শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

পল্লবীর ইষ্টার্ণ হাউজিংয়ে নকশা বহির্ভূত ভবনের হিড়িক রাজউক নিশ্চুপ

খবরের আলো :

 

কাজী ওবায়দুর রহমান :

 

রাজধানীর পল্লবীতে ইষ্টার্ণ হাউজিং আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য নকশা বহির্ভূত ভবন। এসব ভবন রাজউকের চোখ ফাঁকি দিয়ে নকশা বহির্ভূত ভাবে নির্মাণ  কাজ চলছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরর কর্মকর্তাবৃন্দ এসব অবৈধ ভবন সম্পর্কে জেনেও কোনরকম ব্যবস্থা নেয় না।

 মাঝে মাঝে কয়েকটি ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নামেমাত্র নোটিশ প্রেরণ করে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া কিংবা ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও সেসব ভবন আগের মতই তাদের ভবনের নির্মানকাজ করে কিংবা উচ্ছেকৃত অংশ পুনরায় নির্মান করে বলে অভিযোগ উঠেছে । 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার একাধিক বাসিন্দা খবরের  আলো কে বলেন,”পাটোয়ারী প্রপার্টিজ লিমিটেড” নামে একটি ডেভলপার কোম্পানী পল্লবীর ইষ্টান হাউজিংয়ে অসংখ্য অবৈধ নকশা বহির্ভূত  ভবন  নির্মাণ করেছে ।  সরোজমিনে  গিয়ে দেখা যায়,পাটোয়ারী প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় যাহার প্লট নম্বর : জি-১৯,  ৭০ফিট মেইন রোডে অবস্থিত এই ভবনটিও নকশাবহির্ভূত ভাবে নির্মাণ  করা হয়েছে।ওই ভবনে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন ।জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে ওই ভবনটির  নকশা বহির্ভূত থাকায় রাজউক  কর্তৃপক্ষ  একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে  উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  রাজউক  উচ্ছেদ কার্যক্রম করার আগে  ভবনটি যেমন ছিল তেমনি   পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে।এছাড়াও আরো কয়েকটি ভবনের নকশাবহির্ভূত নির্মাণ  কাজ করে যাচ্ছে ।এসব ভ্রমণ গুলোর মধ্যে রয়েছে প্লট নম্বর : ১৫  ব্লক,এফ  “মমতাজ ভিলা ” 

 

 

রাজউকের নিয়মানুযায়ী ভবনের সামনে রাজউক অনুমোদিত তথ্য সম্বলিত কোন সাইনবোর্ড ও শ্রমিক কিংবা জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সেফটিনেট নেই। যা থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ফলে ভবনটির নির্মানকাজ সম্পর্কে সঠিক তথ্য কেউ জানতে পারছে না এবং নির্মানের সময় শ্রমিক কিংবা জনসাধারনের যেকোনো সময়ে বড় ধরনের  দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এ ব্যাপারে ”পাটোয়ারী প্রপার্টিজ লিমিটেডের” ব্যবস্থাপনা পরিচালক বুলবুল পাটোয়ারীর  নিকট  ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ,এখানে চার তালার উপরে ভবন নির্মাণ করা রাজউকের অনুমতি নেই। কিন্তু ভাই কি করব এখানে অনেক বিল্ডিং এভাবেই ছয়তলা সাততালা করে  ভবন নির্মাণ করছেন। আমিও করেছি আপনি সময়  করে এক সময় আসিয়েন, চা খেয়ে যাবেন। 

সূত্র জানায়, ওই এলাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রাডার স্থাপিত হওয়ায় ভবন নির্মানে উচ্চতার সীমারেখা রয়েছে। সেজন্য রাজউক ওই এলাকায় চারতলার বেশি কোন ভবনের অনুমোদন দিতে পারে না। অনেক দিন আগে রাজউক কিছু ভবনের অনুমোদন ছয়তলা পর্যন্ত দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে একেবারেই দিচ্ছে না।

