বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

সাংবাদিকরা রিপোর্ট পেলেই ছাপাবে এটাই স্বাভাবিক:হাইকোর্ট

বুধবার, ০৪ মার্চ :আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপনের আগেই গণমাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ পেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ এ প্রশ্ন রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপনের পর বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, এ রিপোর্ট মিডিয়ায় কীভাবে গেল? হয় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বা তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে এ রিপোর্ট ছুটেছে। কোর্টে উপস্থাপনের আগেই এভাবে মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ পেলে জনমনে এক ধরনের পারসেপশনের তৈরি হয়।’

এ পর্যায়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার বলেন, ‘আমি সাংবাদিক ছিলাম, আমি কাউকে কোনো রিপোর্ট দেইনি। যার কারণে আমার সাংবাদিক বন্ধুরা আমাকে দেখতে পারেন না।’ তখন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, সাংবাদিকদের কাজই হলো খবরের পেছনে ছোটা। তারা খবর সংগ্রহ করতে ছুটবেই। আমরা তো সাংবাদিকদের কোনো দোষ খুঁজে পাচ্ছি না।’

অমিত তালুকদার বলেন, এভাবে রিপোর্ট প্রকাশ আদালত অবমননার শামিল। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, সাংবাদিকরা রিপোর্ট পেলেই ছাপাবে এটাই স্বাভাবিক। যদি ওই রিপোর্টের সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদনের মিল না থাকে, তখন তাদের দোষারোপ বা ধরার করার সুযোগ থাকে। তিনি আরও বলেন, রিপোর্ট আদালতে দাখিলের আগেই যে সাংবাদিকদের হাতে গেছে দোষ তো কাউকে না কাউকে স্বীকার করতেই হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার সাগর-রুনি হত্যা মামলায় র‌্যাবের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

র‌্যাবের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে দুজন অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। তদন্তকালে ওই দুই অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে ব্যাপক তদন্ত করা হয়।

ডিএনএ পরীক্ষার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সাগরকে বাঁধার জন্য ব্যবহৃত চাদর এবং রুনির টি-শার্ট থেকে প্রাপ্ত নমুনা পরীক্ষণে প্রতীয়মাণ হয় হত্যাকাণ্ডে কমপক্ষে দুজন অপরিচিত পুরুষ জড়িত ছিল। এ অপরিচিত অপরাধী শনাক্তকল্পে ডিএনএ প্রস্তুতকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ল্যাব যথাক্রমে ইন্ডিপেনডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিস এবং প্যারাবন স্ন্যাপশট ল্যাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। প্রতিষ্ঠান দুটি ডিএনএর মাধ্যমে অপরাধীর ছবি/অবয়ব প্রস্তুতের প্রচেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছে।

আসামি তানভীরের ব্যাপারে র‌্যাবের অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়, তানভীরের সঙ্গে রুনির পরিচয় ২০১০ সাল থেকে। ফেসবুকের মাধ্যমে শুরু এবং সামনাসামনি দেখা হয় ২০১১ সালে রুনি দেশে ফেরার পর। তানভীরের সঙ্গে রুনির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রতিদিন বেশ কয়েকবার তাদের মধ্যে ফোনে আলাপ হতো। তারা প্রায়ই দেখা-সাক্ষাৎ করতেন।

মোবাইল কললিস্ট অনুযায়ী, হত্যার দিন আনুমানিক সকাল ৭টা ২১ মিনিটে রুনির ফোন থেকে তানভীরের ফোনে কল যায়। যার স্থায়িত্ব ছিল ৮ সেকেন্ড। প্রতিদিন তানভীর ও রুনির মধ্যে একাধিকবার যোগাযোগ হলেও হত্যার দিন তানভীর রুনিকে একবারও ফোন করেননি। এমনকি রাতে হত্যার খবর জানার পরও তানভীর রুনি বা সাগরের বিষয়ে কোনো খোঁজখবর নেয়নি বা তাদের জানাজাসহ কোনো ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেননি। স্বাভাবিকভাবে আসামি তানভীরের ঘটনার পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী আচরণ খুবই রহস্যজনক।সুত্রঃআমাদের সময়

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com