রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

শ্রীপুরে প্রাণহীন দূষণে খিরু নদী

খবরের আলো:

 

 

শ্রীপুর প্রতিনিধিঃগাজীপুর শ্রীপুরে খিরু নদীর দূষণের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় নদীটিতে নেই কোনও মাছ। দূষণ এতোটাই ভয়াবহ যে বেঁচে নেই কোনও ব্যাঙ অথবা সাপ। অথচ কয়েক বছর আগেও নদীটিতে ছিল জেলেদের সমাগম। শিল্প কারখানার দূষিত পানিতে নদীটি আজ মৃতপ্রায়। এতে অনেক জেলেরা হয়েছে বেকার। পরিবেশও হুমকিতে পড়েছেগ। বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ও গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত নদীটির নাম খিরু। দৈর্ঘ্য ৪৬ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৫৩ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃক খিরু নদী ভালুকা’র প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নম্বর ১১।আজ শুক্র বার(৬ মার্চ ২০২০) বিকালে নদীটি সরেজমিনে দেখা যায় দূষণের মাত্রা এতটাই যে পানির দুর্গন্ধের কারণে নদীর ধারে-কাছেও যাওয়া যায় না। ভালুকা উপজেলার কলকারখানার দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির ধারা সরাসরি খিরু নদীতে পড়ছে। একই সঙ্গে পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্যও ভালুকা থেকে ফেলা হচ্ছে। খিরু নদীর ওই এলাকাজুড়ে পানির রঙ কালো ও গন্ধ খুবই অসহনীয়। আশপাশের মানুষ এ উৎকট গন্ধে সেখানে দাঁড়াতেও পারেনা। ভালুকার প্রায় সব এলাকার কারখানার দূষিত পানি ও বর্জ্য সরাসরি খিরু নদীতে ফেলছে। এতে প্রতিনিয়তই দূষণমাত্রা বেড়ে জলজ প্রাণী ধ্বংস হয়েছে। সেইসাথে হুমকিতে পড়েছে স্থানীয় অধিবাসীরা। শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের সোনাভ গ্রামের কয়েকজন জানিয়েছেন, এখন কারখানা মালিকরা চালাক হয়ে গেছে। পাইপ এমনভাবে বসায় যেন কেউ দেখতে না পায়। কারখানাগুলো যখন বর্জ্যপানি ছাড়ে তখন নদীর তীরে বুদবুদ হয় এবং লাল ও কালো রঙের পানি বেরিয়ে আসতে থাকে। বিভিন্ন এলাকার লোকজন নদীতীরে বর্জ্য ফেলছে। আর সেগুলো ধীরে ধীরে নদীতে গিয়ে পড়ছে।সোনাভ গ্রামের আব্দুল জব্বার (৭৫) জানান, ‘আগে এ নদীতে প্রচুর মাছ ছিল। আমি নিজেও অনেক মাছ ধরতাম, গোসল করতাম, গরু-ছাগল গোসল করাতাম। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। কিন্তু ৪-৫ বছর যাবৎ এই নদীতে মাছ নেই। বর্তমানে নদীর যে অবস্থা তাতে মাছ তো দূরের কথা একটা ব্যাঙও বেঁচে নেই। বর্তমানে পানির অবস্থা এতোটাই খারাপ যে, এই পানি শরীরে লাগলে ঘা হয়ে যায়। এই পানি শরীরে লেগে আমার পায়েও ঘা হয়েছে যা ঔষধ খাওয়ার পরও ভালো হচ্ছেনা’।নদী দূষণ রোধে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছে ‘নদী পরিব্রাজক দল’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ওই সংগঠনের শ্রীপুর উপজেলা সভাপতি সাঈদ চৌধুরী জানান, ‘এই নদীটার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের অঞ্চলে যে নদীটুকু সেটুকু থেকে দূষিত পানি পানি আসেনা, দূষিত পানি আসে ভালুকা থেকে। ভালুকা থেকে আসার কারণে শ্রীপুর উপজেলায় যারা নদী নিয়ে কাজ করে তারা আসলে কিছু করতে পারছেনাখিরু নদী থেকে দূষিত পানি শীতলক্ষ্যায় প্রবাহিত হওয়ায় কিছুদিন আগেও ত্রি-মোহনীসহ শীতলক্ষ্যার অনেক মাছসহ জলজ প্রাণী মারা গেছে। এটার সম্পূর্ণ দায় খিরু নদীর দূষণ। নদীর এহেন করুন অবস্থা থেকে আগের অবস্থায় ফিরাতে হলে কি কি করণীয়? