সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

রাজধানী পল্লবীতে হলুদ সাংবাদিকতা ও রমরমা ব্যবসা

খবরের আলো :
কাজী ওবায়দুর রহমান
একটা সময় ছিল, যখন সাধারণ মানুষ ‘পত্রিকায় প্রকাশ হলে ধরে নিত, সংবাদপত্রে যা ছাপা হয়েছে,  তাহাই সত্য। তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতিসহ নানা রকমের অন্যায়-অপকর্ম করত তারা সতর্ক থাকত, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে যেন  পত্রিকায় প্রকাশ না হয়। এখনো এই মানসিকতার খুব বেশি পরিবর্তন ঘটেনি বলেই আমার বিশ্বাস।

একান্তই ছোট পরিসরে (১০০০ জন মানুষের মধ্যে) পরিচালিত এই জরিপে যদি দেশের বৃহত্তর চিত্রই প্রতিফলিত হয়ে থাকে, তবে পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য এটা একটা বড় দুঃসংবাদ। এর মানে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বেশ কমে গেছে। সংবাদপত্রগুলোতে যা ছাপা হচ্ছে, অধিকাংশ পাঠকই তা সত্য বলে বিশ্বাস করছে না। কিন্তু পাঠক-দর্শকদের আস্থাই সংবাদমাধ্যমের মৌলিক পুঁজি। সেটাই যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন আমরা কেন, কী উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা করছি ?

আমরা সত্য বলে যা প্রকাশ করছি, তারা যদি সেটাকে সত্য বলে বিশ্বাস না করে, তাহলে আমাদের এই কাজের অর্থ বা সার্থকতা কী?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ। জনগণ যা বিশ্বাস করে না, তা লেখার কোনো অর্থ হয় না। তবে কিছুটা হলেও স্বস্তির বিষয়, এখনো মানুষ কম হলেও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন গুলো ‘পুরোপুরি সত্য’ বলে বিশ্বাস করছে। ‘মোটামুটি সত্য। কিন্তু পাঠকদের এই দুটি অংশই বেশ ছোট, বড় অংশ মানে প্রতিবেদনের কোনো কোনো ঘটনার বিবরণ বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে ‘সন্দেহ’ তৈরি করে।

এরই ধারাবাহিকতায়  একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করনে  তার নিজের টাকায় কেনা  প্লট  নম্বর ১৫২/১৬  ব্লক বি, সেকশন ১২  মিরপুর পল্লবী , দীর্ঘ অনেক বছর যাবত বসত করে আসতেছেন, হঠাৎ আজ  দেখতে পান সুনামধন্য খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকা দৈনিক আমাদের সময়,উক্ত বাড়ি নিয়ে নিউজ আকারে দেখতে পান,সন্ত্রাসীরা দখল করেছেন বাড়িটি ।আমি পত্রিকার পাতায় দেখতে পেলাম সাংবাদিক ইউসুফ সোহেল এই নিউজটি  আমাদের সময় পত্রিকায় লিখেছেন।

 এরপর আমি আমাদের সময় পত্রিকার অফিসে  ফোন করি,তারা আমাকে  পরামর্শ দেন  আমি যেন   পি বি এক্স এ  ফোন করে  সাংবাদিক ইউসুফ সোহেলের  মোবাইল নম্বর নিয়ে কথা বলি ।  এরপর আমি সাংবাদিক ইউসুফ সোহেলের নম্বর সংগ্রহ করে  তাকে কল দেই , ফোন দিতেই জানতে পারি  ইউসুফ সোহেল আমার পূর্ব পরিচিত  এবং  সেও আমাকে আমার কণ্ঠ শুনে আমাকে চিনতে পারেন ।

 প্রশ্ন করলাম আমার মিরপুর পল্লবী হোল্ডিং ১৫২/১৬  ব্লক, বি, সেকশন ১২ ,আমি নিজে বসত করে আছি । তাহলে মিথ্যা নিউজ  কি করে প্রকাশ হলো,কিসের তত্ত্বের ভিত্তিতে আপনি নিউজ করলেন ?

