। পথভ্রষ্ট করার একটি কৌশলও সেখানে বর্ণিত হয়েছে। শয়তান পাপীদের দৃষ্টিতে পাপ কাজ সুন্দর ও শোভিত করে তোলে। এ ছাড়া বিভিন্ন পন্থায় শয়তান মানুষকে বিপথগামী করে।আলোচ্য আয়াতের মূলকথা হলো, শয়তান সব মানুষের ওপর কর্তৃত্ব ও আধিপত্য চালাতে পারে না। যারা আল্লাহর পথে অবিচল থাকে, শয়তান তাদের ওপর কর্তৃত্ব চালাতে পারে না।

মানুষ নিষ্পাপ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। ধীরে ধীরে সে অপরাধী হয়ে ওঠে। ক্রমাগত সে পাপের পথে পা বাড়ায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাদের ‘হানিফ’ অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ রূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তান তার পিছে লেগে তাকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে নিয়ে যায়। ” (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৮৬৫)তবে শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য মহানবী (সা.) বিভিন্ন কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন। সংক্ষিপ্তভাবে সেগুলোর কয়েকটি এখানে তুলে ধরা হলো—

মানুষ যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয় তখন শয়তান তাদের বন্ধু হয়। তাই ইসলাম মুসলিম জাতিকে সংঘবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কারণ একাকী থাকা শয়তানের কাজ। জামাতে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে গ্রামে বা প্রান্তরে তিনজন লোকও অবস্থান করে, অথচ তারা জামাত কায়েম করে নামাজ আদায় করে না, তাদের ওপর শয়তান সওয়ার হয়ে যায়। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫৪৭)

শয়তানের অনিষ্ট থেকে শিশুদের সুরক্ষায় করণীয় হলো, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে শিশুদের ঘরে ঢুকিয়ে ফেলতে হবে। আর আল্লাহর নাম নিয়ে দরজা বন্ধ করতে হবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সন্ধ্যা নেমে এলে তোমরা তোমাদের শিশুদের ঘরে রাখো। কারণ এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা শেষ হলে (প্রয়োজনে) তাদের বাইরে যেতে দিয়ো। বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজা বন্ধ করো। বিসমিল্লাহ বলে বাতি নেভাও। বিসমিল্লাহ বলে পানির পাত্র ঢেকে রাখো। বিসমিল্লাহ বলে খাবার পাত্র ঢেকে রাখো। ঢাকার কিছু না পেলে যৎসামান্য কিছু হলেও ওপরে দিয়ে রাখো। ’ (বুখারি শরিফ, হাদিস : ৩০৩৮)

রাগ উঠলে ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়তে হবে। হজরত সুলাইমান বিন সুরাদ (রা.) বলেন, “একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসা ছিলাম। এ সময় দুজন লোক পরস্পরে গালাগাল করছিল। রাগে তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে যায়। গলার রগ ফুলে যায়। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি এমন একটি বাক্য জানি, এ ব্যক্তি যদি সেটি উচ্চারণ করে, তাহলে তার রাগ থেমে যাবে। সে যদি বলে, ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম—‘আমি ধিকৃত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই’, তাহলে তার রাগ থেমে যাবে। ” (বুখারি, হাদিস : ৩০৪০)

শয়তানের প্রতারণা ও বিভ্রান্তি থেকে আত্মরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর ও মোক্ষম হাতিয়ার হলো, ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ও যথার্থ জ্ঞানার্জন করা। কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান রাখেন—এমন লোকদের শয়তান ভয় পায়। শয়তান খুব কমই তাঁদের প্রতারিত করতে পারে।   মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দ্বিনের যথার্থ জ্ঞানের অধিকারী একজন ব্যক্তি শয়তানের জন্য হাজার (অজ্ঞ) ইবাদতকারীর চেয়েও ভয়াবহ। ’ (ইবনে মাজাহ)

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com