শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

‘নাম বিভ্রাট’ করেই জামিন নেন জি কে শামীম

খবরের আলো:

 

 

সোমবার, ০৯ মার্চ :বিতর্কিত ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিব‌রিয়া শামীম (জি কে শামীম) অনেকটা গোপনে হাইকোর্ট থেকে মাদক ও অস্ত্রের দুই মামলায় কারসাজি করে জামিন নেন। তার জামিনের আদেশের প্রায় একমাস পর বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসে। এরপর এ ব্যাপারে নড়েচড়ে বসে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। জি কে শামীম মূলত নাম বিভ্রাটকে কেন্দ্র করেই আদালত থেকে জামিন পান বলে হাইকোর্টের শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাজধানীর নিকেতনের নিজ অফিস থেকে বিদেশি মদ, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন আলোচিত ব্যবসায়ী জি কে শামীম। এ ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে শামীমের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অস্ত্র, অর্থপাচার ও মাদক আইনে মামলা করে।

এর মধ্যে অস্ত্র ও মাদক মামলায় উচ্চ আদালতের আলাদা দুইটি বেঞ্চে শামীমের জামিনের বিষয়ে আবেদন করা হয়। এরপর গত মাসের (ফেব্রুয়ারি) ৪ ও ৬ তারিখে দুই মামলায় জি কে শামীমকে জামিন দেন হাইকোর্ট। অস্ত্র মামলায় তাকে ৬ মাসের জামিন দেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এছাড়াও জি কে শামীমকে মাদক মামলায় এক বছরের জামিন দেন বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। কিন্তু মানি লন্ডারিংসহ আরও দুটি মামলা থাকায় জামিনে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়নি জি কে শামীমের।

এ দিকে শামীমের জামিনের বিষয়টি অনেকটাই গোপনে সম্পন্ন হওয়ায় প্রায় এক মাস ধরে এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে ওই জামিনের বিষয়ে আদালতে লিখিত আদেশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোর্টের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ফলে জি কে শামীমের জামিন পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমে জি কে শামীমের জামিনের বিষয়টি উঠে আসার পরদিন (৮ মার্চ) জামিনের আদেশ রিকল করেন উচ্চ আদালত। দিনের শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অস্ত্র মামলায় দেওয়া জামিন আদেশ রিকল করেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

হাইকোর্টে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান আদালতকে বলেন, আসামির নাম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম। কিন্তু কার্যতালিকায় (সুপ্রিম কোর্টের) আছে এস এম গোলাম। এভাবেই তথ্য গোপন করা হয়েছে। আর আমাদের কোনো কপি (জামিন আবেদনের) দেওয়া হয়নি।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা কার্যতালিকায় দেখছি, জামিন আবেদনকারীর নামে বিভ্রাট আছে। তাই আমরা আগের আদেশ রিকল করছি। এরপর আদালত অস্ত্র মামলায় জি কে শামীমের জামিন বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এরপর জানতে চাওয়া হলে ‘তথ্য গোপন করে’ অস্ত্র মামলায় জি কে শামীম জামিন নেওয়ার কথা জানিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান বলেন, নিয়ম মোতাবেক আবেদনের কপি রাষ্ট্রপক্ষকে দেওয়ার কথা। তারা তা দেয়নি। আবার মামলার এজাহারেও শামীমের নাম ওরফে জি কে শামীম লেখা হয়নি। আবার আদালতের কার্যতালিকাতেও জি কে শামীমের নাম স্পষ্ট করে লেখা হয়নি। জামিনের আবেদনে নাম আছে এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম। কিন্তু কার্যতালিকায় লেখা হয়েছে এস এম গোলাম।

এ দিকে মাদক মামলায় জি কে শামীমকে এক বছরের জামিন দেওয়া আদেশটিও রিকল করেন বিচারপতি রেজাউল হক ও বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। এখানেই শুনানির সময় জি কে শামীমের নাম বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরেন এই কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা। শুনানি শেষে মাদক মামলাতেও শামীমের জামিন বাতিল করেন উচ্চ আদালত।

তবে শামীমের জামিন বাতিলে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে জি কে শামীমের আইনজীবী ড. মমতাজউদ্দিন মেহেদী অভিযোগের সুরে বলেন, জি কে শামীম হওয়ার কারণেই আজ তার জামিন প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইনের যে ধারায় মামলা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি ৬ মাস হওয়ার কথা। অথচ জি কে শামীম ইতোমধ্যে চার মাসের বেশি কারাভোগ করেছেন। এ রকম মামলায় যে কোনো ব্যক্তিরই জামিন হয়ে থাকে।

এ দিকে শামীমের জামিনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনে স্পষ্ট বলা আছে, জামিনের ব্যাপারে দুই পক্ষকে শুনতে হবে। এখানে যদি সেটার ব্যত্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আর যদি ব্যত্যয় না হয়ে থাকে, ডেপুটি অ্যাটর্নি যে বলেছিলেন তিনি জানতেন না, সেটার তদন্ত করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com