বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

পেটে গজ রেখে সেলাই, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করার পাঁচ মাস পর অপারেশন করে গজ বের করার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ডিসির নির্দেশে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীরকে আহবায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামরুন নাহার ভূইয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মঞ্জুর রহমান ও উপজেলা প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নাল হোসেন।

বিকালে মুঠো ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বারের ইউএনও রাকিব হাসান। এর আগে গত বছরের ৫ নভেম্বর জেলার মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী দেবিদ্বার আল ইসলাম হসপিটালে ভর্তির পর তার সিজিরিয়ান অপারেশন করেন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. রোজিনা আক্তার ও তার সহযোগী ডা. শামীমা আক্তার লিন্টাসহ অন্যান্যরা।

৯ নভেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল থেকে ওই প্রসূতি বাড়ি ফেরার পর অপারেশনের ক্ষত স্থানে ব্যথা আরো বেড়ে গেলে তাকে ঢাকা ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। এক পর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি দেখে জেলার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করে পেট থেকে গজ বের করেন চিকিৎসক ডা. আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রকাশিত এ খবর ভাইরাল হয়ে পড়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী ওই নারীর বড় ভাই মো. রহুল আমিন জানান, আমার বোন এখনও ঝুকিমুক্ত হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন আরো ৫-৬ দিন সময় লাগবে তারপর বুঝা যাবে। এ ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীর জানান, তদন্ত কমিটির চিঠি এখনো হাতে পাইনি। এছাড়াও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পক্ষ থেকে পৃথক আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2018 Dailykhaboreralo.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com