শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ধামরাইয়ে সুয়াপুর ইউনিয়নে ব্রীজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে বিশাল জনসভা নাটোরে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৪০ জন আটক মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা

পেঁয়াজ রক্ষায় ৬টি গুদাম বানাবে সরকার

ছবি : সংগৃহীত

খবরের আলো :

 

 

শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর : দেশে ভবিষ্যতে আর যাতে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় এবং ব্যবসায়ীরা যাতে পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি করতে না পারেন, সে জন্য ছয়টি গুদামঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

চট্টগ্রাম, রংপুর ও মৌলভীবাজার—এই তিন জেলায় মোট ছয়টি গুদাম নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি জেলায় দুটি করে গুদাম নির্মাণ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এসব গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে।

টিসিবির কর্মকর্তারা জানান, তেল, গম, ডাল, আলুর জন্য দেশে গুদাম রয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোনো গুদাম নেই। পেঁয়াজের দাম নিয়ে নানা সময়ে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করলেও সরকারের কিছুই করার থাকে না। এবার পেঁয়াজের কেজি আড়াইশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পরই সরকার গুদাম নির্মাণের কথা চিন্তা করে।

ভবিষ্যতে মৌসুম শেষ হলেও যাতে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ থাকে সেজন্য এসব গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁশ ও রড-সিমেন্ট দিয়ে এমনভাবে গুদামগুলো নির্মাণ করা হবে, যাতে সারা বছরই গুদামে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ এসব গুদামে রেখে পরে যেকোনো সময় তা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন।

পরিকল্পনা কমিশন থেকে পাওয়া তথ্য মতে, তিনটি জেলায় ছয়টি গুদাম নির্মাণে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে এই টাকার জোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটিতে যেহেতু ৫০ কোটি টাকার কম খরচ হবে, তাই এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যেতে হবে না। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান নিজ ক্ষমতাবলে প্রকল্পটি অনুমোদন করতে পারবেন।

সভায় যেহেতু প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে, তাই শিগগিরই প্রকল্পটি পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছ থেকে অনুমোদন মিলতে পারে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।

পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, মাগুরা, মেহেরপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর ও রংপুরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সবচেয়ে বেশি। তাহলে অন্য জেলায় গুদাম নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে সংস্থাটির সচিব এনামুল হক বলেন, ওই তিন জেলায় টিসিবির নিজস্ব জমি আছে। তাই জমি অধিগ্রহণের ঝামেলায় যেতে হবে না। অল্প সময়ের মধ্যে গুদামগুলো নির্মাণ করা যাবে।

এসব গুদামে দুভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা হবে। প্রথমত, কৃষক থেকে কিনে এনে গুদাম ঘরে রাখা হবে। দ্বিতীয়ত, সরকার চাইলে গুদামঘর ভাড়াও দিতে পারে। সেখানে কৃষকরা পেঁয়াজ রাখতে পারবে। তবে এর কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত নয়। গুদাম নির্মাণ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এসব গুদামে বৈজ্ঞানিক উপায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন জানান, মৌসুমের সময় কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজ যাতে সংরক্ষণ করা যায়, সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গুদাম নির্মাণ করতে প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এসব গুদামে পেঁয়াজ সারা বছরই সংরক্ষণ করা যাবে। এতে ভরা মৌসুমে কৃষককে যেমন কম দামে বেঁচতে হবে না, তেমনি মৌসুম শেষে ব্যবসায়ীরা চাইলেই এবারের মতো দাম বাড়াতে পারবে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া তথ্য বলছে, দেশে এখন বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ১৮ লাখ টন। আমদানি করতে হয় ছয় লাখ টনের মতো। যদিও কৃষি মন্ত্রণালয় দাবি করে আসছে, পেঁয়াজের উৎপাদন ২০ লাখ টনের বেশি। পেঁয়াজ সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর কৃষকের উৎপাদিত ২৫ থেকে ৩০ ভাগ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com