সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাইলেন সুচি

খবরের আলো ডেস্ক :

 

 

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজ বুধবার মিয়ানমার তাদের বক্তব্য শুরু করেছে। শুরুতে বক্তব্য রেখেছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও এজেন্ট অং সান সু চি। সেখানে তিনি নিজের সেনাবাহিনীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একগাদা মিথ্যাচার করেছেন। নাকচ করে দিয়েছেন মিয়ানমারের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর বার্মিজ সেনাদের মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগটিও।

সু চি তার বক্তব্যে বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নয়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার মুখেই নাকি লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এসব শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার সরকার কি কি কাজ করছেন তার ফিরিস্তি তুলে ধরেছেন তিনি। বলেছেন মিয়ানমারে জন্ম নেয়া রোহিঙ্গা শিশুদের নাগরিকত্ব দেয়ার কথাও।

তবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে এ ধরনের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কারণে তার সরকারের এসব প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেন মিয়ানমারের এই নেত্রী।

এছাড়া রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে আইসিজে নিয়ে আসায় গাম্বিয়ার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ লুকানোর চেষ্টা করেননি তিনি। তার দাবি, গণহত্যার বিষয়ে গাম্বিয়া নাকি আদালতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। যদিও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, গণহত্যা সনদের বিধান রুয়ান্ডা এবং সাবেক ইয়োগোশ্লাভিয়ায় প্রয়োগ করা হয়নি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণহত্যার ঘটনায় হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

মঙ্গলবার শুনানির প্রথম দিনে সাক্ষ্য-প্রমাণ দাখিল করেছে গাম্বিয়া প্রজাতন্ত্র। আদালতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা গণহত্যার সম্পর্কে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করতে রাষ্ট্রীয় মদদে গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তারা বলেন, গণহত্যা এখনও চলছে এবং তা বন্ধ করতে অন্তবর্তী আদেশ জরুরি।

শুনানির শেষ দিনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় দেড় ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নিবে গাম্বিয়া এবং বিরতির পর রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া দেড় ঘণ্টার আলোচনায় অংশ নিবে মিয়ানমার। তবে এ মামলার রায় পেতে আট সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে শুনানির দোষী সাব্যস্ত হলে মিয়ানমার এবং তাদের সেনা কর্মকর্তাদের কি ধরনের শাস্তি দেয়া হতে পারে এখনও তা স্পষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলাটি দায়ের করে। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র পক্ষ থেকে গাম্বিয়া এ মামলা করে। এবারই প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে গেছে আফ্রিকার ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গাম্বিয়া। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করতে গাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মামাদু তাঙ্গারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

গাম্বিয়া ও মিয়ানমারের পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং কানাডার প্রতিনিধিরা শুনানির সময় পিস প্যালেসে উপস্থিত রয়েছেন। এই মামলায় বাংলাদেশ-কানাডার পাশাপাশি গাম্বিয়াকে লজিস্টিক সহযোগিতা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস-ও।

মামলায় সহয়তার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মাসুদ বিন মোমেন এক প্রতিনিধি দল নিয়ে দ্য হেগে পৌঁছেছেন। ২০ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া তিন রোহিঙ্গাও রয়েছেন। দলে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিকেও রাখা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com