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পূর্বাবস্থায় ফিরানো বৃহৎ ব্যাপার। যদি পানির দূষণ কমাতে চাই তাহলে সকল ফ্যাক্টরির ইটিপি ব্যবহার করতে হবে। এটা হলো প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা গর্ভমেন্টের একটা কাজ করতে হবে সেটা হলো যে, যে যে খালগুলো নদীতে মিশছে সে খালগুলোতে সেন্ট্রাল ইটিপি নির্মাণ করতে হবে। কারণ হলো বাংলাদেশের ব্যাড প্রাকটিস (মন্দ চর্চা) হচ্ছে বাসা বাড়ির বাথরুমের লাইন  (সুয়ারেজ লাইন) খালে নিয়ে দিয়ে দেওয়া। এতে আমরা যদি শিল্পাঞ্চলের পানি ট্রিটমেন্ট করিও তবুও সুয়ারেজ লাইনের দূষণ থেকে কিভাবে মুক্ত হবো ? সেখানে দূষণটা থেকেই যাবে। সুতরাং সরকারের উচিত খালের পানি যেখানে নদীতে মিশছে সেখানে সেন্ট্রাল ইটিপি নির্মাণ করে খালের পানি বিশোধন করে নদীতে ফেলা। যদি এটা করতে পারে প্রত্যেকটা ফ্যাক্টরিকে সার্বক্ষণিক ইটিপি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে পারে এবং অনলাইন মনিটরিং করতে পারে পরিবেশ অধিদপ্তর ইটিপিগুলোকে যে তারা ঠিকভাবে সবসময় চালাচ্ছে একমাত্র তাহলেই এই দূষণ কমানো সম্ভব।এর সাথে জড়িয়ে আছে কৃষিতে আবার রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং ভূগর্ভস্থ পানির একটা লিমিটেশন ব্যবহার অর্থাৎ আমি যত ইচ্ছা পানি তুলবো সেটাকে বাইরে ফেলবো অথবা অপব্যয় করবো দূষিত করবো এটা করা যাবেনা। একটা নির্দিষ্ট লিমিট করে দিতে হবে সরকারকে। নদীর করুণ অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসনের ভূমিকার ব্যাপারে তিনি বলেন, আসলে ভূমিকার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা। যেমন: জনগণের এখানে অনেকটা সচেতনতার ব্যাপার আছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, প্রশাসন আসলে জানেই না যে এইরকম একটা দুর্ঘটনা ঘটছে অথবা দূষিত হচ্ছে। আমাদের উচিত হলো যে প্রশাসনকে সেটা জানানো। যদি তার পরে ব্যবস্থা না নেয় সেক্ষেত্রে প্রশাসনকে আমরা বলতে পারি যে আসলে এটা ব্যবস্থা নিলেন না কেন? ভালুকার খিরু নদীর যে প্রবলেমটা আমি ওইদিন নদীর মিটিংয়ে ছিলাম শ্রীপুর তারা বললো যে আমরা এইটা জানি-ই না বিষয়টা। এরপরেও আমরা একদিন গিয়ে ভিজিট করে আসলাম। এখন আমরা ভালুকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবো যে আপনারা এটা ব্যবস্থা নেন’।
এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের শ্রীপুর উপজেলা সভাপতি ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামছুল আরেফীনকে একাধিকবার ফোন করলে তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠালেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com