সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৭:১১ অপরাহ্ন

প্রতিরোধ ও বাঁধার মুখে চলছে ঢাকা-ভোলার গ্রীন লাইন ওয়াটার বাস সা‌র্ভিস

খবরের আলো :
মোঃ ওমর ফারুক ,ভোলা থেকে : ভোলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও তার ভারা করা লোকদের তুমুল প্রতিরোধ ও বাঁধার মূখে, সকল জল্পনা কল্পনা আর ষরযন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ভোলার ইলিশা জংশন পল্টুনে ভিরলো প্রতিক্ষিত গ্রীন লাইন ওয়াটার বাস সার্ভিস। রাতে রোটেশনে লঞ্চ চলাচলের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হলো ভোলার আপামর অসহায় জনগন। পুরন হলো দির্ঘদিনের কাঙ্খিত স্বপ্ন। দ্রুত সময়ে পেলো দিনের আলোয় ঢাকা – ভোলা নদী পথে ভ্রমনের সুযোগ।
পূর্ব ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ি ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ০৮টায় ঢাকার কুটি বাড়ির ঘাট থেকে ৩০০ যাত্রি নিয়ে আনুষ্টানিকভাবে ভোলার উদ্ধেশ্যে যাত্রা শুরু করে গ্রীন লাইন ওয়াটার বাস সার্ভিস। সেদিন বেলা ১২ টায় ভোলার জংশন পল্টুনে পৌছলে চেয়ারম্যান হাছনাইন ও তার অনুগত লোকজন ওয়াটার বাস পল্টুনে ভিরতে বাঁধা দেয়। এসময় কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। পল্টুন থেকে লোকজন সরিয়ে দেয়া হয়। পরে ওয়াটার বাস থেকে যাত্রিরা নেমে আসে। এক পর্যায়ে গ্রীন লাইন স্বত্বধীকারী মালিক মোঃ আলাউদ্দিন পল্টুনে নেমে আসলে তার সাথে কথা বলেন চেয়ারম্যান হাছান। তিনি দাবী করেন, এই সার্ভিসটি এখানে চলাচল করলে ব্লক ভেঙ্গে যাওয়া , নদী ভাঙ্গন ও জেলেদের জাল -নৌকা ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই এই গ্রীন লাইন ওয়াটার বাস এই লাইনে চালাতে দেবেনা। এদিকে যাত্রিরা চলে যাওযার পর মিডিয়ার সাথে কথা বলেন স্বত্তাধীকারী মোঃ আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, এই রুটে গ্রীন লাইন চলচলের সম্ভাব্যতা যাচাই করেই নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় অনুমতি দিয়েছে। এ সময় ওই ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমিও এই দেশের সন্তান, এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা, এই দেশে আমারও ব্যবসা করার অধিকার রয়েছে। এদিকে বহুল আলোচিত গ্রীন লাইন ওয়াটার বাসটি দেখার জন্য কয়েক হাজার মানুষ নদীর কিনারে এসে ভীর করে। পরে নির্ধারিত সময়ের পূর্বে দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রায় ২০০ যাত্রি নিয়ে গ্রীন লাইনটি ঢাকার অভিমূখে চলে যায়। অপরদিকে এই সার্ভিস চলাচলের ঘোষনার পর থেকেই প্রতিরোধ করতে শুরু হয় নানা ষরযন্ত্র। এতে যোগ হয় রাতে চলা লঞ্চ ও বাস মালিক পক্ষ। এ নিয়ে সোমবার ওই চেয়ারমান হাছনাইন এর নেতৃত্বে জংশনে একটি মানববন্ধনও করা হয়। ওই মানববন্ধনে ওয়াটার বাস চলাচলে প্রতিরোধ করার ঘোষনা দেয় হয়। এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠে। এতে ওয়াটার বাস সার্ভিসের পক্ষে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়। গ্রীন লাইনের উদ্ভোধনী এই সফল যাত্রায় স্বাগত জানিয়েছে ভোলার সাধারন মানুষ। এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা পালনের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ওয়াটার বাস সার্ভিসের যাত্রি, এড. শাহাদাত শাহিন, তালহা তালুকদার বাঁধন, আমিরুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, আজকে ঢাকা ভোলা নৌ-রুটে দিনের বেলায় চলাচল করতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়ি এসে দুপুরে খানা খেয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারবো। এটি ভোলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি। আমরা চাই এই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষের সুবিধার্থে এই সার্ভিসটি চালু থাকুক। তাছাড়া এই সার্ভিস চালু হওয়ার জন্য ভোলার মানুষের প্রিয় নেতা জনাব তোফায়েল আহমেদকে কৃতজ্ঞতা জনন যাত্রিরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com