বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বড়াইগ্রামে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক নিহত উদাসীনতায় হিলিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ মাধবপুরে পানি চলাচলের নালার মুখে ইউপি সদস্যের বাঁধ নির্মাণ শতাধিক পরিবারের দুর্ভোগ মহামারী করোনা ও লকডাউনে মোটরসাইকেল ব্যবসা পরিস্থিতি দীর্ঘ ১২ বছর পর ইসরায়েলে নেতানিয়াহু যুগের অবসান, ক্ষমতায় নাফতালি বেনেট ঋণের অপব্যবহার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোরতা এবার হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছে ৬০ হাজার সৌদি নাগরিক এবার বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক রুহিয়ায় কৃষকের কার্ড দিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীদের ব‍্যবসা জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে তিনটি আসনের প্রার্থী নাম ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগ 

দোহারে পালামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনীকক্ষ ব্যাবহার করে চলছে প্রাইভেট বানিজ্য

খবরের আলো :

 

দোহার নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার উপজেলায় পালামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনীকক্ষ ব্যাবহার করে চলছে প্রাইভেট বানিজ্য। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের শ্রেনীর কাজ শুরু হবার পুর্বে সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত প্রায় একশতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলে এ প্রাইভেট বানিজ্য। কিš‘ এই বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গাছাড়া অব¯’ায় বিদ্যমান রয়েছেন। বর্তমান সরকার বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানের কথা চিন্তা করে, গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় রয়েছে বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যাবহার করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টার বানিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে পারবে না। কিন্ত সরকারি চাকরি করে সরকারি আইন ও নিষেধাঞ্জাকে কোনোক্রমেই তোয়াক্কা করছেন না দোহার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। তার মধ্যে অন্যতম এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পালামগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরেজমিনে গত বৃহঃবার সকাল ৮ঃ৩০ মিঃ এ গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের ২ টি শ্রেণীকক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মিরাজ হোসেন প্রায় একশতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে চালা”েছন তার প্রাইভেট বানিজ্য। বানিজ্যিক এ ব্যাবসা চলছে কয়েক বছর যাবত। তবুও কোনোরুপ পদক্ষেপ গ্রহন করেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে শ্রেণী কক্ষে নয় তার কাছে প্রাইভেট পড়লেই ভালো রেজাল্ট করবেন শিক্ষার্থীরা। নিজেরদের সন্তানের জন্য ভালো রেজাল্টের কথায় জিম্মি করে ক্লাসে নয় প্রাইভেট পড়িয়ে ভালো রেজাল্ট করার মতো ধোকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত অন্ধকারে ঠেলে দি”েছন শিক্ষক মোঃ মিরাজ। আর তাই ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপ¯ি’তি কমে তার প্রতিটি প্রাইভেট ক্লাসে প্রায় ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী উপ¯ি’ত থাকে। কিš‘ প্রাইভেট পড়েই বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায় বেশিরভাগ শিক্ষার্থী। প্রাইভেট পড়ানোর সময় নিজ সন্তানদের পাশেই বসে থাকে অভিভাবকেরা। সরকারি বেতনের পাশাপাশি দিব্যি প্রাইভেট পড়িয়ে মাসে হাতিয়ে নি”েছন লক্ষাধিক টাকা। আবার কোনো শিক্ষার্থী যদি কারো কাছে বিদ্যালয়ে প্রাইভেটের কথা বলে তাহলে তার বিরুদ্ধে রয়েছে শিক্ষক মিরাজের শাস্তির বিধান। বিদ্যালয়ে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০/১০০০ টাকা করে নেওয়া হয় টিউশন ফি। সকাল ৭ টা থেকে ৯ টা পর্যন্ত চলমান এ বানিজ্যে ১ ঘন্টা প্রাইভেট পড়ানো বাবদ প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ও ৭ থেকে ৯ টা পর্যন্ত মোট ২ ঘন্টা করে যে সকল শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো হয় তাদের কাছ থেকে ১০০০ টাকা করে টিউশন ফি নেওয়া হয়। প্রতিটি ক্লাসে রয়েছে প্রায় ৪৫-৫৫ জন করে শিক্ষার্থী। সরকারী ভাবে বিদ্যালয়ে প্রাইভেট নিষিদ্ধের আদেশ কে বৃদ্ধান্্গুলি দেখিয়ে শিক্ষক মিরাজ অবাধে চালা”েছন প্রাইভেট বানিজ্য। এই নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির এক ব্যাক্তি শিক্ষক মিরাজকে নিয়ে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকা অফিস ম্যানেজ করে সংবাদ প্রকাশ না করানোর জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি টিটু ভ‚ইয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি অল্প কিছুদিন যাবত ম্যানিজিং কমিটির সভাপতির দ্বায়িত্ব পেয়েছি। তাই বিদ্যালয়ের সকল বিষয় খুব শীঘ্রই বুঝে উঠা সম্ভব নয়। বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যাবহার করে প্রাইভেটের বানিজ্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সভাপতি টিটু ভ‚ইয়া বিষয়টি সম্বন্ধে জানেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, প্রাইভেটের বিষয় নিয়ে আমি গত বুধবার শিক্ষক মিরাজের সাথে কথা বলেছি। কথাপোকথনের সময় শিক্ষক মিরাজ টিটু ভ‚ইয়াকে জানান যে তিনি শুধুমাত্র ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়া”েছন। কিš‘ পড়ানো বাবদ কোনো অর্থ নেওয়া হয়না। আর তাই সামনে বোর্ড পরিক্ষার কথা ভেবে টিটু ভুইয়া তাকে আর কিছু বলেননি। উল্টো দিকে ৫ম শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০/১০০০ টাকা করে টিউশন ফি নেওয়া হয় বলে স্বীকারোক্তিদেন পঠিত শিক্ষার্থীারা। পরে সভাপতি টিটু ভুইয়াকে শিক্ষক মিরাজ হোসেন শুধু ৫ম শ্রেণীই নয় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনির অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরেকটি শ্রেণী কক্ষে প্রাইভেট পড়া”েছন, এই বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? উওরে টিটু ভ‚ইয়া বলেন, আমি এই বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করবো। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অখিল চন্দ্র সরকার বলেন, আমি অখিল চন্দ্র সরকার নিরামিষ ভোজী মানুষ। গত মাসের ২৫ তারিখে আমি এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব হাতে নিয়েছি। চলমান আজ অল্প কিছু দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ের সকল কাজ বুঝে উঠা সম্ভব নয়। তবে আজ থেকে বিদ্যালয়ে আর প্রাইভেট না পড়ানো হয় সেই দিকে আমি নজড় দেবো। আমার বিদ্যালয়কে নিয়ে জোড়ালো কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হিন্দোল বারী বলেন, গত দুই মাস আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার শিক্ষা অফিস কর্তৃক প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যাবহার করে প্রাইভেট পড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন আমার জানা মতে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট বানিজ্যের সাথে জরিত নেই। তবে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট বানিজ্যের সাথে জড়িতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com