রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

ফটোসেশনের দরকার কী,নেতা-নেত্রীরা কেন অভিনেতা-অভিনেত্রী হতে চান?

বুধবার, ২৯ এপ্রিল :অনেকে সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রী বিলি করে ছবি পোস্ট দিচ্ছেন। অনেকে আবার নিজের টাকায় নিজে রান্না করে খাদ্য সামগ্রী বিলি করার ছবি পোস্ট দিচ্ছেন। এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ সামগ্রীতে ‘‌প্রধানমন্ত্রীর উপহার’ না লিখে কিংবা না বলে নিজের নামে বিলি করাটা দোষের।

ফেসবুক এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের থেকেও বেশি অবাধ তথ্যপ্রবাহের বিচরণ ভূমি। যারা ছবি পোস্ট দিচ্ছেন না তাঁরাও অনেকেই অনেক বেশি মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করছেন। হয়তো দায়িত্বশীলতা থেকে, মানসিক উদারতা থেকে কিংবা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভে যে কোন কারণেই হোক প্রচারের প্রয়োজনীয়তা কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই বলে তাঁরা নীরবে দান করে যাচ্ছেন।

মহামারীর এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব সম্পন্ন সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষই চেষ্টা করছেন আশেপাশের অসহায় দরিদ্র জনগণের পাশে থাকার। শ্রমিক স্বল্পতায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের তরুণদের বললেন কৃষকদের পাশে যেয়ে সাহায্য করতে, তাঁরা স্বোৎসাহে ঝাঁপিয়ে পরে ধান ক্ষেতের কাঁদা-মাটি শরীরে মেখে ধান কেটে দিয়ে প্রশংসিত হলেন।

একজন তরুণ মন্ত্রীর বাড়ি যাওয়ার পথে মনে হল, ‘ধান ক্ষেতের কৃষকদের সাথে কাস্তে হাতে ছবি তুলি।’ উনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সাথে সাথেই দেশের সর্বস্তরের জনগণ, মন্ত্রী- এমপি, আমলা, এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বার পর্যন্ত একের দেখা দেখি অন্যরা জমির কাঁচা ধান কেটে, ফসল পায়ে মাড়িয়ে ফটো শুট করা শুরু করে দিলেন।

চোখে সানগ্লাস, পায়ে দামি সু, হাতে দামি হাতঘড়ি, সুন্দর পোশাক পরিচ্ছদ – তাতে কি ছবিতে সুন্দর চেহারা আসলেই হলো।

কৃষকের ধানক্ষেত আর সময় দুটোরই অপচয়। যারা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আছেন তাঁদের বৃথাই এই ফটো সেশনের দরকার নেই। তাঁরা মূলত ধানকাটার মেশিনের অভাব,বীজ ধানের মূল্য কমানো, সার, কীটনাশকের দাম কমানো, সেচের মটর ব্যবস্থা করে দেয়া, কৃষক যেন ধানের ন্যায্য মূল্য পায় এসবে ভূমিকা রাখলেই চলবে । ছাত্র লীগের তরুণ প্রাণের উদ্যমী ছেলেদের সাথে পাল্লা দেওয়ার দরকার নেই।

রাজনীতির কলিকাল চলছে যেখানে দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নেতা-নেত্রী হওয়ার স্বপ্নে তাঁদের রঙিন পর্দা ছেড়ে মিছিল-মিটিং, রাজনৈতিক ডিনারে বেশি আকর্ষণ বোধ করে বেশি সময় কাটায়, আর মিছিল-মিটিংয়ের নেতা-নেত্রীরা সব কিছু পাওয়ার পর এখন অভিনেতা-অভিনেত্রী হতে চান। (ফেসবুক স্ট্যাটাস)।লেখক: সম্পাদক, পূর্বপশ্চিম।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com