শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম নওগাঁ কিশোরগঞ্জে বিএনপি পুলিশ সংঘর্ষ

চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে হেফাজত ইসলামের কয়েকজন কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে বিএনপির দুদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল। চট্টগ্রামে সোমবার বিকালে কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়। এছাড়া মঙ্গলবার নওগাঁ ও কিশোরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বরিশালে পুলিশের বাধার কারণে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। তবে বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ হয়েছে ময়মনসিংহের কয়েকটি স্থানে। যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনের সামনে সোমবার বিকালে সমাবেশ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় ৬ পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের ট্রাফিক বক্সে হামলা ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। তারা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। সংঘর্ষের সময় কাজীর দেউড়িসহ আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর পুলিশ বিএনপির দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতার করে। পরে নিজের মালিকানাধীন ট্রিটমেন্ট হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করা হয় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনকে।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছে। উভয় মামলায় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাহেদ, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচএম রাশেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম ও সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এতে শাহাদাতসহ নাসিমন ভবন থেকে আটক ১৫ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়াও পুলিশের ট্রাফিক বক্সে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে।’

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, ‘কেন্দ্র ঘোষিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে বিনা উসকানিতে নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ অতর্কিতভাবে হামলা চালায় ও লাঠিচার্জ করে। এতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান জানান, পুলিশ দেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা হঠাৎ হামলা চালায়। এতে ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনসহ ১৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, মিছিলে পুলিশের অতর্কিত হামলা ও নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার প্রমুখ ।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে পুলিশ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়ে অর্ধশত নেতাকর্মীকে যখম করেছে। ডা. শাহাদাত হোসেন একজন পেশাজীবী চিকিৎসক। বিনা কারণে চেম্বার থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।

নওগাঁ : নওগাঁয় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের কেডির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বিএনপির কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে।

জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, আমাদের মিছিলে বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

কিশোরগঞ্জ : কিশোরগঞ্জে বিএনপির প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ বাধা দিলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বিপুল পরিমাণ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় শহরের পুরান থানা ও একরামপুর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১২টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং ১৫/২০ জন আহত হন।

ময়মনসিংহ : পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহ নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। এদিন সকাল থেকেই দলীয় কার্যালয়ের প্রবেশ পথের চারদিকে পুলিশ অবস্থান নেয় এবং নগরীর নতুনবাজার, টাউনহলমোড়, গঙ্গাদাস গুহ রোড, স্টেশনরোডসহ কোথাও নেতাকর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি। পরে দুপুরে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু নেতাকর্মীদের নিয়ে স্টেশনরোড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিকে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের গ্রেফতার হওয়া ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও চার শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও পুলিশের কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে সোমবার রাতে এই মামলা দায়ের করা হয়।

বরিশাল : বরিশাল নগরীর সদর রোড দলীয় কার্যালয়ের সামনে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সমাবেশ শেষ বিক্ষোভ মিছিলের বের করে মহানগর বিএনপি। তবে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এ সময়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। তবে কাউকে আটক করেনি পুলিশ।

কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুক, অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ আকবর, সহ-সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন, মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল আহসান রতন, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ বাবলু প্রমুখ।

আর মঙ্গলবার সকালে অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি। এই সমাবেশে শেষে তারাও বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপি সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ছত্তার খান, হিজলা উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক গফফার তালুকদার, আগৈলঝাড়া বিএনপি সভাপতি সাহাবুদ্দিন লাল্টু, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলাম সুজন প্রমুখ।

দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ এবায়েদুল হক চানের সভাপতিত্বে এদিন সকালে নগরীতে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে বক্তব্য দেন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, কোতোয়ালি বিএনপি সহ-সভাপতি আলহাজ নুরুল আমিন, দফতর সম্পাদক আলহাজ মন্টু খান, জেলা মহিলা দল সভাপতি অধ্যাপিকা ফারজানা তিথি প্রমুখ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com