শুক্রবার, ২০ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ধামরাইয়ে সুয়াপুর ইউনিয়নে ব্রীজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন উপলক্ষে বিশাল জনসভা নাটোরে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৪০ জন আটক মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া হাতিয়ে নেয়া চেক ফেরত দেয়া হচ্ছে ,ক্ষতিপুরনের চেক বিতরন বন্ধ ,ক্ষতিগ্রস্ত ছয় শতাধিক পরিবার জিম্মি

                         

খবরের আলো :                                                                                                         

হাবিবুর রহমান মাসুদ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি :অবশেষে ক্ষতিগ্রস্থদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া চেক ও নগদ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলা র্নিবাহী অফিসার মো.তানভীর রহমান ও কুয়াকাটা পৌর মেয়র আ. বারেক মোল্লার প্রচেস্টায় এসব চেক ফেরত পেয়েছে ক্ষতিগ্রস্থরা। ক্ষতিগ্রস্থ এসব মানুষ বুধবার দিনভর পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে ধরনা দিলেও সৃস্ট জটিলতার কারনে তারা ক্ষদিপুরনের টাকার চেক গ্রহন করতে পারেননি।
ভ‚ক্তোভোগীরা জানায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ¯েøাপে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ৬৭৩ পরিবারকে সরকারের দেয়া ক্ষতিপুরনের টাকা প্রদানে হলে খাজুরা এলাকার পান্না মোল্লাসহ একটি মধ্যস্বত্তভোগীচক্র সিইআইপি (কোস্টাল ইমব্যাংকমেন্ট ইমপ্রæভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ক্ষতিপুরনে অন্তত তিন শ’ মানুষের কাছ থেকে চেকসহ নগদ বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী মানুষের দাবি, ক্ষতিপুরন থেকে ১০ পার্সেন্ট কিংবা সমপরিমান টাকার চেক হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানাজানি হলে ৬৭৩ জন মানুষের নামে বরাদ্দকৃত ক্ষতিপুরনের চেক পুর্বনির্ধারিত দিন মঙ্গলবারে দেয়া হয়নি। তিন শতাধিক মানুষ কলাপাড়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে আসলেও ফিরে গেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সুত্রে জানা গেছে, সাগরঘেঁষা লতাচাপলী ও ধুলাসার দুই ইউনিয়নসহ কুয়াকাটা পৌরএলাকার রক্ষাকবচ ৪৮ নম্বর পোল্ডারের ৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আধুনিকভাবে বন্যা কিংবা জলোচ্ছ¡াস প্রতিরোধের মতো করে পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু করেছে। আগামি তিন বছরের মধ্যে একাজ শেষ হওয়ার কথা। সিইআইপি-১ প্রকল্পের প্যাকেজ-২ এর আওতায় একাজ করা হচ্ছে। বাঁধটির উচ্চতা দেড় মিটার (পাঁচ ফুট) উচু করা হবে। সম্পুর্ণ বাঁধটির পাদদেশ বর্তমানের চেয়ে আরও ৩৫ ফুট প্রশস্ত করা হবে। বাঁধটি প্রায় ১২০ ফুট প্রস্থ করা হচ্ছে। এছাড়া সিসি বøক প্লেসিং করে রিভার সাইটে এক মিটার উচু করলে পাঁচ মিটার ¯েøাপ থাকছে। একই ভাবে কান্ট্রি সাইটে এক মিটার উচ্চতায় দুই মিটার ¯েøাপ থাকবে। বাঁধটির আধুনিকায়নের মধ্যে টপে পর্যটকের ভ্রমনের জন্য ওয়াকিং জোন থাকছে। এর পাশে নির্দিষ্ট দুরত্বে থাকবে বড় ধরনের বেঞ্চি টাইপের সিসি বøক। এজন্য বিশ^ ব্যাংক ১৪০ কোটি টাকা ব্যয় একাজ করছে।
এই বাঁধের ¯েøাপে বসবাস করা জেলেসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের বসতঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপসারনে মালিকদের ক্ষতিপুরনের জন্য বাঁধ এলাকায় ৬৭৩ জনের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়। এজন্য ক্ষতিপুরন বাবদ সাত কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ক্ষতিপুরনের চেক মঙ্গলবার বিতরনের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু এক দিন আগে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে প্রকল্পের কর্মকর্তা, ইউপিসহ বিভিন্ন খাতের দোহাই দিয়ে খাজুরা এলাকার মো. পান্না মোল্লা নগদ ছাড়াও প্রায় তিন শ’ চেক হাতিয়ে নেয়। ক্ষতিগ্রস্থ নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একজন জানান, তিনি ক্ষতিপুরন বাবদ ৬০ হাজার টাকা পাবেন। তার কাছ থেকে পান্না মোল্লা একটি চেক নিয়েছেন।
কুয়াকাটার মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা জানান, চেক হাতিয়ে নেয়ার সত্যতা পেয়ে তিনি অভিযুক্ত পান্না মোল্লাসহ কর্তৃপক্ষকে চেক কিংবা নগদ অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের ফেরত দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে চেক বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সিইআইপি প্রকল্পের পুনর্বাসন কর্মকর্তা কাইয়ুম জানান, প্রকল্পের কারও কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। একটি বাইরের চক্র একাজ করেছে। যথাযথ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত পান্না মোল্লা মোবাই ফোনে বলেন, লতাচাপলী ইউনিয়ন আ,লীগের সভাপতি পদে প্রতিদন্ধীতা করায় একটি চক্র তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এসব রটাচ্ছেন। তারসাথে চেক গ্রহন কিংবা ফেরত দেয়ার বিষয়ের কোন সংশ্লিস্টতা নাই।
প্রকল্প এলাকার পোল্ডার নম্বর ৪৮ এর লতাচাপলী এবং ধুলাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা ও আব্দুল জলিল আকন জানান, এর সঙ্গে তাঁদের কারও কোন সম্পৃক্ততা নেই। সিইআইপি প্রকল্পের কর্মকর্তারা বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com