মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৩ অপরাহ্ন

সংলাপে সঙ্কটের সমাধান হবে: কাদের

খবরের আলো রিপোর্ট :

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে এই সংলাপে সম্মত হয়েছি। সংলাপে খোলা মনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) সকালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের জন্য ড. কামাল হোসেন চিঠি দিয়েছেন। আমরা আমাদের নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে আলোচনা করে নেত্রীর সঙ্গে একমত হয়েছি। আমরা কালক্ষেপন করিনি। শিডিউলের আগে যাতে সংলাপ হয়, এজন্য ড. কামাল হোসেনকে চিঠি দিয়েছি। এ কারণেই জননেত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনকে ১ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই আলোচনা হবে খোলা মনে।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তার নীতি নৈতিকতা আছে। প্রধানমন্ত্রী তাকে চাচা বলে সম্বোধন করেন। যদিও তিনি ঐক্যফ্যন্টের বা ওই জোটের শীর্ষ নেতা কিনা আমরা নিশ্চিত নই। তিনি হয়তো শীর্ষ নেতা নন, এই জোটের নেতৃত্ব কী লন্ডন থেকে দেয়া হচ্ছে নাকি বাংলাদেশ থেকে দেয়া হচ্ছে তা সংলাপে বসার পর বোঝা যাবে।

সংলাপ নিয়ে কোনো সংশয় না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সংশয়বাদী, ১ নভেম্বরের পর সেই সংশয় কেটে যাবে।

কোনো চাপের কারণে এই সংলাপে বসা হচ্ছে না জানিয়ে কাদের বলেন, আমরা কোনো চাপে এই সংলাপে বসছি না। সংলাপে বসার অর্থ কারও প্রতি নতি শিকার করা নয়।

সংলাপের কোনো কোনো ইস্যুতে আলোচনা হবে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ঐক্যফ্রন্ট চিঠির সঙ্গে সাত দফা দাবি এবং এবং ১১টি লক্ষ্যের কপি সংযুক্ত করে দিয়েছে। এসব নিয়েই আলোচনা হবে।

এই সংলাপকে ব্যতিক্রমধর্মী উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে কখনোই শেখ হাসিনার সঙ্গে কারও সংলাপ হয়নি। কাজেই এখন যে সংলাপ হচ্ছে, এটি একেবারেই এক্সেপশনাল। এর আগে কখনোই শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো সংলাপ হয়নি কারও।

সংলাপের বিষয়ে গতকাল রাতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে ফোন করেছিলেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা কয়জন আসবেন। উনি জানালেন যে, উনারা ১৫ জন আসবেন। তখন আমি বলেছি- ১৫ জন কেন, ২০ জন বা ২৫ জন নয় কেন? আপনারা ২০ জন, ২৫ জন যত জন খুশি আসতে পারেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই।

সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কতজন থাকবে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আগে উনারা তালিকা দিক। আমাদের কয়জন থাকবেন সেটা আমরা পরে ঠিক করবো।

তালিকায় জামায়াতের লোকজন থাকলে আপনাদের অবস্থান কী হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিবন্ধনের বাইরে কারও আসার সুযোগ নাই।

মাহমুদুর রহমানের মান্নার দল তো নিবন্ধিত নয়, তিনি যদি তালিকায় থাকেন তাহলে আপনারা কী করবেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি ড. কামাল হোসেনের ওপর ছেড়ে দিন।

তবে সংলাপে সঙ্কট সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সংলাপের উত্তাপে সঙ্কটের বরফ গলবেই। তারা যেদিকে সঙ্কট বলছে, আমরা সেটিকে সঙ্কট মনে করি না। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে অনেক সঙ্কটই সমাধান হয়ে যায়।

এদিকে সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধির সংখ্যা কমানোর বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে তিনি বলেন, আমি এমন কিছু বলিনি।

এই সংলাপের পর অন্য কোনো দলের সঙ্গে সংলাপে বসবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সেই সুযোগ নাই। তফসিল ঘোষণার পর আর কারও সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নাই।

এদিকে কোনো সংলাপ হবে না বলে আগে যে কথা বলা হয়েছিল সে ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগে সংলাপ নিয়ে আমরা যা বলেছি, তা আমাদের দলের পলিসি। আমরা সবাই একই টোনে কথা বলেছি। তারা (ঐক্যফ্রন্ট) সাত দফা ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে চায়। আমরা ওয়েলকাম করেছি। উনারা আসবেন, কথা বলবেন। নির্বাচনের জন্য উনারা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড চেয়েছেন। সেটি আছে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হবে।

ঐক্যফ্রন্টের দাবির ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় উনারা বিদেশি পর্যবেক্ষক চেয়েছেন, এতে আমাদেরও আপত্তি নাই। তবে এটা ইসির বিষয়। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, আস্থা রাখুন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাদের ডেকেছেন। ড. কামাল প্রস্তাব দিয়েছেন, সেকারণেই তাদের ডাকা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নাই। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সহায়তা করবে সরকার। সরকারের আকার কেমন হবে এটি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com