শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
মাধবপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গাজীপুরে পোশাক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার ত্রিশালে রাস্তার দূর্ভোগে লালপুর-কৈতরবাড়ী ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা হলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতিও থাকবে: কাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাহাড়পুর একিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিনব কায়দায় রোগীর সাথে প্রতারণা নবাবগঞ্জে অজ্ঞাত পরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার মাধবপুরে করোনার ভাইরাসের সুযোগে বালু খেকোদের রমরমা ব্যবসা নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে বিএনপি দলগতভাবেই এইসব অপকর্ম করেছিল -তথ্যমন্ত্রী বড়াইগ্রামে জোর পুর্বক ঘরবাড়ি ভাংচুর করে রাস্তা নির্মাণ

চিরিরবন্দরে জাল সনদে চাকুরি?

খবরের আলো:

 

 

দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক মোঃ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে জাল সনদে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে চাকুরি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, কারেন্টহাট ডিগ্রি কলেজের কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর তারিখে প্রকাশিত স্থানীয় দৈনিক তিস্তা পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ১৯ ডিসেম্বর তারিখে তৎকালীন সভাপতি সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানুর স্বাক্ষর স্কানিং পূর্বক জাল করে ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে তৎকালীন অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগসাজস করে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৯৯ ইং সালের ২৬ শে ডিসেম্বর চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি গত ২০০০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে সরকারি অনুদান প্রাাপ্ত হন। তার ইনডেক্স নং ৪১৩৯৩২। নিয়োগ পরিক্ষায় ফলাফল সীটে স্বাক্ষরের বিষয়ে তৎকালীন সভাপতি সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানু বলেন, ফলাফল সীটে ওই স্বাক্ষরটি আমার নয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ মোঃ মনির উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি এই মুহুর্তে স্মরণ নাই।
জনৈক ছাত্রীর অভিভাবক মোঃ আবেদ আলী ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর সাথে অশোভনীয় অসদাচরণের প্রতিকার চেয়ে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগের সুত্রে জানা গেছে, ওই প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান কলেজে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনার সময় শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভনীয় আচরণ করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের তিরষ্কার ও গালমন্দ করতেন। শুধু শিক্ষার্থীরাই নন ওই কলেজের অফিস সহায়কদের সাথেও তিনি অশোভনীয় অসদাচরণ করতেন। শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে অনুরুপ আচরণ করতেন। এরই প্রেক্ষিতে গত ২০১৮ইং সালের ১৪ই ফেব্রæয়ারি কলেজের অধ্যক্ষের নিকট অফিস সহায়কবৃন্দ ও অভিভাবকরা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে। আরো জানা গেছে, প্রভাষক মো. মিজানুর রহমানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অফিস সহায়কদের সাথে অসদাচরণের বিষয়টি কলেজ পরিচালনা কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন হলে কলেজের তৎকালিন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী সকল শিক্ষক কর্মচারীগণের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্রের সঠিকতা যাচাই করেন। সকল শিক্ষক কর্মচারীগণের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সঠিকতা যাচাই করা হলেও প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান তার নিয়োগ নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রদর্শিত ৬ মাস মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি সনদের ছায়ালিপি যার ক্রমিক নং ১২৩৬০, রেজি. নং ১৯৮৮ এবং ইস্যুর তারিখ-৫ই নভেম্বর ২০০০ এর মূল সনদপত্র প্রদর্শন করাতে ব্যর্থ হন। ফলে গত ১৮ই নভেম্বর ২০১৯ইং তারিখে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী (স্মারক নং ০৫.৫৫.২৭৩০.০০০.০৩.০০১.১৯-৯২৬) পরিচালক, নেকটার (নট্রামস) বগুড়া বরাবরে ওই সনদপত্রের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য প্রেরণ করে। এরই প্রেক্ষিতে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ওই পত্রের আলোকে গত ২৬ শে নভেম্বর ২০১৯ই তারিখে সনদপত্র যাচাই (স্মারক নং ৫৭.২১.০০০০.০০৭.৩৬.০০১.১৮-১৭৫৫) প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে ওই সনদপত্রটি সাবেক নট্রামস/নেকটার কর্তৃক ইস্যুকৃত নয়। সনদপত্র জাল ও ভূয়া ।
এ ব্যাপারে ওই প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান জানান, নিয়োগকালীন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় নট্রামস অনুমোদিত কম্পিউটার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলি প্রশিক্ষণ শেষে হাতে লিখে সনদপত্র দিত। ওই সনদপত্রগুলি নট্রামস থেকে সরাসরি দেয়া হতনা। শুধুমাত্র যারা বগুড়ায় ভর্তি হত, তাদের নট্রামস থেকে সনদপত্র দেয়া হত। তবে আমার সনদপত্র সঠিক ও আমি কোন প্রতারণা করিনি। অত্র কলেজে যোগদান করে অদ্যাবধি বিধি মোতাবেক চাকুরী করে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করছি।

কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জালাল উদ্দিন মজুমদার জানান, কলেজের তৎকালিন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. গোলাম রব্বানী কতৃক সকল শিক্ষক কর্মচারীগণের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদপত্রের সঠিকতা যাচাইকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। বিষয়টি গভর্ণিং বডির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক জানান, আমি বিষয়টি জেনেছি। গভর্ণিং বডির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারীশ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আয়েশা সিদ্দীকা জানান, মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন জরুরী কাজে ব্যস্ত আছি। এরপর বিষয়টি নিয়ে গর্ভণিং বডির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তাদের রিপোর্ট পেলে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com