 তিনি   মুঠোফোনে বলেন , এটা কি আপনার বাড়ি , আমি বলি হ্যাঁ ,এ বাড়ি আমার, আর আপনি তা ভালোভাবে জানেন  যেহুতু আপনি কিছুদিন আগে  আমার  এ বাড়িতে এসেছিলেন । একত্রে বসে নাস্তা করেছিলেন,তাহলে আপনার লেখা আমাদের সময়  পত্রিকায় মিথ্যা নিউজ   ছাপা হলো কি করে ?

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বললেন ভাই আমাকে ভুল তথ্য দেওয়া  হয়েছে !  আমি আপনার বাড়ির ভুল তথ্য নিউজ  প্রকাশ করাতে আমি  আমার পত্রিকায় দৈনিক আমাদের সময় তে প্রতিবাদ দিয়ে দিব।

 এই যদি হয়,আমাদের ভুল তথ্য, হলুদ সাংবাদিকদের  তথ্য  নিয়ে সংবাদ  লেখা হয়,  এর দায়ভার কে বহন করিবে ?

 বাংলাদেশের  প্রথম শ্রেণীর দৈনিক পত্রিকা  গুলোর মধ্যে আমাদের সময়  সুনামের  সাথে নিউজ পরিবেশন করে আসছে। এত বড়  ভুল মিথ্যা বানোয়াট খবর প্রকাশ – যাচাই-বাছাই না করে নিউজ করা হলে,বিব্রতকর পরিস্থিতি মধ্য দিয়ে সুনাম ক্ষুন্ন  হবে।

 তাই এই মহান  পেশা সাংবাদিকতা  ভাবমূর্তি    নিয়ে কেহ যেন প্রশ্ন না করিতে পারে  সেদিকে আমরা সজাগ দৃষ্টি রেখে প্রিন্ট মিডিয়ায় নিউজ পরিবেশন করিব।  এজন্যই আমাদের দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ২৫/১০/২০২০. ইং সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন ,নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছিলেন, নীতিহীন সাংবাদিকতা যেন না হয়।মানুষকে বিভ্রান্ত করে যে হলুদ সাংবাদিকতা সেটা যেন না থাকে।নীতিহীন সাংবাদিকতা কোনো দেশের কল্যাণ আনতে পারে না, বরং ক্ষতি করে।

 গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন, আরও বড় পরিসরে গবেষণা সমীক্ষা চালানো প্রয়োজন। এই ‘সন্দেহ’ দূর করার জন্য সাংবাদিক ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক কাজ করতে হবে। সেটা করতে হলে প্রথমেই জানার ও বোঝার চেষ্টা করতে হবে সংবাদমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস কমে যাচ্ছে কী কারণে ?

এ বিষয়ে ব্যাপক পরিসরে মতামত জরিপ করা উচিত। তবে সাধারণভাবেও কিছু সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করা যায়।

সংবাদমাধ্যমের আস্থা কমে যাওয়ার সমস্যা শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, এ সমস্যা বৈশ্বিক। সাম্প্রতিক কালে এ নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। এর একটা কারণ তথ্য ও খবর এবং এ দুইয়ের মতো করে পরিবেশিত, সঞ্চালিত, প্রচারিত, পুনঃপ্রচারিত গুজব বা ভুয়া খবরের প্রাচুর্য। শুধু গুজব বা শুধু ভুয়া খবরই যে বিশ্বাসযোগ্যতার সংকট তৈরি করেছে তা নয়, আংশিক সত্য খবর এবং ভিন্ন ভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একই ঘটনা বা একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন রকমের তথ্য-উপাত্ত-ভাষ্য প্রচারিত হওয়ার ফলেও একই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এই ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোর ভূমিকা বেশি ।তবে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দায়ও কম নয়। একশ্রেণির সংবাদমাধ্যমের কিছু কর্মীর মধ্যে চাঞ্চল্যকর খবর প্রচারে অতি উৎসাহ কাজ করে; অতি দ্রুত বা ‘সবার আগে’ সংবাদ পরিবেশনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সাংবাদিকেরা খবরের যথার্থতা ভালোভাবে যাচাই করার পেছনে সময় ব্যয় করতে চান না।

কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী নীতিনৈতিকতার বাইরে কিছু করলে, তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া ওই সংবাদপ্রতিষ্ঠানের কর্তব্য। কারণ, এই ধরনের সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকের অন্যায় আচরণ সংবাদপ্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, আস্থার সংকট সৃষ্টি করে। সাংবাদিকতা পেশারও মর্যাদাহানি ঘটে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com