বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি এখন পর্যটক শূন্য

খবরের আলো :

 

 

হাবিবুর রহমান মাসুদ, স্টাফ রিপোটার : পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে পর্যটকদের ভ্রমনে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে পর্যটক শুন্য হয়ে পড়েছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভ’মি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। দীর্ঘ সৈকতের বেলাভূমে স্থানীয়দের ছাড়া কোন পর্যটকের পদচারনা না থাকায় সৈকত জুড়ে বিরাজ করছে শুনশান নিরবতা। পর্যটন স্পট গুলোও রয়েছে ফাঁকা। কোথাও নেই পর্যটকের কোলাহল। ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামায় পর্যটন নির্ভর কয়েক হাজার ব্যসায়ীসহ সাধারণ মানুষ হতাশা হয়ে পড়েছেন। ঘাতক ভাইরাস করোনা প্রতিরোধে সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কতার কারণে কুয়াকাটার এমন দৃশ্য বিরাজ করছে।
বুধবার (১৮মার্চ) থেকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কুয়াকাটায় সৈকতে পর্যটদের চলাচল নিষিদ্ধ করেছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ। করোনা ভাইরাস থেকে সাবধান থাকার জন্য আগত পর্যটকদের স্ব স্ব বাড়ি ফিরে যাওয়াার জন্য মাইকিং করে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। একই সঙ্গে সৈকতের সকল দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই পর্যটক শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। পর্যটকদের ভ্রমনে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় হোটেল-মোটেলসহ খাবার রেষ্টুরেন্টগুলো বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
কুয়াকাটা সী ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস‘র পরিচালক জনি আলমগীর জানান, ট্যুরিস্ট পুলিশের নির্দেশনার পর সকল ট্যুরিজাম অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোন পর্যটক না থাকায় ভ্রমন তরীগুলো ঘাটে বাঁধা রয়েছে। সন্ধ্যার পরে জনমানবহীন কুয়াকাটার রাস্তাঘাটে নামলে গা ছম ছম করে।
সমুদ্র বাড়ি রিসোর্ট’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, উপজেল প্রশাসনের নির্দশনার পর হোটেল’র রুম বুকিং বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হোটেলের কর্মচারীদের ছুটি দেয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, জেলা প্রশাসন বলেছে হোটেল-মোটেল থেকে দ্রæত পর্যটকদের চলে যেতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো পর্যটককে কুয়াকাটায় আবাসিক সুবিধা না দেওয়ার বিষয়েও জেলা প্রশাসনের নির্দেশ রয়েছে। এমন নির্দেশের বিষয়টি আমরা কুয়াকাটার শতাধিক আবাসিক হোটেলের মালিকদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি।
কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের সিনিয়র এএসপি জহিরুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী মাইকিং করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকায় এই উদ্যোগ নিয়েছে কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ। এছাড়া হোটেল মোটেল গুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হোটেলে কক্ষ বুকিং না রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মুনিবুর রহমান জানায়, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সতর্ক অবস্থা জারি করেছে। তার অংশ হিসেবে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কুয়াকাটায় মানুষের সমাগম হয়, সে কারনে ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের গন্তব্যে যেতে বাধ্য করছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com