ওই এলাকার একজন কন্ট্রাক্টর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, ইষ্টার্ন হাউজিংয়ে চারতলার অনুমোদন নিয়ে ছয়তলা, সাড়ে ছয়তলা করেছে এরকম অসংখ্য ভবন আছে। যেসব ভবনের মালিকরা রাজউকের ইমারত পরিদর্শককে মোটা অংকের টাকা মাসোয়ারা দেয়। তাই তারা এসব ভবনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে চায় না। যদি কেউ কোন ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলে তখন তারা নেই নিচ্ছি করে কালক্ষেপন করে।

এর মধ্যে ভবনের  নির্মানকাজ শেষ হয়ে যায়। তখন তারাই ভবন মালিককে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরপর সেই মামলার দোহাই দিয়ে রাজউক কিংবা অন্য কোন সংস্থা সেই ভবনের বিরুদ্ধে আর কোন ব্যবস্থা নেয় না। রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ অনেক আছে।  

তিনি আরো বলেন, ইষ্টার্ন হাউজিংয়ের এইচ  ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ৬ নম্বর প্লটে একটি ভবনের নির্মানকাজ ইতোমধ্যে সাড়ে ছয়তলা পর্যন্ত সম্পুর্ন হয়েছে। ভবনটির নির্মান কাজের মাঝামাঝি সময়ে রাজউকের ইমারত পরিদর্শক মোঃ জিল্লুর রহমান একাধিকবার পরিদর্শন করেছে। শুরুর দিকে ভবনটির মালিকপক্ষ তার সাথে চরম খারাপ ব্যবহার করে। পরবর্তীতে বিষয়টি মিমাংসা হওয়ার পর ইমারত পরিদর্শক আর ওই ভবনটির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ভবনটির নির্মানকাজের দেখভালের দায়িত্বে আছেন রোকন নামের এক ব্যক্তি। তিনিই বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। শোনা যায় বিষয়টি লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে মিমাংসা হয়েছে। এই ভবনের পার্শ্বে ৮ নম্বর প্লটে আরেকটি ভবন একইভাবে নির্মান করা হচ্ছে। যারা আগেই ইমারত পরিদর্শকের সাথে যোগাযোগ করেছে।  

ওই এলাকার এক ডেভেলপার কোম্পানীর মালিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, এই এলাকায় অসংখ্য ভবন আছে যেগুলোর অনুমোদন রয়েছে চারতলার কিন্তু নির্মাণ করেছে ছয়তলা, সাততলা। সবাই রাজউকের ইমারত পরিদর্শক ও  কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকা দিয়েছে। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জে ব্লকের এনএস- ২ নম্বর রোডের ১১ নং প্লটের ভবনের মালিক আলী নূর, ছামছুল আলম, শাহানাজ বেগম ও হেলাল উদ্দিন,  এফ ব্লক ২ নম্বর রোডের ৪ নম্বর প্লটের মালিক মোঃ হায়দার আলী ও  মেইন রোডের ১০ ও ১৫ নম্বর ভবনের মালিক পাটোয়ারী প্রোপার্টিজ একইভাবে তাদের ভবন নির্মাণ করছেন। 

এসব ভবন মালিকরা বলেন, এত টাকা দিয়ে জমি কিনে চারতলা পর্যন্ত বাড়ি নির্মান করলে কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করব। ডেভেলপার কোম্পানীর মালিকরা বলেন, এভাবে চারতলা ভবন নির্মাণ করলে ব্যবসা করা যাবে না। রাজউকের নিয়মানুযায়ী ভবন নির্মান করে ব্যবসা করতে গেলে পথে বসতে হবে।

তাই আমরা বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের রাডার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া কিংবা আরো উচুতে বসানোর জন্য দাবী জানাচ্ছি।  এই ব্যপারে রাজউকের ৩/১ নং জোনের ভারপ্রাপ্ত অথরাইজড অফিসার ইঞ্জিনিয়ার মাকিদ এহসান বলেন, এসব ভবনের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com